সর্বশেষ সংবাদ

রাজশাহীতে পূজামন্ডপে ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট’


মঈন উদ্দীন, রাজশাহী: রাজশাহীতে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার বাজনা বাজছে পুরোদমে। মন্ডপে মন্ডপে তিথির সাথে সাথে চলতে থাকে ঢাক-ঢোলের সুর তরঙ্গ ও পূজার আর্চনা। দশমী পূজার শেষে দেবী বিসর্জনের মধ্যমিয়ে ইতি টানে এই মহোৎসবের।এবারে রাজশাহী জেলায় ৪৫৭টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরমধ্যে মহানগরীর ১২টি থানার অধীনে প্রায় ৮০টি পূজামন্ডপে ঘটা করে উদ্যাপিত হচ্ছে এই মহাউৎসব। এবারেও পূজা মন্ডপে নতুনত্ব নগরীর রাণীবাজার মোড়ের টাইগার সংঘের মন্ডপ। কয়েক বছর থেকে নগরীর সবার কাছেই এই মন্ডপটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিবারই বিশেষ কিছু করার সুনাম রয়েছে এই মন্ডপের। এরআগে বাহুবলী, বাঘের বিশাল বড় মস্তক আকৃতির পূজা মন্ডপ তৈরী করে মন্ডপ ক্যাটাগরিতে জেলায় বিজয়ী হয়েছে। ফলে প্রতিবছরই নগরবাসী উৎসুক হয়ে থাকে নতুন কি নিয়ে আসছেন টাইগার সংঘের মন্ডপ সাজছে।

চমকটা যেন এবার একটু বেশিই বড়। পৃথিবী ছেড়ে একেবারে আকাশে। নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক রেলগেট কামারুজ্জামান চত্বর থেকে সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট। মাঝপথে পড়বে রাণীবাজার মোড়। এই মোড় অতিক্রম করতে গেলেই দেখা মিলবে চোখ ধাঁধানো এবং সমসাময়িক কৃতিত্বের আদলে গড়া এই মন্ডপটি। যারা টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দেখতে পারেননি, তাদের সেই অপূর্ণ ইচ্ছেটা হয়তো এখানে পূরণ হতে পারে। হ্যাঁ, বাঙালী জাতির অনণ্য অর্জন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর প্রতিচ্ছবিতে মন্ডপ।এখানে আপনার চোখে পড়বে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ সাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী স্পেস-এক্স এর রকেটটি। মনে হতে পারে রকেটটি প্রস্তুতি নিচ্ছে মহাকাশে উড্ডয়নের জন্য। সাদা রঙের সুবিশাল রকেটটি মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে জানান দিচ্ছে এ দেশের মহাকাশ জয়ের ইতিহাস।

রকেটটির গায়ে লেখা “বঙ্গবন্ধু-১”। তার সাথে রয়েছে বাঙালীর রক্তে অর্জিত লাল সবুজের পতাকা। রকেটটির নিচের দিকে লাল কাপড়ের কুচিগুলো রকেট থেকে নির্গত অগ্নি ধোঁয়ার স্মারক। পাশেই কালো কাপড়ের মহাকাশ দৃশ্য। আর এতে ভেসে রয়েছে সবুজ-ধূসর পৃথিবী। তার চারদিকে আবর্তমান বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট কিছুক্ষণের জন্য আপনাকে নিয়ে যাবে মহাকাশে। রাতের আলোকসজ্জায় মন্ডপটির সামনে দাঁড়িয়ে আপনি হয়তো কিছুক্ষনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন বিস্তৃত মহাকাশের হাজারো গ্রহ নক্ষত্রের জগৎ থেকে। হয়ে যেতে পারেন নাসার দুর্দান্ত মহাকাশচারী। নজর দেয়া যাক বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের দিকে। এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরীর প্রতিটি পূজাম-পের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি ম-পে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করছেন।

 

রাজশাহীতে এমপির সঙ্গে পুলিশ পেটানো মামলার আসামী!

 

মঈন উদ্দীন, রাজশাহী: রাজশাহীর কাটাখালি থানার খিদিরপুর মধ্যচর এলাকায় গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় মাদক বিরোধী অভিযান চালায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। অভিযানের এক পর্যায়ে ১১৬ বোতল ফেনসিডিলসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আক্কাস আলী ধরে ফেলে পুলিশ। এ সময় তার সহযোগিরা পুলিশের উপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে আক্কাস আলীকে ছিনিয়ে নেয়। মাদক ব্যবসায়ীর হামলায় অন্য পুলিশ সদস্যরা পালালেও পিটিয়ে জখম করে এএসআই মাহাবুব ও কনস্টেবল সুজনকে।

এ ঘটনায় নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মাহাবুব হাসান বাদি হয়ে পরের দিন কাটাখালি থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন {মামলা নং- ৩৯৭৪ (৫), ৩৯৭৫ (৫), ৩৯৭৬ (৫), তারিখ- ০৩/১০/১৮}। পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা, মাদক দ্রব্য এবং অস্ত্র আইনে তিনটি মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ্য করে ৯৩ জনকে আসামী করা হয়। মামলা তিনটি তদন্ত করছেন কাটাখালি থানার এসআই শামিদুল্যাহ।
তিনি জানান, এ মামলায় মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে নয়জন এজাহারভূক্ত ও চারজন সন্দেহভাজন আসামী। এছাড়াও মামলার ৩ নম্বর আসামী আলমগীর হোসেন আলো গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। অন্য আসামীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

এদিকে, এ তিনটি মামলার এজারভুক্ত অনেক আসামীকে প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও মনিরুল ইসলাম (৪০) নামে এক আসামীকে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন ও কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর সঙ্গে দেখা যায়। মনিরুল ইসলাম তিনটি মামলার ১৩ নম্বর আসামী।
গত ১৫ অক্টোবর সাংসদ আয়েন উদ্দিন ও মেয়র আব্বাস আলী কাটাখালি আদর্শ কলেজ, বালিকা বিদ্যালয় ও শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন পুলিশ পেটানো তিন মামলাসহ একাধিক মামলার আসামী মনিরুল ইসলাম। যার ছবি ফেসবুকে প্রচার হওয়ার প্রশ্নের সম্মুখিন হয়েছে সয়ং এমপি। মনিরুল ইসলাম নিজেও তার ফেসবুকে এ ছবি দিয়েছেন। ছবিতে এমপির ডান পাসে মনিরুলকে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু পুলিশের খাতায় তিনি পলাতক আসামী।

কাটাখালি থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, গত ২ অক্টোরব মধ্যচর এলাকায় পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামী রয়েছে মনিরুল। তাকেসহ এ মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন কেন্দ্র করে নাশকতা ও মির্জাপুর ফাঁড়ির এএসআই কামারুজ্জামান কামরুলের উপর হামলা চালিয়ে আসামী ছিনতাইসহ চারটি মামলার আসামী রয়েছে মনিরুল। সে সব মামলা এখন বিচারাধীন। ওই সব মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। এছাড়াও চলতি বছরের ২৯ মার্চ মনিরুলের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা হয়। সে মামলাতেও মনিরুল জামিনে আছেন।

এ সব মামলায় তার জামিনের আদেশ থানায় রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। ১৫ অক্টোবর কাটাখালিতে স্থানীয় এমপি ও মেয়রের সঙ্গে মনিরুলকে দেখা গেছে এবং সেখানে পুলিশও ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি নিবারন চন্দ্র বলেন, মনিরুল এমপির অনুষ্ঠানে ছিল কি না তা পুলিশের চোখে পড়েনি। চোখে পড়লে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হতো বলে জানান ওসি নিবারণ।এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এমপির একান্ত সহকারি ইকবাল হোসেন বলেন, স্যার পরে কথা বলবেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow