সর্বশেষ সংবাদ

২৫ মে হাসিনা-মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: থাকবেন মমতা

এশিয়ানবার্তা: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ মে ভারতের কলকাতায় যাচ্ছে দুদিনের সফরে। এদিনে শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ ভবন। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শান্তিনিকেতনের সমাবর্তনে উপস্থিত থাকবেন, শান্তিনিকেতনের উপাচার্য হিসেবে। এই সফরে দুই দেশের কোনো বিষয়ে সই-স্বাক্ষর না হলেও হাসিনা-মোদির বৈঠকটি হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্র গুলো বলছে, ডিসেম্বরে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। ফলে তিস্তার পানির ন্যায্যা হিস্যা এবং দুই দেশের মধ্যকার ঋণচুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ তাদের অবস্থান জানাবে। প্রতিবেশি দেশ এবং কূটনৈতিক রাজনীতির অংশ হিসেবে ভারতের কাছেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ন। আন্তজার্তিক বিভিন্ন ফোরামে ভারতের বাংলাদেশের সমর্থন কম গুরুত্বপূর্ন নয়। তাছাড়া আগামী বছর ভারতের জাতীয় নির্বাচন। সেক্ষেত্রে মোদি এবং পশ্চিম বঙ্গে মূখ্যমন্ত্রী মমতার জন্য বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ। কূটনীতিকরা বলছেন, শেখ হাসিনার ভারত সফর সরকার টু সরকার না হলেও এটি অনেক বেশি অর্থবহ হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৫শে মে কলকাতায় শেখ হাসিনা ও মোদির মধ্যে ‘গুরুত্বপূর্ণ বকেয়া দ্বিপক্ষীয়’ ইস্যু নিয়ে বৈঠক হবে। বৈঠকটির স্থান নির্বাচন করা হয়েছে বিশ্ব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য ঐতিহাসিক শান্তিনিকেতনে। বাংলাদেশের অর্থায়নে শান্তিনিকেতন চত্বরে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ ভবন। সেই ভবন উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী। ২৫শে মে সকালে শেখ হাসিনা পৌছাবেন এবং পরদিন সন্ধ্যায় কলকাতা ত্যাগ করবেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমও এই শেখ হাসিনার সফরকে অন্যভাবে দেখছে। দেশটির মিরেনিয়ান মপোটডট ইনের খবর অনুযায়ী শেখ হাসিনা-মোদি প্রস্তাবিত আকর্ষিক শীর্ষ বৈঠককে কেন্দ্র করে তিস্তাচুক্তি নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা আশাবাদী যে, নরেন্দ্র মোদি যে কলকাতায় দ্বিপক্ষীয় সভায় বসতে রাজি হয়েছেন, তাতেই একটা বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। সুতরাং তিন নেতা-নেত্রীর সম্ভাব্য যৌথ আলোকচিত্র শান্তিনিকেতনে শুধুই বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের খবর হিসেবে ছাপা হওয়ার মধ্যেই যে সীমিত থাকছে না, তা প্রকারান্তরে পরিষ্কার করেছে ভারতীয় ওয়েবসাইট মিলেনিয়ান পোস্ট।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সফরে কোনো চুক্তির সুযোগ নেই। তবে মোদির বাংলাদেশ সফর এবং শেখ হাসিনার ভারতে সফরের সময় যেসব চুক্তি হয়েছে সেগুলোর অগ্রগতি নিয়ে কথা হবে। তাছাড়া মোদি গত বছর বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালেই তিস্তা চুক্তি হবে। ধারণা করা হচ্ছে, তিস্তা চুক্তি হাসিনা-মোদি মমতার বৈঠকে প্রাধাণ্য পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow