সর্বশেষ সংবাদ

রোবটিক যৌনতার বিপ্লব:মানবিক বিপর্য়ের অশনীসংকেত

এফ শাহজাহান< এশিয়ানবার্তা ডেস্ক > দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে মানুষের বিকৃত যৌনাচারের নতুন ক্ষেত্র। সমকামিতা যেমন দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে । তেমনি রোবট সেক্স ধেয়ে আসছে। রোবটিক যৌনতা এতদিন মানুষের কল্পনায় থাকলেও এখন তা বিছানা পর্যন্ত গড়াচ্ছে। রোবট টেকনোলজির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোগ ঘটানোর ফলে রোবটিক যৌনতায় রীতিমত বিপ্লব ঘটে গেছে। ইন্টার এ্যাকটিভ রোবট টেকনোলজি দিন দিন বিকশিত হওয়ায় রোবটিক যৌনতার বিস্তার ঘটছে খুব দ্রুত। নারী রোবটকে বিয়ে করার ঘটনাও বাড়ছে।

পৃথিবীর প্রথম দিকের তিন সেক্সি রোবট দ্রতি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সামান্তা,কেটি আর হারমোনি অনেকের মন জয় করে নিয়েছে।

পৃথিবীর প্রথম নাগরিক রোবট সোফিয়া যখন বিয়েশাদী করে ঘরসংসার করার কথা ঘোষণা করেছিলেন,তখন অনেকে অবাক হলেও, এখন আর তারা অবাক হবেন না। কারন,এখন অহরই রোবটকে বিয়ে করার ঘটনা ঘটছে।

রোবট পতিতালয়ে রমরমা ব্যবসা

নারী যৌনসঙ্গীর জায়গা দখল করে নিচ্ছে সেক্সি রোবট। যৌন বিকারগ্রস্থ মানুষকে দ্রুত আকৃষ্ট করছে। হুহু করে বাড়ছে রোবট যৌনসঙ্গীর পতিতালয়। সেখানে হুমড়ী খেয়ে পড়ছে মানুষ। রোবট পতিতালয়ে উদ্যোক্তারা কল্পনাও করতে পারেনি মানুষ রোবটের জন্য এভাবে পাগলপারা হয়ে ছুটে আসবে।

প্রথম রোবট পতিতালয় তৈরি করে রাতরাতি বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন ইতালির এক ব্যবসায়ী ।খদ্দেরদের বুকিংয়ে রীতিমতো হৈ হাঙ্গামা শুরু হয়ে গেছে।  সিলিকনের তৈরি আটটি সেক্সি রোবট নিয়ে শুরু হয়েছে এই পতিতালয়। সাতটি মহিলা এবং একটি পুরুষ মডেল রয়েছে সেখানে। বুকিংয়ের চাহিদা যত বাড়ছে তত বাড়ছে রেটও। আধ ঘণ্টার জন্য গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে ৮০ ইউরো।

এতে সামাজিক বিপর্যের যেমন আশংকা প্রবল,তেমনি প্রকৃতির প্রতিশোধে মানবজাতির বড়ধরনের বিপর্যের আশংকা রয়েছে।

যৌনতায় প্রযুক্তির  অগ্রদূত  ড. ট্রুডি বারবার বলেন, মানুষের যৌনতার প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে ওঠা রোবটের পক্ষে এখন শুধু সময়েরই ব্যাপার।দম্পতিরা ভবিষ্যতে নিজেদের মাঝে যৌনতার বিষয়টিকে শুধুই কোনো বিশেষ দিনের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখবে। তার বদলে রোবটের সঙ্গে যৌনতা করবে সারা বছর।

এখনই ৪০শতাংশমানুষ রোবট যৌনসঙ্গী কিনতে চাচ্ছে

‘কী ধরনের বৈশিষ্ট্যের’ জন্য মানুষ রোবটের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বেশি উদ্বুদ্ধ হবে তা খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যেই জার্মানিতে গবেষণা শুরু হয়েছে। নতুন এ প্রযুক্তিকে এগিয়ে আনতে কারা উৎসাহী তা বের করতেই এই গবেষণা বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘সেক্স উইথ রোবট’ শীর্ষক সম্মেলনে জার্মানির ডুইসবার্গ-এসেন এর গবেষক জেসিকা এম সিজুকা বলেন, “আমি দেখতে চাচ্ছি কেমন ধরনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মানুষ যৌন কাজে রোবট ব্যবহারে বেশি উৎসাহী।”

সিজুকা অধ্যাপক নিকোল ক্র্যামারের সঙ্গে ১৮ থেকে ৬৭ বছর বয়সী ২৬৩ জন বিসমকামী পুরুষের উপর একটি অনলাইন জরিপ পরিচালনা করেন।

জরিপে, পুরুষদেরকে বিভিন্ন নারী রোবটের উপর দুই মিনিটের ভিডিও দেখানো হয়। বিভিন্ন প্রশ্ন করার মাধ্যমে তাদের ‘ব্যক্তিত্ব পরিমাপ’ আর ‘আকর্ষণীয়তা রেটিং’ করা হয়। জরিপে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় তারা কী পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে এমন কোনো রোবট কিনতে ইচ্ছুক কিনা। প্রায় ৪০.৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানান তারা ‘কিনতে পারেন’।

রোবটিক যৌনতা এবং তথাকথিত নারীবাদীদের মৌনতা

দ্রুত মানুষের জায়গা দখল করে নিচ্ছে রোবট যৌনসঙ্গী। ফলে সারা বিশ্বের যৌন শিল্পেও পরিবর্তন ঘটছে। প্রচলিত পতিতাবৃত্তি রীতিমত হুমকীর মুখে পড়েছে। গড়ে উঠছে রোবটিক ব্রোথেল। রক্তমাংসের নারীর পরিবর্তে সেসব পতিতালয়ে রোবট পতিতার কদর বাড়ছে। নারীর প্রতি আকর্ষন হারিয়ে রোবট যৌনসঙ্গীর প্রতি পুরুষের এই দুর্বার আকর্ষণ নারীবাদীদের চেতনায় মারাত্মক আঘাত হেনেছে। তালাকের হার বেড়ে যাওয়া এবং অবিবাহিত নারীদের বিয়ের হার কমে যাচ্ছে দ্র্রুত।

তারপরও তারা এই নিয়ে এখনও মৌনতা অবলম্বন করছেন।

২১ শতাংশ মানুষ রোবট যৌনসঙ্গী পছন্দ করছেন

ব্রিটেনের  ২১ শতাংশ মানুষ স্বীকার করেছেন যে, তারা স্বেচ্ছায় রোবটের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে ইচ্ছুক। রতি ৫জনে ১জন মানুষের রোবটকে যৌনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার এই আকাংখা বড় ধরনের মানসিক বিকৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ১০ জনের মধ্যে চার জনই এই অ্যান্ড্রয়েড সেক্সে আগ্রহী। তারা একে রোমাঞ্চকর বলেও আখ্যায়িত করেছে।

প্রকাশিত এক জরিপে দেখা যায়, ২,৮১৬জন যৌন সক্ষম ব্রিটিশ নাগরিক, যাদের বয়স ১৮ বা তার বেশি, তাদের মতে, রোবটের সাহচর্য ‘বেশি সুখকর’ হবে।

“রোবটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন এবং মানুষের অনুকরণপ্রিয়তার মিথস্ক্রিয়া কি ইতিবাচক না নেতিবাচক?”- জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কে এই প্রশ্ন করা হয়। ৫১ শতাংশ মানুষ একে ‘ইতিবাচক’ বলে উত্তর দেন, জানিয়েছে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড মিরর।

মানুষ কেন রোবটের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে চান

রোবট যৌনসঙ্গী ব্যক্তির চাহিদা অনুযায়ী আচরণ করবে, কিন্তু রোবটের নিজস্ব কোন চাহিদা থাকবে না। এই কারণে মানুষ সংসারধর্মের বদলে রোবটকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেঁছে নিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করবে।

একইসঙ্গে যে কেউ টাকা থাকলেই তার পছন্দের নায়িকা বা মডেল তারকার  আদলে রোবট তৈরি করে নিতে পারবে।ইচ্ছা করলেই বিশ্বসুন্দীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক গড়তে পারবে।

প্রযুক্তির চাপে যন্ত্রনির্ভর মানুষ খুব দ্রুত মানবীয় মূল্যবোধ হারাচ্ছে। সে কারনে মানুষ আত্মসমর্পন করছে যন্ত্রের কাছে। মানব সঙ্গীর যন্ত্রকাতরতা একে অপরকে দুরে ঠেলে দিচ্ছে। সে কারনে যন্ত্রের কাছে রোমান্স খুঁজছেন রক্তমাংসের মানুষ।

গবেষকরা  পুরুষদের এবং নারী উভয়কেই জিজ্ঞাসা করেন, “কেন তারা একটি রোবটের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে চান?”

উত্তরে ৭২ শতাংশ মানুষ জানায়, “এই কাজে রোবট খুব ভাল হবেবাকি ২৮ শতাংশসুযোগ পেলেরোবট ব্যবহার করে দেখবেন এমন মত দেন

লিঙ্গ সম্পর্কীয় মনোবিজ্ঞানী, . হেলেন ড্রিসকল বলেন, “যৌন প্রযুক্তিদিন দিন আধুনিকতর হচ্ছে।

সান্ডারল্যান্ড ইউনিভার্সিটি . ড্রিসকল বলেন, “রোবোটিক্স , ইন্টারঅ্যাকটিভ, গতি সেন্সিং বা অনুভবনশীল প্রযুক্তিযৌন খাতেসামনের কয়েক বছরের মধ্যে আরও বড় ভুমিকা রাখবে।

আর কখনো কোনো মানুষের কাছে ফিরে যাবেন না

জাপানের অসংখ্য পুরুষ সিলিকন রোমান্সের দিকে ঝুঁকছেন। গবেষণা প্রতিবেদন বলছে,আশংকাজনক হারে এদের সংখ্যাটাও দিনে দিনে বাড়ছে। প্রতি বছর দেশটিতে প্রায় দুই হাজারের মতো ‘সেক্সডল’ বিক্রি হয়, যাদের প্রতিটির দাম অন্তত ছয় হাজার ডলার।

মানুষের তৈরি এসব রোবট যৌনসঙ্গীর সাথে মানসিক বন্ধনও গড়ে তুলেছেন অনেক ক্রেতা। জাপানের অনেক পুরুষ তাদের মানুষরূপী সঙ্গীদের নিয়ে অনেক খুশী এবং অনেকে বলছেন তারা আর কখনো কোনো মানুষের কাছে ফিরে যাবেন না।

৪৫ বছর বয়সী মাসায়ুকি ওজাকি বলছেন, তাঁর রোবট যৌনসঙ্গীর প্রেমেই তিনি মগ্ন হয়ে থাকেন। এমনকি কর্মক্ষেত্রে যদি কোনো কিছু ভালো না যায়, বা দিনটা যদি ভালো নাও কাটে তাতেও ওই রোবট যৌনসঙ্গীর প্রতি তার ভালোবাসা কমে না।”সে সবসময় জেগে আছে, আমার জন্য অপেক্ষায় আছে এটা মনে করে আমি নিরাপদ বোধ করি, বলেন মাসায়ুকি ওজাকি। মাসায়ুকি তাঁর সঙ্গী রোবট যৌনসঙ্গীর নাম দিয়েছেন মায়ু।

“জাপানি মেয়েরা নির্মম হৃদয়ের, স্বার্থপর। পুরুষেরা চায় এমন কেউ তার পাশে থাকুক যে, কাজ থেকে আসার পর যার সাথে সুন্দর সময় কাটানো যায় এমন কেউ। রোবট যৌনসঙ্গীর সাথে আমি তেমনটা করতে পারি”।”আমি ভাবতেই পারিনা আর কোনো মানুষের সাথে থাকার কথা। মায়ুকে নিয়েই আমি কবরে যেতে চাই” বলছিলেন মাসায়ুকি।

ভবিষ্যতেসেক্স রোবটদিয়ে টিনএজাররা তাদের কুমারীত্বও হারাতে পারেন বলে ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে

গবেষকদের মতে, এইসবের মাধ্যমে যৌনতা সম্পর্কে একশবছর আগের সামাজিক নিয়মের সুস্পষ্ট পরিবর্তন ঘটেছে

যৌন সম্পর্কে রোবট ব্যবহারের প্রবণতা ভাবিয়ে তুলেছে গবেষকদের। তারা মনে করছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পারিবারিক, সামাজিক, দাম্পত্য, এমনকি সমগ্র মানবজাতির ওপর পড়বে।

রোবট যৌনসঙ্গীর প্রতি মানুষের এই প্রবল আকর্ষণ মানবিক বিপর্য়ের অশনীসংকেত বলে আশংকা করছেন সমাজমনোবিদরা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow