সর্বশেষ সংবাদ

নড়াইলে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন (সহ আরও ৪টি সংবাদ)


উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: কোনো সংবাদ বা বিজ্ঞপ্তি ব্যতিরেকে আকস্মিক পরিদর্শন করলেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ হাবিবুর রহমান। শনিবার (১৪ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৪টায় সপরিবারে নড়াইল পরির্দশনে আসেন তিনি। পরিদর্শনে এসে সর্বপ্রথম নড়াইল জেলা সার্কিট হাউজে তিনি নড়াইল জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সালামি গ্রহণ করেন। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে, এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জাহিদুল ইসলাম, পিপিএম, নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনসহ নড়াইল জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায়, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হিমেল মোল্যা, ক্লাবটির সকল সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। সালামি গ্রহণ শেষে তিনি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় তিনি নড়াইল সার্কিট হাউজ ও পুলিশ সুপারের বাসভবনের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত সরকারি বদ্ধ জলাশয়ে পুলিশ সুপারের মৎস্য প্রকল্প দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। গ্রীন নড়াইল, ক্লিন নড়াইল গড়তে পুলিশ সুপারের এমন মহতি উদ্যোগে তিনি পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদও জ্ঞাপন করেন। পরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে খবরাখবর নেন। বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে তিনি নড়াইল জেলার আইনশৃঙ্খলা অনেক উন্নত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করায় পুলিশ সুপারকে সাধুবাদও জানান। সেই সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা সখ্যতা গড়ে তুললে সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেন।

নড়াইলের শ্মশান কালী মন্দিরে চুরি

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: নড়াইলে একটি কালী মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। নড়াইল পৌরসভার কুড়িগ্রাম এলাকার শ্মশানঘাট কালী মন্দিরে এ চুরির ঘটনাটি ঘটেছে। শুক্রবার (১৩জুলাই) গভীর রাতে কে বা কারা এই ন্যাক্কারজনক কাজটি করেছে তা এখনও জানা সম্ভব হয়নি। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে, চোরেরা মন্দিরে রক্ষিত কাসার তৈজসপত্রসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। শনিবার (১৪জুলাই) সকালে পূজা দিতে গিয়ে লোকজন চুরির ব্যাপারটি টের পেয়ে পুলিশকে ঘটনাটি জানায়। খবর পেয়ে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম পিপিএম, পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মেহেদী হাসান, সহকারি পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার্স) মোঃ জালাল উদ্দিন, সহকারি পুলিশ সুপার (প্র.বি.) মোঃ ইশতিয়াক আহম্মেদ, নড়াইল জেলা বিশেষ শাখার ডিআইও-১ এস.এম. ইকবাল মাহমুদ, নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন, নড়াইল জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক কমল কান্তি পালসহ নড়াইল জেলায় কর্মরত পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যবৃন্দ। গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায়, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হিমেল মোল্যা, ক্লাবটির সকল সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। তিনি নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায় ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ হিমেল মোল্যার নিকট বলেন, মন্দিরে চুরি সত্যিই একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এ ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদেরকেই অচিরেই শনাক্তপূর্বক গ্রেফতার করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে নড়াইল পুলিশ সর্বোচ্চ অভিযান পরিচালনা করবে। এদিকে মন্দিরে চুরি হওয়ায় নড়াইলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করেছে। তবে পুলিশ সুপারের প্রতিশ্রুতিতে তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে।

নড়াইলে ডিবি ও থানা পুলিশের পৃথক মাদক, বিরোধী অভিযান: গ্রেফতার-৩৮

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: শুক্রবার থেকে শনিবার (১৪ জুলাই) সকাল পর্যন্ত সকাল পর্যন্ত অভিযানে মোট ৩৮জনকে গ্রেফতার করেছে মোট ১৪১ ইয়াবা, ৩০্রগ্রাম গাঁজা উদ্ধার। নড়াইল জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক কমল কান্তি পাল ও নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন, সাক্ষাৎকারে বলেন,ও নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি টিম পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে মোট চার ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে, এ সময় তাদের কাছ থেকে আলাদা আলাদাভাবে মোট ১০০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। শুক্রবার (১৪ জুলাই) গভীর রাতে এ সকল অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর থানার এএসআই মনির, আনিছ, রেজাউল ও ইলিয়াস অভিযান চালিয়ে নড়াইলের সদর উপজেলাধীন বাগডাঙ্গা এলাকা থেকে উজ্জ্বল সরদার (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে ২০ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত উজ্জ্বল ওই এলাকার বাসিন্দা। অপরদিকে নড়াইল জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ অভিযান চালিয়ে নড়াইলের চন্ডিবরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রমেশ বিশ্বাস (৩০) কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ৩০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ সদস্যরা। গ্রেফতারকৃত রমেশ ওই এলাকার সনাতন বিশ্বাসের ছেলে এবং ইয়াবা ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। নড়াইল জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অপর এক অভিযানে নড়াইলের সিংগিয়া বাজার থেকে ৫০ পিচ ইয়াবাসহ দুই মাদকব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো নড়াইলের কোমখালী এলাকার জাহিদুর রহমান (২৬) ও মাগুরা জেলার পুলুম এলাকার ফুলমিয়া (৪৮)। এ ব্যাপারে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায় ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ হিমেল মোল্যার নিকট একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরও যারা এ ব্যবসায়ের সাথে জড়িত তাদেরকে খুব কঠোর হস্তে দমন করা হবে। নড়াইল জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানের সফলতার কারণে জেলা থেকে প্রায় প্রতিদিনই মাদকসহ মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে। সেই সাথে মাদকব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতার জন্য নড়াইলবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন পুলিশ সুপার। অপর এক অভিযানে শুক্রবার থেকে শনিবার (১৪ জুলাই) সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক, জঙ্গিবাদ, নাশকতা ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে বিভিন্ন মামলায় মোট ৩৮জনকে গ্রেফতার করে, নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ জসিম উদ্দিন পিপিএম নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায়কে জানান, শুক্রবার থেকে শনিবার (১৪ জুলাই) সকাল পর্যন্ত সকাল পর্যন্ত অভিযানে মোট ৩৮জনকে গ্রেফতার করেছে মোট ১৪১ ইয়াবা, ৩০্রগ্রাম গাঁজা উদ্ধার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের নড়াইল জেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে

নড়াইলে পুলিশ সুপারের মৎস্য প্রকল্পে সংযোজিত হলো দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: নড়াইলের পুলিশ সুপারের নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত মৎস্য প্রকল্পে সংযোজিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা। আর এ সবই সম্ভব হয়েছে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম এর জন্য। পুলিশ সুপারের বাসভবন ও সার্কিট হাউজের সামনে সরকারি বদ্ধ জলাশয় পরিস্কার করে তাতে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর এবার নতুন পানির ফোয়ারার সংযোজনে নড়াইলবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছে। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে, শনিবার (১৪ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দৃষ্টিনন্দন এই ফোয়ারা দেখতে নড়াইলবাসীর উপচে পড়া ভিড়। এসময় দর্শনার্থীদের মধ্যে এক ব্যক্তি নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায় ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ হিমেল মোল্যাকে বলেন, সৃজনশীলতা আর আন্তরিকতা থাকলে আমাদের চারপাশের সবকিছুকেই নান্দনিক, সমৃদ্ধ ও স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব সেটাই আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন এস.পি. সাহেব। তার এ অনুকরণীয় দৃষ্টান্তকে অনুসরণ করে সকলেরই উচিত নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র, বাসস্থান, পরিবেশকে ভালোবেসে এরকম নৈসর্গিক করে তোলা। তাতে নিজেদের মনের খোরাক তো বটেই অর্থনৈতিক ভাবেও উন্নয়ন সম্ভব। এ ব্যাপারে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায় ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ হিমেল মোল্যার নিকট একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, গ্রীন নড়াইল, ক্লিন নড়াইল গড়তে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এরই ধারাবাহিকতায় মৎস্য প্রকল্পের পর দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারার উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি আমি নড়াইল পৌর মেয়রের সাথেও নড়াইল জেলার শ্রীবৃদ্ধির লক্ষে মতবিনিময় করেছি। তিনি আশা রাখেন খুব শীঘ্রই নড়াইলে একটি পরিচ্ছন্ন জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম পিপিএম, পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মেহেদী হাসান, সহকারি পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার্স) মোঃ জালাল উদ্দিন, সহকারি পুলিশ সুপার (প্র.বি.) মোঃ ইশতিয়াক আহম্মেদ, নড়াইল জেলা বিশেষ শাখার ডিআইও-১ এস.এম. ইকবাল মাহমুদ, নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন, নড়াইল জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক নড়াইল জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক কমল কান্তি পালসহ নড়াইল জেলায় কর্মরত পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যবৃন্দ। গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায়, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হিমেল মোল্যা, ক্লাবটির সকল সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রায় নড়াইলে মহোৎসব!

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: বলদেবের রথযাত্রা নড়াইলে মহোৎসব জগন্নাথদেবের শ্রীজগন্নাথদেব, সুভদ্রাদেবী এবং বলদেবের রথযাত্রা মহোৎসব প্রতি বছর জগন্নাথপুরীতে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয় জগন্নাথপুরীতে জগন্নাথদেব ভারতবর্ষের অতি প্রাচীন একটি মন্দিরে উপাসিত হন। জগন্নাথদেবের আবির্ভাবের চমকপ্রদ কাহিনী বৈদিক শাস্ত্রে লিপিবদ্ধ হয়েছে।শ্রীইন্দ্রদ্যুম্ন নামে সূর্যবংশীয় এক পরম বিষ্ণুভক্ত রাজা মালবদেশের অবন্তী নগরীতে রাজত্ব করতেন। তিনি ভগবানের সাক্ষাৎ লাভ করবার জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল হয়েছিলেন। ভগবানের প্রেরিত কোন এক বৈষ্ণব তখন শ্রীইন্দ্রদ্যুম্নের রাজসভায় উপস্থিত হয়ে কথাপ্রসঙ্গে নীলমাধবের কথা তাঁকে শোনালেন। রাজা এই সংবাদ পেয়ে বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন ব্রাহ্মণকে নীলমাধবের অনুসন্ধানে প্রেরণ করলেন। কিন্তু সকলেই বিফল মনোরথ হয়ে রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করলেন। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে, একমাত্র রাজপুরোহিত শ্রীবিদ্যাপতি বহুস্থান ভ্রমণ করতে করতে শবর নামক একটি অনার্যজাতির দেশে উপস্থিত হলেন। সেই শবরপল্লীতে উপনীত হয়ে তিনি বিশ্বাবসু নামক এক শবরের গৃহে আশ্রয় গ্রহণ করলেন। বিশ্বাবসু তখন বাড়ীতে ছিলেন না, কিন্তু তাঁর যুবতী কন্যা ললিতা একাকিনী সেখানে ছিলেন। কিছুক্ষণ পরে গৃহস্বামী শবর গৃহে প্রত্যাবর্তন করে সেই ব্রাহ্মণকে দেখতে পেলেন এবং তিনি তাঁর কন্যা ললিতাকে আদেশ দিলেন সেই ব্রাহ্মণ অতিথির সেবা করবার জন্য। বিদ্যাপতি কিছুদিন বিশ্বাবসুর গৃহে অবস্থান করলেন এবং তারপর সেই শবরের বিশেষ অনুরোধে তিনি তাঁর কন্যার পানিগ্রহণ করলেন। বিদ্যাপতি দেখতে পেলেন যে সেই শবর প্রতিদিন রাত্রে বাইরে চলে যান এবং তার পরদিন দুপুরবেলা গৃহে ফিরে আসেন, তখন শবরের শরীরে কর্পূর, কস্তুরী, চন্দন ইত্যাদির সুগন্ধ পাওয়া যায়। বিদ্যাপতি তাঁর পত্নী ললিতাকে তার কারণ জিজ্ঞাসা করলে ললিতাজানালেন যে তার পিতা প্রত্যেকদিন নীলমাধবের পূজা করতে যান।এতদিন পরে নীলমাধবের সন্ধানপেয়েবিদ্যাপতিরআনন্দেরসীমা রইল না। শবরের আদেশ লঙ্ঘন করেই ললিতা পতিকে নীলমাধবের কথা জানালেন। বিদ্যাপতি নীলমাধবের দর্শনপ্রাপ্তির জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। অবশেষে একদিন কন্যার বিশেষ প্রার্থনায় বিশ্বাবসু বিদ্যাপতির চোখ বেঁধে তাঁকে নীলমাধব দর্শনের জন্য নিয়ে গেলেন। বিশ্বাবসুর কন্যা স্বামীর বস্ত্রাঞ্চলে কতকগুলি সরিষা বেঁধে দিয়েছিলেন। বিদ্যাপতি পথে সেগুলি নিক্ষেপ করতে করতে চলতে লাগলেন। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে, খন বিদ্যাপতি নীলমাধবের সামনে উপস্থিত হলেন, তখন শবর বিদ্যাপতির চোখ খুলে দিলেন। বিদ্যাপতি নীলমাধবের অপূর্ব শ্রীবিগ্রহ দর্শণ করে আনন্দে নৃত্য ও স্তব করতে লাগলেন। এখানে স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে যে, শ্রীনীলমাধব হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান স্বয়ং, তিনি শ্রীবগ্রিহরূপে প্রকাশিত হয়েছেন। ভগবানের বিগ্রহরূপে অবতরণকে বলা হয় অর্চাবিগ্রহ। ভগবান তাঁর ভক্তদের প্রতি কৃপা করে শ্রীবিগ্রহরূপে প্রকাশিত হন। সর্বতোভাবে জড়কলুষ থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে,যেহেতু ভগবানের দর্শন লাভ করা যায় না, তাই ভগবান তাঁর শ্রীবিগ্রহরূপে প্রকাশিত হন যাতে আমরা তাঁকে দর্শন করতে পারি এবং তাঁর পূজা করতে পারি। শ্রীকৃষ্ণ ভগবদ্গীতায় বলেছেন মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদ্ যাজী মাং নমস্কুরু। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে,অর্থাৎ, সর্বক্ষণ আমার কথা চিন্তা কর, আমার ভক্ত হও, আমার পূজা কর এবং আমাকে নমস্কার কর। তাই ভক্তেরপূজা ও প্রণতি গ্রহণ করার জন্য ভগবান তাঁর অর্চাবিগ্রহরূপে প্রকাশিত হন। তিনি তাঁর ভক্তের কাছে নিজেকে সমর্পণ করেন, যাতে তাঁর প্রতি তাদের প্রীতি বর্ধিত হয় এবং তারা তাঁর সেবা করতে পারে। জড় জগতের বন্ধনে আবদ্ধ জীবদের উদ্ধার করার জন্য এটি পরমেশ্বর ভগবানের একটি বিশেষ কৃপা। এইভাবে বিদ্যাপতি শ্রীনীলমাধবের করুণা ব্যক্তিগতভাবে উপলব্ধি করতে পারলেন। শবর বিদ্যাপতিকে নীলমাধবের কাছে রেখে পূজার উপকরণ আহরণ করার জন্য বেরিয়ে গেলেন। সেই সময় ব্রাহ্মণ দেখলেন যে একটি ঘুমন্ত কাক নিকটস্থ একটি কুন্ডে পতিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণত্যাগ করল এবং চতুর্ভূজ মূর্তি ধারণ করে, অর্থাৎ সারূপ্য মুক্তি লাভ করে বৈকুন্ঠে গমণ করল। তা দেখে বিদ্যাপতিও সেই বৃক্ষে আরোহণ করে সেই কুন্ডে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বিসর্জন দিতে সঙ্কল্প করলেন। সেই সময় আকাশবাণী হল, “হে ব্রাহ্মণ, তুমি যে নীলমাধবের দর্শন পেয়েছে, তা র্সবপ্রথম ইন্দ্রদ্যুম্ন মহারাজকে জানাও।”শবর বনফুল ও কন্দফুল সংগ্রহ করে নিয়ে এসে আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে,শ্রীনীলমাধবের পূজা করতে আরম্ভ করলেন। তখন নীলমাধব সেই শবরকে বললেন, “আমি এতদিন তোমার প্রদত্ত বনফুল গ্রহণ করেছি, এখন আমার ভক্ত শ্রীইন্দ্রদ্যুম ্ন মহারাজের প্রদত্ত রাজসেবা গ্রহণের অভিলাষ হয়েছে। ”শ্রীনীলমাধবের সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন ভেবে শবর তাঁর জামাতা বিদ্যাপতিকে তাঁর গৃহে আবদ্ধ করে রাখলেন। তারপর তাঁর কন্যার বিনীত প্রার্থনায় তিনি সেই ব্রাহ্মণকে মুক্তি দিলেন। ব্রাহ্মণ তখন ইন্দ্রদ্যুম্ন মহারাজের কাছে উপস্থিত হয়ে শ্রীনীলমাধবকে আনবার জন্য অভিযান করলেন। বিদ্যাপতির নিক্ষিপ্ত সরিষা থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদগুলি তাঁদের পথ প্রদর্শণ করল, কিন্তু সেখানে গিয়ে মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন শ্রীনীলমাধবের বিগ্রহ না পেয়ে তাঁর সৈন্য- সামন্ত নিয়ে শবর-পল্লী অবরোধ করলেন এবং আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে,বিশ্বাবসুকে বন্দী করলেন। তখন রাজার প্রতি আকাশবাণী হল, “বিশ্বাবসুকে ছেড়ে দাও। নীলাদ্রির উপর তুমি একটি মন্দির নির্মান কর, সেখানে দারুব্রহ্মরূপে তুমি আমার দর্শন পাবে। নীলমাধব মূর্তিতে তুমি দর্শন পাবে না। ” মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন মন্দির নির্মান করবার জন্য বাউলমালা নামক স্থান থেকে প্রস্তর আনবার ব্যবস্থা করে সেখান থেকে নীলকন্দর পর্যন্ত একটি পথ নির্মান করলেন। ঐ পথে প্রস্তর আনয়ন করে শঙ্খনাভি মন্ডলে তিনি একটি মন্দির নির্মাণ করালেন এবং সেখানে রামকৃষ্ণপুর নামক একটি গ্রাম স্থাপন করালেন। সেই মন্দির মাটির নীচে ৬০ হাত ও মাটির উপর ১২০ হাত উঁচু করা হল। মন্দিরের উপর একটি কলস ও তার উপর একটি চক্র স্থাপিত হল এবং মন্দিরকে সুবর্ণমন্ডিত করা হল। ইন্দ্রদ্যুম্ন মহারাজ শ্রীব্রহ্মাকে দিয়ে সেই মন্দির প্রতিষ্ঠা করাবার অভিলাষ করে ব্রহ্মলোকে উপস্থিত হয়ে বহুকাল ধরে ব্রহ্মার অপেক্ষা করতে লাগলেন। সেই সময়ের মধ্যে ইন্দ্রদ্যুম্নের নির্মিত মন্দির সমুদ্রের বালুকার দ্বারা আবৃত হয়ে গেল। ইতিমধ্যে সুরদেব এবং তারপর গালমাধব নামক কয়েকজন রাজা সেখানে রাজত্ব করলেন। গালমাধব বালির নীচ থেকে সেই মন্দিরটি উদ্ধার করলেন। এদিকে ইন্দ্রদ্যুম্ন ব্রহ্মার কাছ থেকে তাঁর রাজ্যে প্রত্যাবর্তন করে সেই মন্দিরটি তাঁর নির্মিত বলে দাবী করায় গালমাধব তা মেনে নিতে অস্বীকার করলেন এবং সেই মন্দিরটি তিনি বানিয়েছেন বলে জানালেন। কিন্তু মন্দিরের নিকটবর্তী কল্পবটস্থিত ভূষন্ডি কাক–যিনি যুগযুগান্তর ধরে শ্রীরামনাম কীর্তন করতে করতে সেখানে সমস্ত ব্যাপার দর্শন করছিলেন, তিনি জানালেন যে ওই মন্দিরটি ইন্দ্রদ্যুম্ন মহারাজ নির্মাণ করেছেন এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে তা বালুকায় ঢাকা পড়ে গিয়েছিল, রাজা গালমাধব পরে তা উদ্ধার করেছেন। গালমাধব সত্যের অপলাপ করায় ইন্দ্রদ্যুম্ন সরোবরের পশ্চিমে শ্রীমন্দিরের বর্হিদেশে ব্রহ্মার নির্দেশে অবস্থান করলেন। মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন ব্রহ্মাকে এই পরম মুক্তিদায়ক ক্ষেত্রে ভগবানের মন্দির প্রতিষ্ঠা করবার জন্য প্রার্থনা জানালে ব্রহ্মা বললেন, “শ্রীভগবানের স্বরূপশক্তির দ্বারা প্রকাশিত এই শ্রীক্ষেত্র ও স্বপ্রকাশ শ্রীভগবানকে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষমতা আমার নেই। শ্রীজগন্নাথ ও তাঁর শ্রীধাম এই প্রপঞ্চে তাঁরই কৃপায় নিত্য বিরাজমান, তবে আমি এই মন্দিরের চূড়ায় একটি পতাকা বেঁধে দিচ্ছি। যারা দূর থেকে ওই পতাকা দর্শন করে দন্ডবৎ প্রণাম করবে তারা অনায়াসে মুক্তিলাভ করবে।”ইন্দ্রদ্যুম্ন মহারাজ নীলমাধবের দর্শন না পেয়ে অনশনব্রত অবলম্বনপূর্বক প্রাণত্যাগের সঙ্কল্প করেকুশশয্যায় শয়ন করলেন। তখন জগন্নাথদেব স্বপ্নে তাঁকে বললেন, “তুমি চিন্তা করো না, সমুদ্রের ‘বাঙ্কিমুহান’ নামক স্থানে দারুব্রহ্মরূপে ভাসতে ভাসতে আমি উপস্থিত হব।” রাজা সৈন্য সামন্তসহ সেখানে গিয়ে উপস্থিত হলেন এবং শঙ্খ- আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে,চক্র-গদা-পদাঙ্কিত শ্রীদারুব্রহ্ম দর্শন করলেন। রাজা বহু বলবান লোক, হাতি প্রভৃতি নিযুক্ত করেও সেই দারুব্রহ্মকে জল থেকে তুলতে পারলেন না। তখন শ্রীজগন্নাথদেব রাজাকে স্বপ্নে জানালেন,“আমার পূর্বসেবক বিশ্বাবসু, যে আমার শ্রীনীলমাধব স্বরূপের পূজা করত, তাকে এখানে আনো এবং একটি সুবর্ণ রথ দারুব্রহ্মের সম্মুখে স্থাপন কর।”রাজা সেই স্বপ্নাদেশ অনুসারে কাজ করতে আরম্ভ করলেন। শবরবিশ্বাবসু এসে শ্রীদারুব্রহ্মের একদিক এবং ব্রাহ্মণ বিদ্যাপতি অপরদিক ধারণ করলেন। তখন চতুর্দিকে সকলে হরিনাম-সংকীর্তন করতে লাগলেন। রাজা শ্রীদারুব্রহ্মের শীচরণ ধরে রথে আরোহণ করলে রাজা সতাঁকে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে এলেন। সেখানে শ্রীব্রহ্মা যজ্ঞ আরম্ভ করলেন, বিঘ্ন-বিনাশকারী শ্রীনৃসিংহদেব তখন যজ্ঞবেদিতে অবস্থান করেছিলেন। কথিত আছে যে যেখানে আজ মন্দির বর্তমান, সেইখানে যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মুক্তি-মন্ডপের সংলগ্ন পশ্চিমদিকে যে নৃসিংহদেব বিরাজমান আছেন, তিনি সেই আদি ‘নৃসিংহদেব।’ মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন সেই দারুব্রহ্মকে শ্রীমূতিরূপে প্রকট করবার জন্য বহু দক্ষ শিল্পীকে আহ্বান করলেন, কিন্তু তারা কেউই দারুব্রহ্ম স্পর্শই করতে পারল না, তাদের ,অস্ত্র-শস্ত্র সমস্তই খন্ড-বিখন্ড হয়ে গেল। অবশেষে স্বয়ং ভগবান ‘অনন্ত মহারাণা’ নামে আত্মপরিচয় প্রদান করে ,একটি বৃদ্ধ শিল্পীর ছদ্মবেশে সেখানে এসে উপস্থিত হয়ে একুশ দিনের মধ্যে দ্বাররুদ্ধ করে শ্রীবিগ্রহ প্রকটিত করবেন, এই প্রতিশ্রুতি দান করলেন। এদিকে যে সমস্ত কারিগর রাজার আহ্বানে সেখানে আগমণ করেছিল, সেই বৃদ্ধ সূত্রধরের উপদেশ অনুসারে রাজা তাদের দ্বারা তিনটি রথ প্রস্তুত করালেন। সেই বৃদ্ধ কারিগর দারুব্রহ্মকে শ্রীমন্দিরের ভিতরে নিয়ে আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে,গিয়ে দ্বাররুদ্ধ করে একাকী অবস্থান করবেন এবং একুশ দিনের পূর্বে কিছুতেই রাজা দ্বার উন্মোচন করতে পারবে না, এই প্রতিজ্ঞা করলেন। কিন্তু দু’সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পর কারিগরের অস্ত্র-শস্ত্রাদির কোন রকম শব্দ না পেয়ে রাজা অত্যন্ত উৎকন্ঠিত হয়ে ,পড়লেন। মন্ত্রীর নিষেধ সত্ত্বেও রাণীর পরামর্শ ,অনুসারে রাজা স্বহস্তে সেই মন্দিরের দ্বার উন্মুক্ত ,করলেন। সেখানে বৃদ্ধ কারিগরকে দেখতে পেলেন না, কেবল দেখলেন–দারুব্রহ্ম তিনটি শ্রীমূতিরূপে বিরাজ আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে,করছেন। তাঁদের সামনে গিয়ে তিনি দেখলেন শ্রীমূর্তির ,শ্রীহস্তের আঙ্গুলগুলি এবং শ্রীপাদপদ্ম প্রকাশিত হয়নি। বিচক্ষণ মন্ত্রী তাঁকে জানালেন, সেই বৃদ্ধ কারিগর আর কেউই নন, তিনি স্বয়ং জগন্নাথ। রাজা নিজের প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে নির্দিষ্ট সময়ের এক সপ্তাহ পূর্বেই শ্রীমন্দিরের দ্বার উন্মোচন করায় শ্রীজগন্নাথ নিজেকে এইভাবে প্রকটিত করেছেন। রাজা তখন নিজেকে অত্যন্ত অপরাধী মনে করে প্রাণত্যাগ করবার সঙ্কল্প করে কুশশয্যায় শয়ন করলেন। অর্ধরাত্রে শ্রীজগন্নাথদেব রাজাকে স্বপ্নে দর্শন দান করে বললেন, “আমি এইরূপে ‘শ্রীপুরুষোত্তম’ নামে শ্রীনীলাচলে নিত্য অধিষ্ঠিত আছি। এই প্রপঞ্চে আমি আমার শ্রীধামের সঙ্গে চব্বিশটি অর্চাবতার রূপে অবর্তীর্ণ হই। আমি প্রাকৃত হস্ত-পদ রহিত হলেও অপ্রাকৃত হস্ত-পদাদির দ্বারা ভক্তের প্রদত্ত সেবোপকরণ গ্রহণ করি এবং সমস্ত জগতের মঙ্গলের জন্য বিচরণ করি বেদের এই নিত্য প্রতিজ্ঞা রক্ষা করবার জন্য তুমি যে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেছ, সে সম্বন্ধে একটি লীলামাধুরী প্রকট করবার জন্য আমি এই মূর্তিতে প্রকটিত হয়েছি। পেমাঞ্জনচ্ছুরিত ভক্তিবিলোচনেন আমার মাধুর্য-রসলুব্ধ ভক্তরা আমাকে ‘শ্রীশ্যামসুন্দর মুরলীবদন’ রূপে দর্শণ করেন। আমার ঐশ্বর্যময়ী সেবায় যদি তোমার অভিলাষ হয় তা হলে তুমি স্বর্ণ বা রৌপ্যনির্মিত হস্ত-পদ আদির দ্বারা আমাকে কখনও কখনও ভূষিত করতে পার; কিন্তু সেই সঙ্গে এটাও জেনে রেখো যে আমার শ্রীঅঙ্গ যাবতীয় ভূষণের ভূষণ স্বরূপ।”রাজা স্বপ্নে শ্রীজগন্নাথদেবের এই বাণী শ্রবণ করে কৃতার্থ হলেন এবং প্রার্থনা জানালেন, “যে বৃদ্ধ কারিগর এই শ্রীমূর্তি প্রকট করেছেন তাঁর বংশধরেরা যেন যুগে যুগে জীবিত থেকে তিনটি রথ নির্মানকার্যে ব্যাপৃত থাকেন।” শ্রীজগন্নাথদেব ঈষৎ হাস্য করে বললেন, “তাই আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে,হবে।”তারপর শ্রীজগন্নাথদেব রাজাকে আরও বললেন, “যে বিশ্বাবসু নীলমাধবরূপী আমার সেবা করতেন, তার বংশধরেরা যুগে যুগে আমার ‘দয়িতা’–সেবক নামে পরিচিত থেকে সেবা করবে। বিদ্যাপতির ব্রাহ্মণপত্নীর গর্ভজাত বংশধরেরা আমার অর্চক হবে, আর বিদ্যাপতির শবরীর গর্ভজাত সন্তানেরা আমার ভোগ রন্ধন করবে। তারা ‘সুয়ার’ (সুপকার) নামে খ্যাত হবে।”মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন শ্রীজগন্নাথদেবকে বললেন, “আমাকে একটি বর দান করতে হবে। প্রতিদিন মাত্র এক প্রহর অর্থাৎ তিন ঘন্টা আপনার শ্রীমন্দিরের দ্বার রুদ্ধ থাকবে, আর জগৎবাসী সকলের দর্শনের জন্য অবশিষ্ট সময় আপনার শ্রীমন্দিরের দ্বার মুক্ত থাকবে। সারাদিন আপনার ভোজন চলবে আপনার হস্তপল্লব কখনও শুষ্ক হবে না।” শ্রীজগন্নাথদেব ‘তথাস্তু’ বলে সম্মত হলেন এবং বললেন, “এখন তোমার নিজের জন্য কিছু বর প্রার্থনা কর।” তখন রাজা বললেন, “যাতে কোন মানুষ আপনার শ্রীমন্দিরকে নিজ সম্পত্তি বলে দাবী করতে না পারে, সেজন্য আমি নির্বংশ হতে চাই–আমাকে সেই বর দান করুন।” শ্রীজগন্নাথদেব ‘তথাস্তু’ বলে রাজাকে এই বরও প্রদান করলেন।এইভাবে পরম করুণাময় শ্রীশ্রীজগন্নাথদেব, সুভদ্রাদেবী এবং বলদেব সমস্ত জীবের মঙ্গলের জন্য এই জড় জগতে আবির্ভূত হলেন। তাঁদের এই আবির্ভাবের ফলে জীবের কি কল্যাণ সাধিত হল? আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে,সেই কথা বৃহন্নারদীয় পুরাণে বর্ণনা করে বলা হয়েছে প্রতিমাং তত্রতাং দৃষ্টা স্বয়ং দেবেন নির্মিতম। অনায়াসেন বৈজান্তি ভবনং মে তত নরাঃ অর্থাৎ, পরমেশ্বর ভগবান নারায়ণ লক্ষ্মীদেবীকে বললেন, “পুরুষোত্তম-ক্ষেত্র নাম ধামে আমার স্বর্ণনির্মিত ‘কেশব-বিগ্রহ’ বিরাজমান। মানুষ যদি কেবল সেই শ্রীবিগ্রহ দর্শন করে, তাহলে তারা অনায়াসে আমার ধামে, আমার কাছে ফিরে আসতে পারে।”এইভাবে শ্রীজগন্নাথদেব সমস্ত জগৎ উদ্ধার করবার জন্য আবির্ভূত হয়েছেন। বিশেষ করে তিনি যখন সকলের চোখের সামনে রথে চড়ে যান, তখন তাঁর সেই রথারূঢ় অবস্থা দর্শণ করে জীব পুঞ্জীভূত পাপরাশি থেকে মুক্ত হতে পারে। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে,রথযাত্রা এবং সামাজিক ঐক্য: পুরীকে পুরুষত্তোম ক্ষেত্র বলা হয়। এখানকার রথ যাত্রায় দিন কোন ভেদাভেদ থাকে না। ধনী,দরিদ্র, উচু, নিচু, স্পৃশ্য, অস্পৃশ্য সবাই এক কাতারে ভগবানকে নিয়ে রাজ পথে নামে। আর আমাদের মনে করিয়ে দেয় ভগবান সবার এবং সবাইকে একত্রিত হতে। কারণ ভগবান সকলেরৱ, ভগবানে সবার সমান অধিকার । গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু সবাইকে নিয়ে কীর্তন করতে রথযাত্রায় অংশ নিতেন। তাছাড়া প্রভাষখন্ড থেকে জানা যায় যে পুরীতে অভক্তু থেকে বিগ্রহ দর্শন করা যাবে না। আগে প্রসাদ খেতে হবে পরে দেব বিগ্রহ দর্শন। এখন ও এ নিয়মচলে আসছে। পুরীকে শঙ্খক্ষেত্রও বলা হয় কারণ মানচিত্রে একে শঙ্খের মত দেখতে লাগে । নীলাচলে লবণাক্ত সমুদ্র-উপকূলে শ্রীপুরুষোত্তম ভগবান্ জগন্নাথ দারুব্রহ্মরূপে নিত্যবিরাজমান আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow