সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন সেক্স মার্কেট: ঘরে ঘরে যৌনব্যাবসার নেটওয়ার্ক

এফ শাহজাহান < এশিয়ানবার্তা ডেস্ক > আমি আপনি যতই ভাল থাকতে চাই না কেন, আমার আপনার ভবিষ্যৎ বংশধরদের অবস্থা খুবই খারাপ। তারা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। হাতের মুঠোয় থাকা আদরের স্মার্টফোনের কল্যাণে কে কখন অপরাধ জগতের অন্ধকার গলিতে হারিয়ে যাবে, তার কোন নিশ্চয়তা নেই। কারন নেট দুনিয়ায় যৌনব্যবসার বিশাল ফাঁদ বিছানো রয়েছে। যেকোন সময় সেই ফাঁদে পড়ে যে কেউ তলিয়ে যেতে পারে অন্ধকারের অতল গহীনে।

আপনার পরিবারের সদস্যদের হাতে যদি স্মার্টফোন থাকে,তাহলে খোঁজ নিলে দেখবেন, পরিবারের সদস্যরা সময় দিচ্ছে সোসাল মিডিয়ায়। আর এই সোসাল মিডিয়া এখন মোটেই নিরাপদ নয় আমার আপনার সন্তান সন্ততির জন্য। কারন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা যৌনব্যবসায়ীরা সোসাল মিডিয়াকে ভর করে তাদের যৌন ব্যবসার বিস্তার ঘটাচ্ছে। এরফলে সোসাল মিডিয়ার আসক্তি থেকে বেশিরভাগই দেহ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। তারা আপনার সঙ্গে বসে থেকে গল্প করছে আর হাতের মুঠোর কারসাজিতে দেহ কেনাবেচার বাজারে দিব্যি কেনাকাটা করছে।

অনলাইনে যেভাবে যৌন ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ছে,তাতে আমার আপনার ঘর বাদ যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

অনলাইনে দেহ ব্যবসার নতুন মার্কেটনেম হচ্ছে ‍” ফ্রিল্যান্সিং পার্টনারশীপ “। বলা হচ্ছে, আপনি শিক্ষার্থী,গৃহিণী,বাব্যবসায়ী যাই হোন না কেন, শুধু আমাদের সদস্য হলেই ঘরে বসে শত শত ডলার আয় করতে পারবেন।

দেদারসে শুধু আয় ইনকাম বাড়বে তা নয়,ইচ্ছা করলে আপনি লাখ লাখ তরুণ তরুণীর যে কাউকে বিছানার সঙ্গী বানিয়ে লাইফ ইনজয় করতে পারবেন। যখন যাকে ইচ্ছা তাকেই ব্যবহার করার সুবর্ন সুযোগ একেবারে হাতের মুঠোয় এনে দিচ্ছে এই নেটওয়ার্ক।

লেখা পড়ার পাশাপাশি হাজার হাজার ডলার আয় করার এই হাতছানিতে পাগল হয়ে ঝুঁকে পড়ছে তরুন তরুনীরা। হাত ভরে আয় করো আর জীবনভর মাস্তি করো এমন প্রলোভনে পড়ে তারা অনলাইন দেহব্যবসার বাজারে ঢুকে পড়ছে।

একবার যুক্ত হলে আর বের হবার পথ নেই। আপপিন সদস্য হওয়ার পর বেঁকে বসবেন তো ধরা খাবেন। আপনার সবকিছু ফাঁস করে দিবে ওরা। কাজেই সামাজিক স্ট্যাটাস ঠিক রাখার জন্য আপনির আজীবন দেহবাব্যসার ফাঁদে াাটকে পড়বেন। এভাবেই চলবে আপনার বাঁকী জীবন।

অনলাইন ফ্রেন্ডশীপের অন্তরালে যখন কোন মেয়ে বন্ধুর ফাঁদে জড়াচ্ছেন তখন হয়তো আপনি সরল মনে স্রেফ প্রেম করেই যাচ্ছেন। যার সঙ্গে সম্পর্ক রাখছেন তাকে ভাবছেন আপনার সত্যিকারের প্রেমিকা। যখন তার খোঁজখবর নিতে যাচ্ছেন তখনো দেখছেন তার প্রোফাইলে দেওয়া সবকিছুই সঠিক। অতএব আপনি নিচ্ছিন্তি তারসঙ্গে প্রেম করে যাবেন। যখন আর সেখান থেকে বের হতে পারবেন না.তখন দেখবেন বাস্তবে আপনি একজন দেহব্যবসায়ীর প্রেমে পড়ছেন। তখন আপনি হয় মজনু না হয় দেবদাস হয়ে ঘুরবেন। একসময় নিজেও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়বেন মাদক আর দেহব্যবসার এই অনলাইন জগতে।

সোশ্যাল মিডিয়া অবশ্যই একটা মঞ্চ। কিন্তু সেই মঞ্চ কিভাবে ব্যবহার হবে সেটা নির্ভর করছে ব্যবহারকারীর উপর। অপরাধীরা সোশ্যাল মিডিয়াকেই কুকীর্তির জন্য বেছে নিচ্ছেন। দেশে এর জন্য অনেক আইন রয়েছে কিন্তু এই সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে পুরো চক্রকে ধরে ফেলা প্রায় অসম্ভব বলেই দাবি করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। সেই কারনেই দেহব্যবসা বেশ্যালয় থেকে সরে এসে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পাশাপাশি সেক্স র‍্যাকেট এখন তৈরি হচ্ছে ‘ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে’-ই। ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপে মিলছে তার প্রমাণ। টাকার লেনদেন হচ্ছে পেটিএমের মাধ্যমে।

‘পূজা আর’ নামে একটি ফেসবুক প্রোফাইল রয়েছে যেখানে হোয়াটস অ্যাপ নম্বর দিয়ে বলা হয়েছে তারা দেশের সমস্ত শহরে এসকর্ট পরিষেবা দিয়ে থাকেন। হোয়াটস অ্যাপে দেখা যাচ্ছে এই সংস্থা আদতে দিল্লির। সংস্থার নাম ‘পূজা ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব’। এই ক্লাবে ১৫০০ টাকা দিয়ে রেজিস্টার করা যায়। টাকার লেনদেন হবে ডিবিএস ব্যাংক মারফৎ। হোয়াটস অ্যাপে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, ‘যার যা ইচ্ছা, যেমন ইচ্ছা হবে, তেমন পরিষেবা তাঁরা পাবেন’। ফেসবুক প্রোফাইলে অবশ্য রাজ্যের নাম দেওয়া হয়েছে পঞ্জাব।

প্রীতি ঘোষ নামে এরকমই আরও একটি প্রোফাইল রয়েছে ফেসবুকে। সেখানেও একই পদ্ধতিতে চলছে দেহ ব্যবসা। প্রোফাইলের ছবিই বলে দেবে ঠিক কি জন্য এই প্রোফাইল খোলা হয়েছে। এই চক্রটি বোলপুরের। আরও এমন একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন ভাবে ফ্রেন্ড সাজেশন আসছে। সিন্ধা নামের অ্যাকাউন্টে ‘সেক্স ভিডিও চ্যাট’-এর জন্য আবেদন করা হয়েছে। খরচ ৮০০ টাকা। টাকা দিতে হবে পেটিএমের মাধ্যমে। অগ্রিম ৫০০ টাকা দিতে হবে।

আইটি বিশেষজ্ঞ বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এখন ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপই দেহ ব্যবসার বা সেক্স রকেটের প্রধান মাধ্যম হয়ে গিয়েছে। আমাদের দেশে এর জন্য ৬৭এ, ৬৭বি ধারায় শাস্তির ব্যবস্থা রেয়েছে। কিন্তু সমস্যা হল এই অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং এদের ধরা। আমাদের পুলিশ ডিপার্টমেন্টে যে সিস্টেম আছে তা দিয়ে এইসব চক্রের বংশ ধ্বংস করা বা ধরে ফেলা সম্ভব নয়। এটা এমনই একটা জগত যে একটা প্রোফাইল হ্যাক করলে অন্য স্থান থেকে অন্য প্রোফাইল বানিয়ে কাজ শুরু হয়ে যাবে। এদের জাল অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। ট্র্যাক করে ফেলা অত্যন্ত কঠিন।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “এর সঙ্গে এখন অনেক ট্যুরিজম সংস্থাও জড়িয়ে যাচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। এই ব্যবসাটা আবার বেশী চলছে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে।

বিশেষজ্ঞদের আরও সতর্কবানী, হাইটেক যুগে টেকস্যাভি হওয়া প্রয়োজন কিন্তু সেটা মাত্রাতিরিক্ত হলেই সমস্যা। কিভাবে কখন আপনি বা আপনার পরিবার এই চক্রের শিকার হয়ে পড়বে তা বোঝা মুশকিল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow