সর্বশেষ সংবাদ

আবার সাগরে ভাসবে নূহ নবীর কিশতি ,আপনিও চড়ে ঘুরে বেড়াতে পারবেন গোটা পৃথিবী

এফ শাহজাহান < এশিয়ানবার্তা ডেস্ক>সাড়ে নয়শ বছরের হায়াত পাওয়া প্রিয় নবী নূহ(আ:) এর কিশতি ভাসবে আপনার চোখের সামনে। হ্যাঁ, আবার সেই নূহ (আ:) এর ঐতিহাসিক কিশতি সাগর মহাসাগরে ভেসে বেড়াবে। সেই কিশতিতে থাকবে বিভিন্ন প্রানী আর মানুষও। ইচ্ছা করলে সেই কিশতিতে আপনিও চড়তে পারবেন।

শুধু চড়ে বসাই নয়,কিশতিতে চড়ে গোটা পৃথিবী দেখতে পারবেন ।

ভাবছেন, সেইটা তো শুধু কল্পনাতে সম্ভব।

না, শুধু কল্পনাতে নয়। এবার বাস্তবে তাই করার ব্যবস্থা করেছেন নেদারল্যান্ডের এক কাঠমিস্ত্রি। ২০১২ সালে এটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার পর্যটক জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন।

আল্লাহ সুবহানুওয়াতায়ালার প্রিয় নবী হযরত নূহ (আ:) এর কিশতি বা নৌকার কথা আমরা সবাই কমবেশি জানি। সেই ঐতিহাসিক কিশতি দেখতে কত বিশাল আর কেমন ছিল ?

হাজার হাজার বছর আগে আল্লাহর নির্দেশমত নুহ নবীর তৈরি সেই নৌকাটা একনজর দেখতে কার না মন চায় ?

সেজন্য যদি হাজার হাজার ডলার খরচ করতেও হয়, তবুও এমন কেউ নেই; যিনি নৌকাটা দেখতে চাইবেন না। শত কষ্ট স্বীকার হলে হলেও একনজর সেই নৌকা দেখার আঁকুতি সব মানুষের মনকেই ব্যাকুল করে তুলবে।

শুধু মসুলমানরাই নয়। পৃথিবীর সব ধর্মেই কমবেশি নুহ (আ:) এই কিশতির বিষয়ে উল্লেখ করা আছে। তাই পৃথিবীর সব ধর্মের কাছেই নুহ নবীর কিশতির গুরুত্ব কোন অংশে কম নয়। সব ধর্মের সব মানুষের কাছেই তাই মহা আকর্ষনের বস্ত সেই কিশতি।

আমরা ছোটবেলা থেকেই নুহ নবীর কিশতির একটা ধারণা নিয়ে বেড়ে উঠি। বহুল আকাংখিত সেই কিশতির ছবিটাও হয়তো আমরা কল্পনায় আঁকার চেষ্টা করি।

সেই কল্পনাকেই এবার বাস্তবে রুপ দিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের কাঠমিস্ত্রি জোহান হুইবার।

পবিত্র কুরআন আর বাইবেল পড়ে সেখানে নুহ নবীর কিশতির বর্ননা দেখে দেখে  নূহ নবীর সেই কিশতির অবিকল একটা প্রতিরুপ তৈরি করেছেন তিনি।

তাঁর শৈল্পিক হাতের ছোঁয়ায় বহু সাধনায় তৈরি করেছেন সেই কিশতির প্রতিরুপ। দুই হাজার ৫০০ টন ওজনের নৌকাটি পানিতেও ভাসানো হয়েছে।

নূহ (আ:) এর সংক্ষিপ্ত পরিচয়

হযরত নুহ আ. ছিলেন আদি পিতা হযরত আদম আ.-এর অষ্টম অথবা দশম অধঃস্তন পুরুষ। কুরআনেরন বিভিন্ন জায়গায় হযরত নুহ আ.-এর আখ্যান এবং তার সম্প্রদায়ের ঈমানদার ব্যক্তিদের মুক্তি পাওয়া ও অস্বীকারকারীদের প্লাবনের দ্বারা শাস্তি দেওয়ার বর্ণনা-কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

নূহ (আ:) এর কিশতি সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের বর্ননা

পবিত্র কুরআনের মোট ২৮টি সুরার ৮১টি আয়াতে এ সম্পর্কে আলোচনা এসেছে। তিনি সুদীর্ঘ ৯৫০ বছর দুনিয়ায় ছিলেন। এতো দীর্ঘ সময় ধরে তার জাতিকে তিনি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত দিলেও মাত্র ৮০ বা ৮১ জন সমান নারী-পুরুষ ঈমান এনেছিলেন।

ফলে বারবার সতর্ক করার পর আল্লাহ তাআলার নির্দেশে প্রলয়ঙ্করী ঝড় ও মহাপ্লাবনের হাত থেকে তৎকালীন ঈমানদার মানুষ ও জীবজন্তুকে বাঁচানোর জন্য হযরত নুহ আ. একটি বৃহৎ নৌকা তৈরি করেছিলেন।

নূহ (আ:) এর কিশতির আকার আয়তন

নুহ আ.-এর নৌকাটির দৈর্ঘ্য ১২শ’ গজ ও প্রস্থ ৬শ’ গজ ছিল। এছাড়াও এটি তিনতলা বিশিষ্ট ছিল।

ঐতিহাসিক সেই মহাপ্লাবনের পর পেরিয়েছে কালের পর কাল। অতিক্রম হয়েছে বছরের পর বছর। সেই নৌকার অস্তিত্ব কিংবা চিহ্ন এখন আর নেই। অবশ্য তুরস্কের একটি পাহাড়ে সেই নৌকা অবতরণের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবী করা হয়।

বিপুল সংখ্যক পর্যটক সেখানে ভিড়ও করেন প্রতিবছর। এছাড়া আমেরিকায় এই নৌকা নিয়ে একটি জাদুঘরও করা হয়েছে বলে জানা যায়।

আর এখন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের বরাতে জানা গেছে, নেদারল্যান্ডসের কাঠমিস্ত্রি জোহান হুইবার নুহ আ.-এর সে নৌকার (কল্পনাপ্রসূত) একটি প্রতিরূপ তৈরি করেছেন।

নূহ (আ:) এর কিশতির অনুরুপ নৌকাটি কত বড় ?

নৌকাটি ৪১০ ফুট লম্বা হওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেক তলা ৯৫ ফুট প্রশস্ত ও ৭৫ ফুট উচ্চতায় তিন তলা বিশিষ্ট। তৈরির পর দুই হাজার ৫০০ টনের নৌকাটি পানিতেও ভাসানো হয়েছে।

শিল্পী জেহান জানিয়েছেন, বাইবেলে বর্ণিত পরিমাণ মাফিক নিখুঁত ও পুঙ্খানোপুঙ্খভাবে তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে এটি। নবী নুহ আ.-এর সে নৌকার আদলে জোহানের নৌকাটিতেও কাঠের তৈরি বিভিন্ন প্রজতির প্রাণী রাখা হয়েছে।

নৌকাটির নির্মাণকাজে সর্বমোট খরচ পড়েছে ১.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে এটি রাখা হয়েছে।

কোথায় যাবে এই নৌকা ?

নৌকা তৈরির কাজ শুরুর করার পর থেকেই নির্মাণশিল্পী জোহান নৌকাটি সাগরে ভাসিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ইসরাইলে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা ও পরিকল্পনা করছেন।

কিন্তু তার ভাবনার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌকাটিতে কোনো ধরনের ইঞ্জিন না থাকা।
তরঙ্গ-বিক্ষুব্ধ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে বিভিন্ন উপায়-উপকরণ বেছে নেয়া হচ্ছে। তবে জোহান চাচ্ছেন বড় কোনো জাহাজ দিয়ে সাগরপথে টেনে নিয়ে যেতে।

সেক্ষেত্রে জোহানের প্রয়োজন পড়বে ১৩ লাখ ডলারের মতো পথ-খরচের। তাই বিভিন্ন সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে নির্মাতা জোহান আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছেন। হয়তো কোনো সহযোগিতা তিনি পেয়েও যেতে পারেন।

নেহাত শখের বসেই হোক আর ধর্মীয় চেতনা থেকেই হোক এই নৌকা তৈরি করে নিশ্চয় একটা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন নেদারল্যান্ডের কাঠমিস্ত্রি। এই নৌকা নিয়ে আবার হয়তো তৈরি হবে কালজয়ী কোন সিনেমা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আলোড়িত হবে পবিত্র কুরআনে বর্নিত সেই চিরসত্যের আহবানে।

তথ্যসুত্র : মুসলিম ইনফরমেশন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow