সর্বশেষ সংবাদ

ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বোমা বানানো শেখাতে চেয়েছিলেন যে কিশোর

ফকীর শাহ < এশিয়ানবার্তা ডেস্ক > আগামীকাল ফাঁসিতে ঝুলে মরতে হবে তাকে। মাত্র ১৮ বছর বয়সের ভোলাভালা সেই কিশোরের দুনিয়াতে বেঁচে থাকার আজই শেষ দিন।

সেই কিশোরের কাছে জেল কর্তৃপক্ষ জানতে চাইলেন তার জীবনের শেষ ইচ্ছা কী ?

হাসিমুখে সেই কিশোর জবাব,অনুমতি দিলে অন্যদের বোমা বানানো শেখাতে চাই।

দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি যে বোমা বানানো শিখেছিলেন, ফাঁসি কার্যকরের আগে সেই বোমা বানানোটা অন্যদের শিখিয়ে যেতে চান। যাতে তারা দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াইটা চালিয়ে যেতে পারে।

আইনজীবীকে বলেছিলেন যে, তিনি বোমা বানাতে পারেন, অনুমতি পেলে ওটা সবাইকে শিখিয়ে যেতে চান ।

দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা সেই কিশোরের নাম ক্ষুদিরাম বসু। বয়স তার ১৮।

দু:সাহসী এই কিশোর চেয়েছিলেন বৃটিশ বেনিয়াদের খতম করে দেশকে স্বাধীন করতে। তাই বোমা বানানো শিখেছিলেন এই অল্প বয়সেই।

বড় লাটকে খতম করার জন্য বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ট্রেন। ভাগ্যক্রমে সেই বড় লাট বেঁচে গেলেও বোমা মারার অপরাধে বৃটিশ দখলদাররা ক্ষুদিরামের ফাঁসি দিয়েছিল।

ফাঁসির দড়িতে ঝুলানোর ঠিক আগ মুহুর্তে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি জল্লাদকে একটা প্রশ্ন করেছিলেন। যা শুনে জল্লাদ নির্বাক হয়ে ক্ষুদিরামের দিকে তাকিয়ে থেকেছেন। কোন জবাব দিতে পারে নি।

ফাঁসিতে ঝুলে পড়ার ঠিক আগ মুহুর্তে কী ছিল সেই প্রশ্ন ?

সেটা জানার আগে ক্ষুদিরামের আরো বিষ্ময়কর কিছু শেষ ইচ্ছার কথা জানলে আপনিও অবাক হবেন।

ফাঁসির দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেছে। শেষ সময়ে  ক্ষুদিরাম ম্যাৎসিনী, গ্যারিবল্ডি ও রবীন্দ্ররচনাবলী পড়তে চেয়েছিলেন।

ফাঁসির শেষ  দিনে আইনজীবী কালিদাসবাবুকে ক্ষুদিরাম বলেছিলেন , “রাজপুত নারীরা যেমন নির্ভয়ে আগুনে ঝাঁপ দিয়া জওহরব্রত উদযাপন করত , আমিও তেমন নির্ভয়ে প্রাণ দিব।

১১ আগস্ট তার ফাঁসি কার্যকরের দিন। ঠিক তার আগের দিন ১০ আগস্ট সে বলেছিল, “আগামীকাল আমি ফাঁসির আগে চতুর্ভুজার প্রসাদ খাইয়া বধ্যভূমিতে যাইতে চাই ।

জন্মদিন তবু এমন সুখের দিনেও ঘুরে ফিরে আসে তাঁর মৃত্যু কাহিনী। ফাঁসির মঞ্চে যথারীতি এক কথায় জহ্লাদকেও অবাক করে দিয়েছিলেন আঠেরোর বালক। তাঁর মৃত্যুবরণ দেখে হয়তো ভয় পেয়েছিলেন স্বয়ং যমরাজও। এমনই ছিলেন মেদিনীপুরের বিষ্ময় বালক ক্ষুদিরাম বসু।

জল্লাদকে কি এমন কথা বলেছিলেন ক্ষুদিরাম বসু? তাঁর ফাঁসির আগের মুহূর্তগুলিও অবাক করে দেওয়া। কথোপকথন এবং আচার ব্যবহারে একবারও মনে হয়নি ওঁকে মৃত্যু ভয় কোনও কথা রয়েছে। সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী ছিলেন ক্ষুদিরামের পক্ষে সওয়ালকারী তিন আইনজীবীর একজন। এদিক সেদিক বহু কথার পর তিনি ক্ষুদিরামকে জিজ্ঞাসা করেন “তুমি কি জান রংপুর হতে আমরা কয়েকজন উকিল তোমাকে বাঁচাতে এসেছি ? তুমি তো নিজেই আপন কৃতকর্ম স্বীকার করিয়াছ।”ক্ষুদিরামের উত্তর ছিল “কেন স্বীকার করব না ?”।

১১ আগস্ট, জেলের ভিতরে ডানদিকে একটু দূরে প্রায় ১৫ ফুট উঁচুতে ফাঁসির মঞ্চ। দুই দিকে দুই খুঁটি আর একটি মোটা লোহার রড যা আড়াআড়িভাবে যুক্ত তারই মাঝখানে বাঁধা মোটা একগাছি দড়ি ঝুলিয়া আছে। তার শেষ প্রান্তে একটি ফাঁস। এরপরেই ক্ষুদিরামকে নিয়ে আসে চারজন পুলিশ।

তথ্য বলছে, ক্ষুদিরামই হাঁটছিলেন আগে। যেন তিনিই সেপাইদের টেনে আনছেন। এরপর সে উপস্থিত আইনজীবীদের দিকে তাকিয়ে হাসে। এরপর ফাঁসির মঞ্চে উপস্থিত হলে তার হাত দু’টি পিছন দিকে এনে বেঁধে দেওয়া হয়। জল্লাদ তখন শেষ মুহূর্তের কাজ করছিল।

গলায় ফাঁসির দড়ি পড়ানো মাত্রই জল্লাদকে দামাল ছেলের প্রশ্ন “ফাঁসির দড়িতে মোম দেওয়া হয় কেন?”

এটাই তার শেষ কথা। এই প্রশ্নটাই চমকে দিয়েছিল জল্লাদকে।

এরপরের ঘটনা ইতিহাস। একটি সবুজ রঙের পাতলা টুপি দিয়ে গলা পর্যন্ত ঢেকে গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। ক্ষুদিরাম সোজা হয়ে দাঁড়িইয়ে ছিলেন। যেন শেষ মুহূর্তটিকে তিনি প্রাণভরে উপভোগ করছেন।

এরপর উডম্যান সাহেব ঘড়ি দেখে একটি রুমাল উড়িয়ে দেন। জল্লাদ মঞ্চের অন্য প্রান্তে হ্যান্ডেল টেনে দেয়। কেবল কয়েক সেকেন্ড ধরে উপরের দড়িটি নড়তে থাকে। তারপর সব স্থির। আধঘন্টা পর দুজন বাঙালি ডাক্তার এসে খাটিয়া ও নতুন বস্ত্র নিয়ে যায়। নিয়ম অনুসারে ফাঁসির পর গ্রীবার পশ্চাদদিক অস্ত্রপচার করে দেখা হয়, পড়বার পর মৃত্যু হয়েছে কিনা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow