সর্বশেষ সংবাদ

ইহুদীরা যেভাবে মুসলমানদের নামাজ রোজা নিয়ে ব্যবসা করছে

এশিয়ানবার্তা < এফ শাহজাহান > ইহুদী সাম্রাজ্যের নতুন আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে ইসলাম ধর্ম। পুঁজির ধান্ধায় মার্কেন্টাইল সোসাইটি এতদিন শুধু বাজারী নারীর রুপ যৌবন ফেরি করে বেড়াতো। এখন তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ধর্ম। সেটা আবার অন্যকোন ধর্ম নয়। শুধু ইসলাম ধর্ম। ইসলাম ধর্মকে পণ্য বানিয়ে এখন বাজারে ফেরি করছেন কর্পোরেট ফড়িয়ারা। সেই সঙ্গে বাজারী নারীর পাশাপাশি  এবার পবিত্রতার প্রতীক হিজাবী নারীদেরও পণ্য বানানো হচ্ছে । সম্ভ্রমের  পর্দাকে রুপান্তরিত করা হচ্ছে নারীর যৌন উগ্রতার ফ্যাশনে।

ইসলাম ধর্মের ফরজ ইবাদত নামাজ রোজাকেও এখন কর্পোরেট কালচারের মোড়কে বাজারজাত করা হচ্ছে। ইসলাম ধর্মের পবিত্র ইবাদত গুলোকে পণ্যের বিজ্ঞাপনের ফালতু বিষয় বানিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভুতিতে সুড়সুড়ি দেওয়ার জমজমাট ব্যবসা ফেঁদে বসেছেন ইহুদী নিয়ন্ত্রিত এসব কর্পোরেট ফড়িয়ারা।

পন্যের বিজ্ঞাপনে বাদ যাচ্ছে না আতর সুরমা আর নারীর হিজাবও। ইহুদী মার্কেটাররা পবিত্র ইসলাম ধর্মকেই একটা প্রোডাক্ট বানিয়ে ফেলেছে। আর সেই প্রোডাক্টের সবচেয়ে রমরমা মার্কেট হচ্ছে বাংলাদেশ।তারা বাংলাদেশে ইচ্ছামত ইসলাম ধর্মকে ম্যানুফ্যাক্সারিং করছেন।

প্রোডাক্ট, প্রাইস,প্লেস, প্রমোশন নিয়েই ব্যস্ত থাকার কথা ছিল কর্পোারেট বনিকদের। কিন্তু তারা ব্যাবসার সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম ধর্মকেও পুঁজি বানিয়ে ফেলেছে। তাদের পন্যের কাটতি বাড়ানো এবং ইসলাম ধর্মকে বিজ্ঞাপনী ধর্ম বানানোর মার্কেটিং মিশনে নেমেছে ইহুদী নিয়ন্ত্রিত এসব কর্পোারেট ফড়িয়ারা। সে কারনেই সানসিল্ক নারীর পর্দাকে পুঁজি করে ‘হিজাব ফ্রেস শ্যাম্পু’,লাইফবয়ের আতর প্রোটেক্ট সাবান এবং মোবাইল অপারেটর রবি’ নামাজ নিয়ে বিজ্ঞাপন বানাচ্ছে।

নামাজ,রোজা,আতর সুরমা আর নারীর পর্দা নিয়ে ব্যবসা

হিজাব ফ্রেস শ্যাম্পু,লাইফবয়ের আতর প্রোটেক্ট কিংবা মোবাইল অপারেটর রবি’র নামাজ নিয়ে এই মার্কেটিং সেগমেন্টেশন জমজমাট বাজার পেয়েছে বাংলাদেশে। সেইসঙ্গে ইসলাম ধর্মের পবিত্র অনুভুতি গুলোকেও পানসে করা হচ্ছে।

ব্যবসায় প্রশাসনের মার্কেটিং পলিসিতে ‘মার্কেট সেগমেন্টেশন’কে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভুতিকে রিলিজিয়াস সেগমেন্টেশন হিসেবে খুবই নিপুন ভাবে ব্যাবহার করছেন মার্কেটাররা।

চালাক আর ধূর্তের মধ্যে তফাৎ কী ?

চালাকরা সাধারনত এক ঢিলে দুই পাখি মারেন। আর ধূর্তরা এক ঢিলে তিন পাখি মারে। ধূর্তরাই পৃথিবীর সব ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রন করে। সে কারনে ইসলাম ধর্মকে কর্পোারেট কালচারে এনে এক ঢিলে তিন পাখি মারছেন মার্কেট প্রমোটররা।
১. বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের মধ্যে ১৯কোটিই মুসলমান। তাদের ধর্মীয় অনুভুতিতে সুড়সুড়ি দিতে পারলে ব্যবসার কাটতি বাড়বে। ফলে বিজ্ঞাপনে ধর্মের ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্যের কাটতি বাড়ানো সহজ হচ্ছে। বিজ্ঞাপনে ধর্মীয় অরনুভুতিকে নাড়া দেওয়ায় ধর্মপ্রাণ ক্রেতারা পন্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।

২.বিজ্ঞাপনের আড়ালে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করা হচ্ছে। নামাজ রোজার মত আধ্যাত্মিক ইবাদতগুলোকে মানুষ বিজ্ঞাপনের মতই ভাবছে।
৩. ইসলাম ধর্মকে বিজ্ঞাপন বানিয়ে প্রচার করায় মানুষের সেন্টিমেন্টে হিট করছে। এরফলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার মাধ্যমে আরেক দফা বিনামুল্যে পণ্যের প্রচার হচ্ছে।

পবিত্র নামাজ নিয়ে রবি’র ফাইজলামি

সম্প্রতি মোবাইল সিম অপারেটর রবির অনলাইনে একটি বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। মাত্র ২৬ সেকেন্ডের ক্লিপ। প্লে বাটনে চাপ দেয়া মাত্রই নামাজের ইকামাত শুরু হয়। কিছু মানুষ দৌড়িয়ে গিয়ে নায়ামজের জন্য কাতারবন্দি হন। একজন রিকশাওয়ালা আর জায়গা পান না। মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে থাকেন। সে মুহূর্তে অন্য একজন ইশারায় তার কাছে গিয়ে দাঁড়াতে বলেন। তিনিও হাসিমুখে সেখানে গিয়ে দাঁড়ান। এরপরই বিজ্ঞাপনী কণ্ঠ থেকে ভেসে আসার সাথে সাথে স্ক্রিনেও ভেসে ওঠে,Like your prayer there’s no difference in robi call rate..
অর্থাৎ আপনার নামাজের মতোই রবির কল রেটে কোন ভেদাভেদ নেই। সারাদেশে সারাক্ষণ এক রেট।
রবির কলরেটকে নামাজের সাথে তুলনা করে নামাজের মত একটি মৌলিক এবং ফরজ ইবাদতকে কীভাবে গুরুত্বহীন বিষয়ে পরিনত করা হয়েছে তা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে। এটা  স্পষ্টত ধর্মীয় অবমাননা।
এর আগেও রবি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিয়ে জানালার ময়লা পরিষ্কার করার বিজ্ঞাপন প্রচার করে আলোচনায় আসতে চেয়েছিল। পাবলিকের চাপে পড়ে সেই বিজ্ঞাপান তারা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সেটি এখন আর টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয় না।

হিজাব নিয়ে ইউনিলিভারের ফাইজলামি

ধর্মপ্রাণ পর্দানশীন নারীর শুদ্ধতা এবং পবিত্রতার প্রতীক হিজাবকে টার্গেট করেছে ইহুদীদের ইউনিলিভার কোম্পানী। এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা হিজাব পরিহিত এক নারীর সেলফি তোলার দৃশ্য সংযোজন করে এমন একটা বিজ্ঞাপন তৈরি করেছে, যে বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য হচ্ছে পর্দাকে নারীর উগ্র ফাশনে রুপান্তরিত করা। বাংলাদেশের পর্দা করা আর না করার মধ্যে যে বিতর্ক চলছে দীর্ঘদিন তাকেই উসকে দিচ্ছে। সেইসঙ্গে মেসেজ দিচ্ছে যে পর্দানশীন নারীরাও এভাবে পোজ দিয়ে সেলফি তুলে বেড়াবে আর সানসিল্ক শ্যাম্পু ব্যাবহার করবে।এই বিজ্ঞাপনে আরেক হিজাবী নারীকে কুংফু কারাতের ব্লাকবেল্ট পরিয়ে কুংফু কারাতের পোজে দেখানো হচ্ছে।তারা বুঝাতে চাচ্ছেন,হিজাব পরেও নারীরা কুংফু কারাতে করে বেড়াতে পারবে। এবং হিজাব পর্দা নয়,এট স্রেফ একটা ফ্যাশন হিসেবেই তারা বিজ্ঞাপনে তুলে ধরেছেন। হিজাবী নারীকে হিজাব পরেই উগ্র ফাশনে অভ্যস্ত করার চমৎকার ফন্দি এঁটেছেন তারা।

যে নারী পর্দা করে, সে থাকতে চায আলোচনার বাইরে। তিনি অবশই সেলফি তোলার মতো আলোচিত আচরণ করতে চাইবেন না, কিন্তু ইউনিলিভার বুঝে গেছে বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র ধর্মীয় অনুভূতির বিজনেস।

আতর নিয়ে লাইফবয়ের প্রতারণা

ইহুদী বহুজাতিক কোম্পানী ইউনিলাভার তাদের লাইফবয় সাবানে ঢুকিয়েছে আতর। ইবাদতের সঙ্গে আতরের একটা পবিত্র অনুসঙ্গ খুঁজে পায় মানুষ। লাইফবয় মানুষের সেই পবিত্র ইবাদতের অনুভুতিকে  বাথরুমে ঢুকানোর চেষ্টা করছে। তারা সস্তা পারফিউমকে মুল্যবান আতরের নামে চালিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষদের প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছে।

কোথায় আছে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ?

বাংলাদেশে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা বলে একটা জিনিস আছে। সেটা কোথায় আছে, কারো জানা নেই। সেই সম্প্রচার নীতিমালায় স্পষ্ট করে বলা আছে, ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেওয়ার মত কোন বিজ্ঞাপন তৈরি ও প্রচার করা নিষিদ্ধ। কেউ তৈরি করলে এবং প্রচার করলে সেই মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলা হয়েছে। অথচ  সেই সম্প্রচার নীতিমালার ধার ধারছে না এসব ইহুদী বণিকরা। সেটা দেখারও কেউ নেই।

নামাজ রোজা নিয়ে ফাইজলামি,আলেম সমাজের প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি বাংলাদেশের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ক্রেতা সাধারণের মনযোগ আকর্ষণ করার জন্য তাদের বিজ্ঞাপনে পবিত্র ইসলাম ধর্মের অবমাননার ব্যাপারটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে সচেতন মহলে। কেউ বলছেন, মুনাফা লাভের জন্য এভাবে ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে বিজ্ঞাপন নির্মাণ করা উচিত নয়। এতে ধর্মের প্রতি মানুষের যে শ্রদ্ধাবোধ বা আবেগ কাজ করে সেটা হালকা হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে রাজধানীর মালিবাগ মাদরাসার প্রিন্সিপাল শাইখুল হাদিস আল্লামা আশরাফ আলী বলেন, ‘ব্যবসায়িক পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়ার অধিকার সবার আছে। তবে সেখানে ধর্মীয় কোন বিষয়কে ফালতু ভাবে উপস্থাপনের কোনই সুযোগ থাকা উচিৎ নয়।
তিনি আরো বলেন, নিজের খেয়ালখুশি মত ইসলামকে ব্যবহার করে মুনাফা অর্জন অবশ্যই নিন্দনীয়। এবং এটি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অবাস্তব কিছু তুলে ধরে যারা বিজ্ঞাপন বানায়, তাদের সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ইসলামের অবমাননা করা হলে উলামায়ে কেরাম ঘরে বসে থাকবেনা।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মাহফুজুল হক বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যের বিজ্ঞাপন দুনিয়াবি সিস্টেমেই চালানো উচিত। সেখানে ধর্মকে বিশেষ করে ইসলামকে টেনে আনার কোন মানে হয়না। ক্রেতাদের প্রভাবিত করার জন্য যারা ধর্মকে ব্যবহার করার পথে হাঁটছে তারা অবশ্যই অন্যায় করছে।’

তিনি আরো জানান, বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের প্রতি আমাদের আহবান, আপনারা সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবসার প্রচারণা চালান। কিন্তু এর মাধ্যমে ধর্মীয় রীতিনীতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করলে পরিণাম শুভ হবেনা।”

ইসলামিক ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কবি মুহিব খান বলেন, ‘সাহিত্য-সংস্কৃতি, নাটক-সিনেমা এবং বিজ্ঞাপনে এমন কিছুর উপস্থাপন করা উচিত নয় যা আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক। এসব ক্ষেত্রে ধর্মের নামে যারা অধর্মের চর্চা করছে তাদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow