সর্বশেষ সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে এগিয়ে চলার ৯ বছর

এশিয়ানবার্তা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বাঙ্গালি অর্জন করে স্বাধীন সার্বভৌম ভুখন্ড বাংলাদেশ । পাকিস্তানী বন্দিদশা থেকে ফিরে এসে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার স্বপ্নের একটি অসাম্প্রদায়িক , অর্থনৈতিক বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বির্নিমানে । ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট তাঁকে স্বপরিবারে হত্যার মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দেশকে নিয়ে যায় অন্ধকারের দিকে। থমকে যায় দেশের অথর্নীতি।

দীর্ঘ সংগ্রামের পথ ধরে ১৯৯৬ সালে আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগ । এ সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে চলে দেশ । রচিত হয় জাতিয় অর্থনীতির ক্ষেত্রে এগিয়ে চলার নবতর ধারা । বাংলাদেশ পরিনত হয় দারিদ্র বিমোচন, দূর্যোগ মোকাবেলা, জাতিগত সংঘাত নিরসন সহ অর্থ সামাজিক উন্নয়নের রোল মডেল। পরবর্তীতে ক্ষমতার পালা বদলে আবারও থমকে যায় দেশ ।

২০০৯ এ পুনরায় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ‘রূপকল্প’-২০২১ ঘোষণা করে এবং সাফল্যের সাথে নির্ধারিত পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করে। ২০১৪ এর ৫ জানিুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন একদিকে যেমন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্রের যাত্রাকে অব্যাহত রেখেছে তেমনি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২০২১) সহ সরকার গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছে। ফলে আর্থসামজিক খাতসহ বিভিন্ন খাতে প্রভূত উন্নতি হয়েছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যথোপযুক্ত রাজনীতি ও সহায়ক মুদ্রানীতির প্রভাবে দেশে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য বজায় রয়েছে এবং নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ, সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য নিরসনের সাথে প্রত্যেক নাগরিকের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ২০১৫-১৬ হতে ২০১৯-২০ অর্থবছর মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে ‘বাংলাদেশ জাতীয় টেকসই উন্নয়ন কৌশলপত্র’ প্রণয়ন করা হয়েছে। সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের কারণে অর্থনীতির প্রায় সকল সূচকে ঈর্ষণীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থ বছর পর্যন্ত জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.২ শতাংশ। সরকারের বর্তমান মেয়াদে তা ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। বিদায়ী অর্থ বছরে তা ৭.২৫ হয়েছে। বর্তমান সরকারের অব্যাহত উন্নয়নের ফলে মাথাপিছু আয় বেড়ে বর্তমানে ১৬২০ মার্কিন ডলার, রিজার্ভ প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রেমিট্যান্স ১৫.২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দারিদ্র্যের হার কমে ২৩.০৫ এবং চরম দারিদ্র্যের হার ১২.১ শতাংশে নেমে এসেছে।

উদার ও রপ্তানিবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যে প্রণোদনা প্রদানের ফলে দেশের রপ্তানির পরিমান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০৮-২০০৯ অর্থ বৎসরে রপ্তানি আয়ের পরিমান ছিল ১৫.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ৩৪.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সাল নাগাদ এর লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬০ বিলিয়ন মাার্কিন ডলার। সবদিক বিবেচনায় বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি একটি অনন্য মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান কৃষি জমি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তা সত্ত্বেও কৃষকদের জন্য কৃষি ঋণ, কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড, ১০ টাকার বিনিময়ে কৃষকদের ব্যাংক একাউন্ট খোলার কার্যক্রম, খামার যান্ত্রিকীকরণে ৩০ শতাংশ ভর্তুকিতে যন্ত্রাংশ সরবরাহ, সার বিতরণ কার্যক্রম মনিটরিং জোরদারকরণসহ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় গত কয়েক বছর ধরে অব্যাহতভাবে একটি উর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন প্রায় ৩৯০ লক্ষ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। খরা, বন্যা লবণাক্ততা সহনশীলসহ রোগ প্রতিরোধক্ষম ও উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবনের ফলে প্রকিকূল আবহাওয়াতেও ফসলের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাল উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করায় ২০১২ সালের পর বিদেশ থেকে আর কোনো চাল সরকারিভাবে আমদানি করা হয়নি, বরং ২০১৪ সালে প্রথম সরকার শ্রীলঙ্কায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল রপ্তানি করেছে। স্বাদু পানি মৎস্য উৎপদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে দুধ, মাংস ও ডিমের উৎপাদন এবং জনপ্রতি প্রাপ্যতা বৃদ্ধির ফলে জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হচ্ছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি করার জন্য মানবসম্পদের ভূমিকা অপরিহার্য। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মানব সম্পদ উন্নয়নও তাই সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অপরিহার্য অংশ। এ লক্ষ্যে সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নের সাথে জড়িত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, নারী ও শিশু, সমাজ কল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রেখেছে।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি, বিদ্যমান প্রতষ্ঠিানসমূহের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার, শিক্ষা সহায়ক যন্ত্রপাতি সরবরাহসহ শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়ন বিধানকল্পে বিভিন্ন কর্মসূচি/ প্রকল্প গ্রহণ করার ফলে শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।

সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে আসছে। সকলের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে ভর্তি, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, উপবৃত্তি এবং ছাত্র শিক্ষক সংযোগ ঘণ্টা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি, রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন প্রকল্প, মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পসহ আরও কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নীট ভর্তির হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৫ সালে ৯৭.৯৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি শিশুদের ঝরে পরার হার কমে ২০.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। সরকার প্রতি বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাথীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করছে। ২০১০ সাল থেকে সকল শ্রেণিতে শতভাগ নতুন বই প্রদান করা হচ্ছে।

ম্যাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েও শিক্ষার মানোন্নয়ন হয়েছে। ২০১৫ এর হিসাব অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝড়ে পড়ার হার ৪০.২৯ এবং ২২.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এ সময়ে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্নের হার বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৫৯.৭১ এবং ৭৭.৩০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কারিগরি শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করার প্রেক্ষিতে এই সময়ে কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭৯০ টিতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১২৯ টিতে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে সকল প্রতিষ্ঠানে আইসিটি বিষয়ে পাঠদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির মধ্যে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টিখাতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সূচকে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। ‘রিভাইটালাইজেশন অভ কমিউিনিটি হেলথ কেয়ার ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে ১৩ হাজারেরও অধিক কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ফলে জন্ম ও মৃত্যুহার যথাক্রমে প্রতি হাজারে মাত্র ১৮.৮ এবং ৫.১ শতাংশে নেমে এসেছে। নবজাতক এবং ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু মৃত্যুহার যথাক্রমে প্রতি হাজারে যথাক্রমে ২৯ এবং ৩৬ জনে নেমে এসেছে। জনগণের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ হওয়ার ফলে প্রত্যাশিত গড় আয়ু যথাক্রমে ৭০.৭ বছরে উন্নীত হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে ৬৪ টি জেলা হাসপাতালে এবং ৪২১ টি উপজেলা হাসপাতালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা/সপ্তাহে ৭ দিন বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য বাতায়ন নামে ২৪/৭ একটি হেলথ কল সেন্টার চালু হয়েছে যার নাম্বার ১৬২৬৩।

বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার সাথে সাথে আধুনিক কল্যাণমূলক ও রাষ্ট্রের ধারণা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। নির্বাচনী ইশতেহারে যে বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে-“হতদরিদ্রদের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্ঠনী বিস্তৃত করা” অন্যতম। ২০১৩ সাল পর্যন্ত বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে কার্যকরী ও যথোপযুক্ত নীতি গ্রহণ ও পরিকল্পিত বাস্তবায়নের ফলে দারিদ্র্যের হার ২৪.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমান দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে এ হার ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ব্যাপক কাজ চলছে।

জনগণের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা, অতি দর্রিদ্র ও দুস্থদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ, কাজের বিনিময়ে খাদ্য ও টেস্ট রিলিফ ছাড়াও শেখ হাসিনার বিশেষ উেেদ্যাগ একটি বাড়ী একটি খামার, আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বান্তবায়িত হচ্ছে। এছাড়াও বয়স্কভাতা, দুস্থ মহিলা ভাতা, বিধবা ও স্বামীপরিতক্তাদের ভাতা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা ও দেশের শ্রেষ্ঠ বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া হিজড়া জনগোষ্ঠী এবং বেদে, দলিত ও হরিজন সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। অটিজমসহ অন্যান্য প্রতিবদ্ধিতা বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে ২০১০ সালে যাত্রা শুরু হয় অটিজম রিসোর্স সেন্টারের। অটিজমের শিকার শিশু ও ব্যক্তিবর্গকে উক্ত সেন্টার থেকে বিনামূল্যে নিয়মিত কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া অটিজম আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করার জন্য দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে ‘শিশু বিকাশ কেন্দ্র’। অটিস্টিক শিশুদের সেবায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা এবং বাংলাদেশের অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

কোন দেশের প্রত্যাশিত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো আধুনিক, টেকসই, নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্রমোন্নয়ন। আঞ্চলিক ও অন্তর্জাতিক বিভিন্ন যোগাযোগ নেটওয়ার্কে বাংলাদেশ অন্তর্ভূক্তি ও প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও দৃঢ় সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এ দেশের সর্ববৃহৎ সড়ক অবকাঠামো পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ২০১৮ সাল নাগাদ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নির্মাণাধীন এ সেতুর সার্বিক কাজের ৪২ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ সেতু বাস্তবায়িত হলে জাতীয় জিডিপি প্রবৃদ্ধিও হার ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি এবং প্রতি বছর ০.৮৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য নিরসনে অবদান রাখবে। ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল বাস্তবায়নের কাজ পুরোদমে চলছে। প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড একপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হয়েছে। চীন সরকারের সহযোগিতায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করণের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবত সেতু, রংপুর-কুড়িগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে তিস্তা সেতু, মাদারীপুর-শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কে সপ্তম বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সেতুসহ আরও বেশ কিছু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় সারাদেশে সড়ক যোগাযোগ সহজ হয়েছে।

রেলপথের পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য ২০ বছর মেয়াদি মাস্টার প্লান প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪টি পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য পায় ২ লক্ষ তেত্রিশ হাজার নয়শত চুয়াল্লিশ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৩৫ টি প্রকল্প অন্তর্ভূক্ত আছে। লাকশাম-চিনকিআস্তানা এবং টঙ্গি-ভৈরববাজার সেকশন ডাবল ট্র্যাকে উন্নীত করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের লাকশাম-আখাউড়া সেকশন ডাবল ট্র্যাকে উন্নীত করার কাজও চলমান আছে।

নদীপথের নব্যতা বজায় রাখতে বর্তমান সরকার ১৪ টি নতুন ড্রেজর সংগ্রহ করেছে এবং ২০ টি ড্রেজার সংগ্রহ পক্রিয়াধীন রয়েছে। নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৫০ মেট্রিক টন উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্œ দু’টি উদ্ধারকারী জাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৩৪.৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে উন্নতমানের কম্পিউটারাইজড্ কণ্টেইনার টার্মিনাল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন করা হয়েছে। দেশের তৃতীয় বাণিজ্যিক সমুদ্র বন্দর হিসেবে সীমিত আকারে পায়রা বন্দরের কাজ শুরু হয়েছে যা ২০২৩ সাল নাগাদ পুরোদমে চালু হবে।

বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক জ্বলানি খাতের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় বিদ্যুৎখাতের অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। ঐ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ছিল মাত্র ৪,৯৪২ মেগাওয়াট। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল, কয়লা, ডুয়েল ফুয়েল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিউক্লিয়ার এনার্জি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের এবং প্রতিবেশি দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর ফলে বিদ্যুৎ খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩ গুণের অধিক বৃদ্ধি পেয়ে ১৫,২০০ মেঘাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২৭টি থেকে ১০৮ টিতে, বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী ৪৭ শতাংশ থেকে ৭৮ শতাংশে, মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতি ঘণ্টায় ২২০ থেকে ২০৭ কিলোওয়াটে এবং বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৮ লক্ষ থেকে ২ কোটি ৩২ লক্ষে উন্নীত হয়েছে।

প্রাকৃতিক গ্যাসকে বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে গ্যাসের গড় উৎপাদন ছিল দৈনিক ১৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করায় তা বর্তমানে ২৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। ও দেশের অনাবিস্কৃত ৫ টি কয়লা ক্ষেত্রে বর্তমানে ৩.২ বিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা মুজদ রয়েছে, যা প্রায় ৮৫ টিসিএফ গ্রাসের সমতুল্য।

কার্যত শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে দেশ । চার দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের মত আলো ছড়াচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্ব আগামীতে দেশ এগিয়ে যাবে । এই আমাদের প্রত্যায় ।

পরিচিতি: বিশেষ সংবাদদাতা, দৈনিক আমাদের নতুন সময়।

সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশন (বোমা)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow