সর্বশেষ সংবাদ

বগুড়ার শেরপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরের গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা খানমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। এ বিষয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করছে ওই বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমটিরি সদস্য, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা খানম ২০১৮ সালে বিদ্যালয়ের নামে স্লিপের বরাদ্দের অর্থ ৪০ হাজার, টিউবওয়েল স্থাপনের ২০ হাজার, রেজিস্ট্রার্ড খাতাপত্র ক্রয় বাবদ ১০ হাজার ও উঠান বৈঠকের ৫ হাজার টাকা মিলে ৭৫ হাজার টাকার কোনপ্রকার কাজ করেই আত্মসাৎ করে। শুধু চলতি অর্থ বছরের অর্থ নয় বিগত ৩ বছর যথাক্রমে ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালের একই অর্থ ব্যয়ের হিসাব খাতাপত্রে দেখালেও কোন দৃশ্যমান নজির নেই ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ অন্যান্যদের কোন সাথে কোনপ্রকার পরামর্শ না করেই সে নিজেই মনগড়াভাবে আংশিক কাজ করে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এ ছাড়াও সরকারিভাবে প্রদেয় ১টি ল্যাপটপ, ১টি প্রজেক্টর থাকলেও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কোন কাজে আসছেনা। সেগুলো রাখা হয়েছে ওই প্রধান শিক্ষিকার স্বামীর ব্যক্তিগত বগুড়ায় একটি কোচিং সেন্টারে। অন্যদিকে প্রতিবছরের কনটিডেন্সি বিলের অর্থ, মা সমাবেশ ও উঠান বৈঠকের টাকা কোন কাজ না করেই নিজে আত্মসাৎ করে। এছাড়াও ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যোগদানকৃত নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরীর বসার টুল ক্রয় না করায় তাকে সর্বক্ষণ দাড়িয়ে থাকতে হয় এমনও অভিযোগও রয়েছে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যারা এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে হিসাব চাইলে তিনি তার ব্যক্তি গত ব্যাপার বলে নানা কৌশলে এড়িয়ে যায়। প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা খানমের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য আলম মিয়া, অভিভাবক সদস্য উৎপল চক্রবর্তীসহ প্রায় ১৩৫জন এলাকাবাসী স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেছেন।

এ ব্যাপারে ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা খানম বলেন, যথানিয়মে সব কাজগুলো করেছি, কোন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে আমি জড়িত নই।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত আলী সেখ অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা হয়েছে। প্রতিবেদনেই ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow