সর্বশেষ সংবাদ

মুসলমানদের খতম করতে ইতিহাস পাল্টে ফেলা হচ্ছে

এফ শাহজাহান < এশিয়ানবার্তা ডেস্ক> ইতিহাস কখনো পাল্টে যায় না। তবে ইতিহাস পাল্টে ফেলা যায়। ইতিহাস হচ্ছে একটা জাতির শেকড়। কোন জাতিকে সমুলে বিনাশ করতে হলে প্রথমে সেই জাতির ইতিহাস মুছে ফেলতে হয় অথবা ইতিহাস পাল্টে দিতে হয়। তাই যুগে যুগে সভ্যতার সংঘাতে ইতিহাস ওলট পালট করা হয়েছে। এখনো হচ্ছে। তবে আজ পর্যন্ত ইতিহাসের রাতকে দিন এবং দিনকে রাত বানানোর ঘটনা কখনো ঘটেনি। একুশ শতকে এসে সেই অসম্ভব ঘটনাকেই সম্ভব করে ফেলছে ভারতে বিজেপি সরকার। তারা ভারতীয় মুসলমানদের ইতিহাসকে আমুল পাল্টে দিচ্ছে। মুসলমানদের বিজয়কে পরাজয় বানিয়ে নতুন ইতিহাস লেখা হচ্ছে। সেই নতুন ইতিহাস পড়নো হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমলমতি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পন্ডিতদের পর্যন্ত।

হিন্দুস্থান থেকে মুসলমানদের খতম করতেই এভাবে হিন্দুস্থানের মুসলমানদের ইতিহাস পাল্টে ফেলা হচ্ছে ।

হিন্দুস্থানে কোন মুসলমানের ঠাঁই নেই।একটা মুসলমানকেও ভারতে থাকতে দিতে চায় না উগ্র হিন্দু মৌলবাদী সরকার।সেজন্য সরকারীভাবেই সেখানে মুসলিম নিধন চালানো হচ্ছে বহু আগে থেকেই । হিন্দুস্থানে একটা মুসলমান থাকা তো দুরের কথা,সেখান থেকে মুসলমানদের  নাম নিশানা পর্যন্ত মুছে ফেলার বিশাল কর্মসুচী হাতে নিয়েছে মোদি সরকার।

হিন্দুস্থান থেকে মুসলমানদের সকল চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য ঐতিহাসিক সকল স্থানের নাম পাল্টানো হচ্ছে।মুসলমানদের পরিচয় বহন করে এমন নাম মুছে দিয়ে সেখানে হিন্দু দেব-দেবির নামকরণ করা হচ্ছে। বড় বড় শহর বন্দর এমনকি গোটা রাজ্যের নামও পাল্টে ফেলা হচ্ছে।

শুধু নাম পাল্টালেই তো মসুলমানদের ভারত ছাড়া করা যাবে না।এই জন্য এবার শুরু হয়েছে ইতিহাস পাল্টানোর কাজ।পাঠ্যবই থেকে শুরু করে ভারতের সকল ইতিহাস বইয়ের ইতিহাস নতুন করে লেখা হচ্ছে।ইতিহাসে যেখানে মুসলমানদের বিজয়ের কথা লেখা ছিল,সেটা পাল্টে ফেলে মুসলমানদের পরাজয়ের কথা লেখা হচ্ছে।

এভাবে নাম এবং ইতিহাস পাল্টটানোর পর শুরু হবে মানুষ পাল্টানোর কাজ। অর্থাৎ হিন্দুস্থানে থাকতে হলে হিন্দু হয়েই থাকতে হবে।নামাজ রোজা সবই করা যাবে,কিন্তু মুসলমান হয়ে থাকা যাবে না।

মুসলমানদের পরিচয় বদলে ফেলার সাম্প্রতিক প্রবণতার কিঞ্চিত তুলে ধরা হয়েছিল হিস্ট্রি নট স্টোরি সিরিজের প্রথম কিস্তিতে।এবার যৎসামান্য তুলে ধরা হচ্ছে মসুলমানদের ইতিহাস পাল্টে দেওয়ার সাম্প্রতিক প্রবণতার কিছু প্রামান্য ঘটনা।

বহদিন ধরেই ভারতের  সরকার ঐতিহাসিক বহু জায়গার নাম বদলে দিচ্ছে। এখনো বদলাচ্ছে আরও অনেক নাম।

নাম বদলের মাঝেই আবার শুরু হয়েছে ইতিহাস বদলের পালা।

প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা প্রামান্য ইতিহাস বলছে, হলদিঘাট যুদ্ধে সম্রাট আকবরের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মেবারের রাজপুত রাজা রানা প্রতাপ সিং। কিন্তু এখন মেবারের সরকারি পাঠ্যপুস্তকে ওই যুদ্ধে আকবরের পরাজয়ের কথা দেখা যাচ্ছে। তা দেখে অনেকে হতবাকও হচ্ছেন।জলজ্যান্ত ইতিহাসের বিজয়কে পরাজয় হিসেবে পাল্টে দেওয়া হচ্ছে।

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকার হিন্দুত্বের ধ্বজা ওড়ানোর জন্য পাল্টে দিচ্ছে ইতিহাসের চাকাও। মেবার অঞ্চলের উদয়পুরে মহারানা প্রতাপের নাম গুরুত্বপূর্ণ। এই উদয়পুর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে কুম্ভলগড় দুর্গ। এখানে মহারানা প্রতাপ সিংয়ের জন্ম। উচ্চতার দিক থেকে চীনের প্রাচীরের পর উচ্চতায় এই কুম্ভলগড় দুর্গের প্রাচীর। এখানে রয়েছে রাণা প্রতাপের বিশাল মূর্তি। এই মূর্তি দেখে রাজপুতদের শৌর্য বীর্যের বীরত্ব গাথা মনে পড়ে যায়।

বহমান ইতিহাস বলছে, প্রায় সাড়ে ৪০০ বছর আগে হলদিঘাটের যুদ্ধে মহারানা প্রতাপ সম্রাট আকবরের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। অথচ এক বছর আগে রাজস্থানের স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে এর উল্টোটা লেখা হয়েছে।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানানো হয়, ইতিহাসের পাতা থেকে মোগল সাম্রাজ্যের ইতিহাস লোপাট করা হয়েছে। এ ছাড়াও একাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বইয়ে কংগ্রেসকে ব্রিটিশদের লালিত সন্তান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে কালো টাকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোট বাতিল নিয়ে অর্থনীতির বইয়ে একটি অধ্যায়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস থেকে বিদেশি লেখকদের বই বাদ দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যের সিলেবাসে গীতাকে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ বা আরএসএসের পরামর্শে এসব করা হয়েছে।

সামনের লোকসভা নির্বাচনে হিন্দুত্বকে আরও বেশি করে প্রচারে রাখার জন্য মোদির দল বিজেপি ভারতের বিভিন্ন স্থানের ঐতিহাসিক নামগুলোকে মুছে আবার পূর্ব নামে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে।

ভারতে জনসংখ্যার দিক থেকে সব থেকে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশের বিজেপি দলীয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানের নাম বদলে দেওয়ার খেলায় মেতে উঠেছেন।

এই খেলার অংশ হিসাবে উত্তর প্রদেশের ঐতিহাসিক মোঘলসরাই স্টেশনের নাম বদল করে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশন রেখেছেন।

বদলে দেওয়া হয়েছে এলাহাবাদের নাম। রাখা হয়েছে প্রয়াগরাজ।

বদলে দেওয়া হচ্ছে ঐতিহাসিক ফৈজাবাদের নাম। রাখা হচ্ছে অযোধ্যা।

এবার বিজেপির নেতারা ঐতিহাসিক আগ্রার নাম বদলের নতুন দাবি তুলেছে। তাঁরা চান আগ্রার সাবেক নাম আগ্রাভনকে ফিরিয়ে আনতে।

বিজেপি তেলেঙ্গানা রাজ্যেও নাম বদলের চেষ্টা করছে। রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদের নাম ভাগ্যনগর করার জন্য দাবি তুলেছে তেলেঙ্গানার বিজেপির নেতারা।

সাবেক মুসলিম শাসকেরা এই ভাগ্যনগরের নাম বদলে রেখেছিলেন হায়দরাবাদ।

তেলেঙ্গানার বিজেপির শীর্ষ নেতা রাজা সিং হায়দরাবাদকে আগের নামে ফিরিয়ে আনার দাবি তুলেছে। এই রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন ৭ ডিসেম্বর। এখন ক্ষমতায় তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি বা টিআরএস। তাই বিজেপি ঘোষণা দিয়েছে তেলেঙ্গানা বিধানসভায় বিজেপি এবার জয়ী হলে এই রাজধানী হায়দরাবাদের নাম বদলিয়ে সাবেক নাম ভাগ্যনগর রাখা হবে।

রাজা সিং দাবি করেছেন, ষোড়শ শতাব্দীতে এই শহরের নাম ভাগ্যনগর থেকে হায়দরাবাদ রেখেছিল। তাই বিজেপি নেতৃত্ব চাইছে এ বছর তেলেঙ্গানা রাজ্যে ক্ষমতায় এলে তারা এই রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদের নাম বদলিয়ে ভাগ্যনগর রাখবে।

বিজেপি আরও বলেছে, শুধু হায়দরাবাদ নয়; সেকেন্দ্রবাদ এবং করিমনগরের মতো আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক শহরের নাম বদলিয়ে দেবেন তাঁরা।

এবার যোগীর পথ ধরে নাম বদলের খেলায় নেমেছে মোদির রাজ্য গুজরাটও। গুজরাটের পুরোনো রাজধানী আহমেদাবাদের নাম বদল করার উদ্যোগ নিয়েছে গুজরাটের বিজেপির নেতৃত্বাধীন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানির সরকার।

সুপ্রাচীন এই বাণিজ্যিক শহর আহমেদাবাদের নাম পাল্টে কর্ণাবতী রাখার উদ্যোগ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী নীতিন প্যাটেল। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের নাম শম্ভাজি নগর মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের নাম ভোজপাল এবং সিমলার নাম শ্যামলা করারও প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow