সর্বশেষ সংবাদ

রাজা-প্রজা সাধু-চোর, সবাই যখন গাঁজাখোর

 

এশিয়ানবার্তা ডেস্ক < এফ শাহজাহান >গাঁজার নৌকা শুধু পাহাড় দিয়েই যায় না। আমার আপনার ড্রইংরুমেও যাবে এবার।

মা বাবা ছেলে মেয়ে,রাজা-প্রজা,সাধু-চোর ; সবাই হবে গাঁজাখোর। সকাল দুপুর সন্ধ্যা-ভোর , রাজ্যময় নেশার ঘোর।

রংমহল থেকে নিজের ঘরদোর,সবখানেই থাকবে নেশার ঘোর।

যেভাবে সবাইকে গাঁজাখোর বানানো হবে

বিশ্বের প্রায় সবগুলো উন্নত দেশই এখন গাঁজা সেবন বৈধ করে দিচ্ছে। সেই সুযোগ নিচ্ছে কোকাকোলা। আর সেই সুযোগে কমল পানীয় কোকের সঙ্গে গাঁজা মিশিয়ে বাজাড়ে ছাড়লে তা মুসলিম দেশগুলোতেও সহজে ছড়িয়ে পড়বে।গাঁজা এবার কলকী ছেড়ে ঢুকছে সফট ড্রিংসের বোতলে ।এরফলে বাংলাদেশেও গাঁজার সয়লাব বয়ে যাবে। তখন বাংলাদেশের আলেম ওলামা থেকে শুরু করে চোর বদমাশ সবাইকে গাঁজাখোর বানানো একেবারে সহজ হবে ।

মদ গাঁজা গিলেন না বলে যারা গর্ব করে বেড়ান, তারাও গপাগপ গাঁজা খেয়ে লম্বা ঢেকুর ছাড়বেন।

যারা মদের পেয়ালা ঠেলে দিয়ে কোমল পানীয় গিলতে গিলতে গর্ব করে বলে বেড়ান যে,আমি নেশা করি না,তারাও দিব্বি গাঁজা গিলতে গিলতেই একথা বলবেন।

ছেলে খাবে, মেয়ে খাবে । মা বাবা, ভাইবোন খাবে। পাড়া প্রতিবেশি খাবে। যুবক খাবে, বৃদ্ধ খাবে। সবখানে গাঁজা আর গাঁজা। এবার গোটা পৃথিবী গাঁজাময় করে দিবে ইহুদীদের কোম্পানী কোকা কোলা।

রাজা প্রজা সবাই গাঁজা খাবে। গাঁজা খাওয়া ছাড়া উপায় নেই কারো। সেই ব্যবস্থাই করছে কোমল পানীয় কোম্পানী কোকাকোলা। অ্যালকোহলের পর এবার গাঁজা দিয়ে কোমল পানীয় বানানোর পরিকল্পনা করছে তারা ।

সোমবার একটি বিবৃতিতে কোকাকোলা একথা জানিয়েছে।

এখন আর লুকিয়ে  গাঁজা খেতে হবে না

বাংলাদেশে কোকাকোলার কোমল পাণীয়ের বিশাল বাজার রয়েছে। বাংলাদেশে কোক খুবই জনপ্রিয়। কথায় কথায় কোক না খেলে হয় না। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে ছেলে বুড়ো সবাই কোক খেতে পছন্দ করেন। কাজেই কোকের সঙ্গে গাঁজা মিশালে নির্ধিধায় সবাই গাঁজা সেবনের অবাধ সুযোগ পাবেন। সেই সুযোগটাই করে দিচ্ছে কোকাকোলা। এখন আর লুকিয়ে চাপিয়ে গাঁজা খেতে হবেনা।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই কোকাকোলার বিশাল জনপ্রিয়তা। আ সেই জনপ্রিয়তায় এবার যোগ হচ্ছে গাঁজার আসক্তি।

কোম্পানিটি জানিয়েছে তারা সিবিডির ক্রমাগত চাহিদাকে খুব কাছ থেকে নজরে রেখেছে।

সিবিডি একটি চিত্তপ্রভাবহীন উপদান। এই উপাদান গাঁজায় থাকে ।তাই তারা এখন থেকে কোকাকোলায় গাঁজা মেশাবে।

বিশ্বের পবিত্র ৭ গাছের তালিকায় গাঁজা !

বিশ্বে সবচেয়ে পবিত্র বলে মনে করা হয় এরকম সাতটি গাছের কথা জানিয়েছেন সঙ্গীত শিল্পী জাহ্নবী হ্যারিসন। যেখানে পদ্মফুল থেকে শুরু করে পুদিনাপাতা পর্যন্ত স্থান পেয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে গাঁজা গাছও রয়েছে এই তালিকায়।

বাইবেলেও গাঁজার গুনগান,খৃস্টানদের কাছে পবিত্র গাঁজা

রাস্তাফারি ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাছে গাঁজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা বিশ্বাস করে, বাইবেলে যে জীবনের গাছের কথা বলা হয়েছে, গাঁজা গাছ হচ্ছে সেই গাছ, এ কারণে এটি পবিত্র। যদিও গাঁজার অনেক নাম রয়েছে। তবে এই ধর্মের লোকজন এটিকে ‘পবিত্র ভেষজ’ বলে ডেকে থাকে।

যেমন বাইবেলের ২২:২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জাতিদের মুক্ত করার জন্যই এই ভেষজ’। তারা মনে করে, এই ভেষজ তাদের ঈশ্বরের কাছাকাছি নিয়ে যায় আর তাদের ভেতরের আধ্যাত্মিক শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। তাদের ভাষায় এই জ্ঞান উদ্ভিদ অনেক রীতিনীতির সঙ্গে গ্রহণ করা হয়। সিগারেট বা পাইপের ভেতর ঢুকিয়ে এর ধোয়া নেয়ার সময় নানা ধর্মীয় আচার পালন করা হয়।

হিন্দুদের কাছে গাঁজা পবিত্র এক চিজ

ভারতে গাঁজার ঐতিহ্য খুঁজে পাওয়া যাবে হাজার বছর আগে। হিন্দুদের পবিত্র  বেদ গ্রন্থেও এর কথা লেখা রয়েছে। বলা হয়, দেবতা শিব পাহাড়ে ধ্যানে বসতেন এবং গাঁজার ফুল খেয়ে বাঁচতেন। এখন গ্রামবাসীরা জীবিকা নির্বাহের জন্যে এর চাষ করেন।

১৯৬১ সালে ‘ইউএস সিঙ্গেল কনভেনশন অন নারকটিস ড্রাগস’ এ যেসব দেশ যোগ দেয়, তাদের মধ্যে ছিল ভারত। কিন্তু অনেকেই গাঁজাকে ‘না’ বলতে রাজি ছিলেন না। কারণ তা ধর্মের পবিত্রতায় জড়িত। তবে দীর্ঘ ২৪ বছর পর আইনের মাধ্যমে গাঁজাকে অবৈধ ঘোষণা করে ভারত ১৯৮৫ সালে।

ভারতের সাবেক নারকোটিকস কমিশনার রমেশ ভট্টাচার্য জানান, দেশটির ৬৪০টি জেলার মধ্যে ৪০০ জেলাতেই গাঁজার চাষ হয়। ১৯৮৫ সাল থেকে জাতিসংঘের নারকোটিকস বিষয়ক নীতিমালার দাস বনে রয়েছে ভারত। কিন্তু তা বন্ধ করা যায়নি। করা সম্ভবও না।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অর্ধেকের বেশি সেনা গাঁজা সেবন করে

ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা গাঁজা ব্যবহারের বৈধতা দিয়ে একটি আইন অনুমোদন দিয়েছে। ইসরাইলি সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, গেলো বছর সেনাবাহিনীর কমপক্ষে ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ সেনা গাঁজা খায়।

ইসরাইল অ্যান্টি-ড্রাগস অথরিটি (আইএডিএ) এক পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, গেলো নয় বছরে ইসরাইলি সেনাদের অবৈধ মাদক সেবনের পরিমাণ ব্যাপক মাত্রার বৃদ্ধি পেয়েছে।

যেখানে ২০০৯ সালে মাত্র ১১ শতাংশ ইসরাইলি সেনা অবৈধ মাদক সেবন করতো, সেটি ২০১৭ প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসরাইলি পত্রিকাটি বলছে, আগে গাঁজা সেবন সেনাবাহিনীতে একটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো।তবে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী অধিকতর নমনীয় নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানাচ্ছে পত্রিকাটি। এর ফলে ইসরাইলি সেনারা এখন চাইলেই অফ-ডিউটিতে থাকা অবস্থায় পাঁচবার পর্যন্ত গাঁজা সেবন করতে পারেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও গাঁজার পক্ষে ওকালতি করছে

একটি রিপোর্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মেডিক্যাল মারিজুয়ানা ক্যানাবিডিওল বা সিবিডি মোটেই ক্ষতিকারক নয়।দীর্ঘ দিন ধরেই সিবিডির কার্যকরিতা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিজ্ঞানীরা। অবশেষে এই সিদ্ধান্তে এসেছেন তারা।

গাঁজা ব্যবসার অংশীদার হলো মাইক্রোসফট

গাঁজা ব্যবসার সঙ্গে নিজের নাম জড়ালো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি খবরটি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কাইন্ড ফিনান্সিয়ালের সঙ্গে এক যোগে কাজ করতে যাচ্ছে মাইক্রোসফট। ওই প্রতিষ্ঠান বৈধ গাঁজা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাযুক্তিক সহায়তা দিয়ে থাকে।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলো গাঁজা সেবনের বৈধতা দিচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রে এখন মোট ৬টি অঙ্গরাজ্যে গাঁজা বৈধ করা হয়েছে। প্রতি ৫ জনের একজন আমেরিকান এখন বৈধভাবে গাঁজা কিনতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে আবারও ‘বিনোদনের অনুষঙ্গ হিসেবে’ গাঁজা (মারিজুয়ানা) সেবনের বৈধতা দেয়া হয়েছে। ২১ বছর কিংবা তদুর্দ্ধ বয়সের যেকোনও ব্যক্তি একসঙ্গে ২৮ গ্রাম গাঁজা নিজের সঙ্গে বহন করতে পারবেন। সেবনকারীরা চাইলে বাড়িতে ৬টি পর্যন্ত গাঁজার গাছ লাগাতে পারবেন।

তবে জনসমাগম হয় এমন প্রকাশ্য স্থানে, কোন স্কুলের ৩০০ মিটারের মধ্যে অথবা গাড়ি চালানোর সময় গাঁজা সেবন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় তরুণ সমাজ ও ভবিষ্যত প্রজন্ম নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্রের সচেতন নাগরিক সমাজ। খবর: ওয়াশিং পোস্ট’র

তবে বিরোধী পক্ষের মত, এ ঘোষণায় গাঁজায় আসক্তের সংখ্যা বেড়ে যাবে। অনেকেই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হবে। তরুণদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে

কোক বলেছে, ‘পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। সিবিডি সাধারণত চিকিৎসাকাজে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ, ব্যথা কমানো ও বমি বমি ভাব দুর করা।

কোকা-কোলা বলছে, গাঁজা সংশ্লিষ্ট পানীয়ের বাজার পর্যবেক্ষণ করছে তারা। কানাডাভিত্তিক বিএনএন ব্লুমবার্গ টিভি এ তথ্য জানিয়েছে।

চ্যানেলটির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় উৎপাদক ‘অরোরা ক্যানাবিস’ এর সঙ্গে গাঁজার স্বাদযুক্ত কোমল পানীয় উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা করছে কোকা-কোলা। তবে গ্রাহকদের মাদকাসক্ত করতে নয়, তাদের শারীরিক যন্ত্রণা লাঘবই পানীয় তৈরিকারীদের উদ্দেশ্য।

কোকাকোলা যে কারনে গাঁজায় আসক্ত হচ্ছে

সারা দুনিয়ায় দ্রুত গাঁজার জনপ্রিয়তা বাড়ছে হু হু করে। সবাই কমবেশি দ্রুত গাঁজার প্রতি আকৃষ্ঠ হচ্ছে। তাই কোকাকোলা গাঁজা মেশানো কোক বানাতে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

গাঁজা ব্যবসায়ীরা মনে করছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে গাঁজাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে শত শত কোটি ডলারের শিল্প গড়ে উঠবে। বৈধ ক্রেতাদের কাছ থেকে কর পাওয়া যাবে প্রতি বছরে ১০০ কোটি ডলার।

কোকা-কোলা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অনেক উৎপাদকের মতো আমরাও পর্যবেক্ষণ করছি যে, কোমল পানীয় তৈরির ক্ষেত্রে নন-সাইকোঅ্যাক্টিভ ক্যানাবিডিওল বা চিত্ত উত্তেজিত করে না এমন গাঁজাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার কতটা জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

ক্যানাবিডিওল ক্যানাবিস বা গাঁজার একটি উপাদান, যা প্রদাহ, ব্যথা বা খিঁচুনির চিকিৎসার ক্ষেত্রে আরামদায়ক হতে পারে ।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি রাজ্যের উদাহরণ অনুসরণ করে এ বছর সারাদেশে গাঁজার বিনোদনমূলক ব্যবহার আইনত বৈধ করতে যাচ্ছে কানাডা।

চিকিৎসা কাজে অবশ্য অনেক আগে থেকেই গাঁজা বৈধ ক্যানাডায়।

দ্রুত বিকশিত হচ্ছে গাঁজা শিল্প

যুক্তরাষ্ট্রের কালোবাজারে ৫১০ কোটি ডলারের গাঁজার ব্যবসা হয়ে থাকে- এবং এটা বৈধ করে দিলে ২০২১ সালের মধ্যে তা ৫৮০ কোটি ডলারের ব্যবসায় পরিণত হবে।

কোকা-কোলার এ সিদ্ধান্তের ফলে কানাডায় গড়ে উঠেছে বিশাল আকারের গাঁজা শিল্প। এদিকে এ বছরের শুরুতে বিয়ার উৎপাদনকারী সংস্থা মোলসন কুরস ব্রুয়িং বলেছে, তারা হাইড্রোপোথেক্যারি সংযোজন করে গাঁজা নিষিক্ত পানীয় তৈরি করবে।

ইতোমধ্যে বিশ্বখ্যাত করোনা বিয়ার তৈরিকারী সংস্থা কনস্টেলেশান ব্র্যান্ডস গাঁজা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ক্যানোপি গ্রোথের ওপর চার বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

কোকা-কোলা আর অরোরা’র অংশীদারিত্বের ফলে গাঁজার পানীয়ের বাজারে প্রথম নন-অ্যালকোহলিক পানীয় হিসেবে যাত্রা শুরু হবে কোক’এর।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এই ঘোষণা প্রকাশিত হওয়ার পর সোমবার কোকা-কোলার শেয়ারের মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

কেমন হবে এই পানীয়

তথ্যের উৎসের নাম প্রকাশ না করে বিএনএন ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, অরোরা’র সঙ্গে কোকা-কোলা’র আলোচনা অনেকদূর অগ্রসর হলেও চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি। সূত্রটি জানিয়েছে, এই পানীয়টি শুধু অবসাদই দূর করবে না, সতেজতা লাভেও সহায়তা করবে।

আলাদা এক বিবৃতিতে অরোরা জানিয়েছে, চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাবে না। তবে তারা বলেছে, গাঁজা নিষিক্ত পানীয়ের বাজারে প্রবেশ করার বিষয়ে অরোরা যথেষ্ট আগ্রহী।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow