সর্বশেষ সংবাদ

মৌমাছি না থাকলে ৪ বছরেই ধ্বংস হয়ে যাবে পৃথিবী

ফকীর শাহ <এশিয়ানবার্তা ডেস্ক >যেখানে যা আছে, সব ঠিকঠাক থাকলেও কাজ হবে না। শুধু মৌমাছির অভাবে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। মৌমাছি না থাকলে মাত্র চার বছরেই ধ্বংস হয়ে যাবে সাধের এই পৃথিবী।

মৌমাছিকে আমরা সাদামাটা একটা মাছি মনে করলেও  মহান সৃষ্ঠিকর্তা আল্লাহ সুবহানুতায়ালা পবিত্র কুরআনে মৌমাছির গুনাগুন বর্ননা করেছেন। মৌমাছির নামে পবিত্র কুরআনের একটা সুরার নামকরণও আছে। সুরা আন নাহল পড়ে দেখতে পারেন। কুরআনের ষোলতম সূরা । এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ১২৮টি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন,পৃথিবীতে কোনো মৌমাছি না থাকলে মানব সভ্যতা টিকে থাকা অসম্বব হয়ে উঠবে।

মৌমাছি না থাকলে কেন পৃথিবী ধ্বংস হবে ?

মৌমাছি মৌমাছি / কোথা যাও নাচি নাচি / একবআর দাঁড়াও না ভাই । ঐ ফুল ফোটে বনে / যাই মধু আহরণে / দাঁড়াবার সময় তো নাই । ছোট বেলায় অনেকেই এই চমৎকার ছড়াটি মুখস্থ করেছি আমরা। তখন হয়তো কেউ বুঝিনি মৌমাছির দাঁড়াবার একটুও সময় নেই কেন ? তারা কী এতই ব্যস্ত ?

হ্যাঁ ,মৌমাছি খুবই ব্যস্ত প্রাণী। তারা আমাদের মত এতটা অলস নয়। আমাদের চেয়ে বহুগুন বেশি পরিশ্রমী তারা। আর তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনেই আমরা দুবেলা দুমুঠো খেয়ে পরে বেঁচে আছি। আনন্দ ফুর্তি করতে পারছি।

বিশ্বের ১’শ রকমের  ফল আর ৯০ ভাগ খাদ্য শস্যের পরাগায়ন হয় মৌমাছির সাহায্যে। মৌমাছি না থাকলে কমে যাবে ফসল কিংবা ফলের উৎপাদন। দেখা দেবে খাদ্য সংকট। অনহারে মরে যাবে মানব জাতি। ধ্বংস হয়ে যাবে পৃথিবী।

দ্রুত কমে যাচ্ছে মৌমাছি

পৃথিবী দ্রুত ধ্বংসের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে । কারণ ১ দশক আগেও বিশ্বজুড়ে যে  পরিমাণ মৌমাছি ছিলো, এখন আছে তার মাত্র দুই তৃতীয়াংশ।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি মার্কিন রিপোর্টে মৌমাছির বাসস্থান ধ্বংস হওয়ার যে তথ্য বেরিয়েছে, তা উদ্বেগজনক৷ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৫-র মার্চ থেকে এ বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৪৪ শতাংশের বেশি মৌচাক নষ্ট হয়ে গেছে। তার বাসিন্দাদের সংখ্যাও ক্রমশ কমে আসছে। এক ধরনের কীট মৌচাক নষ্ট করে ফেলছে। এই কীটকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলা যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে কীটনাশকের প্রয়োগেও মৌচাক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নর্থ ক্যারোলিনায় জিকা ভাইরাস বহনকারী মশা মারার জন্য যে ওষুধ ছড়ানো হয়, তাতেও ক্ষতি হয়েছে মৌচাকের।

বিজ্ঞানরা বলছেন পৃথিবী থেকে যদি মৌমাছি হারিয়ে যায়, তাহলে মানব সভ্যতা টিকবে মাত্র ৪ বছর। তার মানে মৌমাছি ছাড়া খুব বেশি টিকে থাকার সময় পাবে না মানুষ। কী হবে যদি সত্যি সত্যি মৌমাছি হারিয়ে যায়?

বিশ্বের ৯০ ভাগ মূল ফসলের পরাগায়ন হয় মৌমাছির মাধ্যমে। মৌমাছি যদি পরাগায়নে সাহায্য না করে তাহলে বাঁচবে না ফসল। মানুষের প্রতি ৩ লোকমা খাবারের মাধ্যে ১ লোকমাই আসে মৌমাছির কারণে। সারা বিশ্বের ৯০ ভাগ আর যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ ভাগ খাদ্য দ্রব্যের পেছনে রয়েছে মৌমাছির অবলম্বন।

মৌমাছির এক তৃতীয়াংশ বিলুপ্ত হয়েছে

আতংকের কথা হলো সারা পৃথিবীতে দ্রুত মৌমাছি  কমে যাচ্ছে। গত এক দশকে মৌমাছির এক তৃতীয়াংশ বিলুপ্ত হয়েছে। আর বিলুপ্তির পথে রয়েছে ইউরোপের ২৪ ভাগ মৌমাছি। কিন্তু প্রশ্ন হলো কেন বিলুপ্ত হচ্ছে মৌমাছি? এর অবশ্য বহু কারণ হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযুগ্য বিষয় হলো, কীটনাশন, খড়া, বাসস্থান হারানো, খাদ্যের অভাব, বায়ু দুষণ, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ আরো অনেক কারণ রয়েছে। এক কথায় সম্পূর্ণটাই হলো মানব সৃষ্ট কারণ।

বড় বড় কীটনাশক কোম্পানিগুলো, কীটনাশন ও আগাছা নিধনকারী ওষুধ বানাচ্ছে ফসলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে। যার মধ্যে রয়েছে নিওনিক্স , যা মৌমাছিদের মেরে ফেলে। অর্থাৎ কীটনাশকের হাত থেকে ফসলকে রক্ষা করতে নয় বরং ধ্বংশের পথে ঠেলে দিচ্ছে।

সব খতম করে দিচ্ছে কীট নাশক

সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিওনিক্স সমৃদ্ধ কীটনাশকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। মৌমাছির ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও কাজ করছে। কিন্তু ঐ একই উপাদান পাওয়া যাচ্ছে বাগানে ব্যবহৃত কীটনাশকেও। তাই কীটনাশক ক্রয় করার আগে এই উপাদান আছে কী না তা দেখে পরখ করে নিতে শতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।

এই কীটনাশকই সব শেষ করে দিচ্ছে । কীটনাশকের কারনেই জীববৈচিত্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। জীববৈচিত্র ঠিক না থাকলে মানবজাতিও ধ্বংস হয়ে যাবে। এখনই সতর্ক না হলে নিজের হাতেই নিজের সর্বনাশ ডেকে আনবে মানুষ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow