সর্বশেষ সংবাদ

এক টাকার সিঙ্গাড়ায় ব্যাপক সাড়া : ক্রেতার ভিড়ে দোকানী দিশেহারা

এফ শাহজাহান <এশিয়ানবার্তা ডেস্ক> সব ব্যবসারই কিছু ম্যাজিক সুত্র থাকে। সেই সুত্র ধরেই তরতর করে সাফল্যের শিখরে উঠে যায় সেই ব্যবসা। ১ টাকার সিঙ্গাড়াও তেমনি আপনার ব্যবসার একটি ম্যাজিক ফর্মুলা হতে পারে।

১টাকায় গরম মচমচে সিঙ্গাড়া । পাড়া প্রতিবেশির যেন নেশায় পরিনত হয়েছে। আর কিছু খাওয়া হোক না হোক ,১ টাকার সিঙ্গাড়া না খেলে মন ভরে না। ছেলে বুড়ো সবারই একই আবদার। বাড়িতে মেহমান আসলেও বায়না ধরেন সেই ১ টাকার সিঙ্গাড়া খাওয়ার জন্য।

আহ ! স্বাদ-মজায় মুড়মুড়ে মেজাজে ক্রেতারা কিনছেন আর খাচ্ছেন । লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন বহু মানুষ। সবাই ১ টাকার সিঙ্গাড়া খেতে চান। তবে শর্ত আছে। একসঙ্গে কেউ ১০টির বেশি কিনতে পারবেন না। কারন আর যারা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন,তারাও তো মজার সিঙ্গাড়া না খেয়ে ফিরবেন না।

মুহুর্তেই ৮ শ সিঙ্গাড়া উধাও। আরো চাই আরো চাই, করে হইচই শুরু হয়ে যায়। এ যেন এক ম্যাজিক ব্যবসা।
দুর্মূল্যের বাজারে যখন নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের তখন এই বাজারেও এক টাকয় সিঙাড়া বেচে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কলকাতার বেলঘরিয়ার মা কালী মিষ্টান্ন ভান্ডার৷

শুধু কলকাতায় নয়, ইচ্ছা থাকলে আমাদের বাংলাদেশেও এই এক টাকার সিঙ্গাড়ার ব্যবসা ব্যাপক সাড়া ফেলতে পারে।

নীলগঞ্জ রোডের উপর এই দোকানে প্রতিদিনই বিকেল চারটে থেকে শুরু হয়ে ‌যায় লম্বা লাইন।
বিকেল পাঁচটা-ছটায় দুবার এক কড়াই করে সিঙাড়া হয়৷ দু-বার নামার সঙ্গে সঙ্গেই উধাও হয়ে যায় চারশো-চারশো, মোট আটশো সিঙাড়া৷ তবে যত টাকা এবং যতক্ষণ সময় নিয়ে আপনি দাঁড়ান না কেন আপনার ভাগ্যে বরাদ্দ থাকবে মাত্র ১০টি সিঙাড়াই৷ এটাই দোকানের নিয়ম৷

প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো দোকান মা কালী মিষ্টান্ন ভান্ডার৷ আগে এখানে ২০ পয়সায় সিঙাড়া বিক্রি হত৷ বাড়তে বাড়তে তা অবশ্য থেমে গিয়েছে এক টাকাতেই। গত ছ’বছরে আর বাড়েনি।শুধু আকারে কিছুটা ছোট হয়েছে৷ স্থানীয়রা তো বটেই এক টাকার সিঙাড়া খেতে অন্য এলাকা থেকেও লোকজন আসেন এখানে৷

স্থানীয় ক্রেতা আশিস রায় বলেন, “আমি এই পাড়ায় বছর ছয়েক হল এসেছি৷ তবে থেকে এক টাকায় সিঙাড়া খাচ্ছি৷ সপ্তাহে তিনদিন তো খাই-ই৷ অনেকেরই মনে হতে পারে এক টাকায় সিঙাড়া দিচ্ছে সেটা কেমন হবে কে জানে? আমি হলফ করে বলতে পারি এতে কোনও গ্যাস-অম্বল কিচ্ছু হবে না৷”

স্থানীয় যুবক শুভদ্বীপের কথায়, “আমাদের পাড়ার গর্ব এই দোকান৷ এখানে কারোর বাড়িতে গেস্ট এলে এক টাকার সিঙাড়া খাওয়ানো হয়৷ ডিসেম্বর মাসে আমাদের পাড়ার মাঠে খেলা ছিল৷ আমার কাকা এখানে সিঙাড়া নিতে এসেছিল৷ সিঙাড়া ভাজা হচ্ছে দেখে খেলা দেখতে গিয়েছিল৷ পাঁচ মিনিটের পর এসে দেখে সব শেষ৷এখানে একবার লাইন থেকে বেরোলে আর সেদিন সিঙাড়া পাওয়া যাবে না৷ এখানে স্থানীয় লোকেদের থেকে বাইরের লোকেদের লাইন বেশি পড়ে৷ দমদম, সোদপুর, বারাকপুর থেকে সবাই আসে৷”

কিন্তু চড়া বাজারে কীভাবে দেন এক টাকায় সিঙাড়া? দোকান মালিক নিতাই পালের সহাস্য জবাব, এটাই এই দোকানের গুডউইল৷ কারিগরের সমস্যাই তাঁর প্রধান আক্ষেপ৷ মজার ব্যাপার এক টাকার এই সিঙাড়ার দোকান প্রচার চায় না৷ কারণ খদ্দেরের বিশাল চাহিদাই তাদের একমাত্র ভয়৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow