সর্বশেষ সংবাদ

সবাই যখন অপরাধ জগতের বাসিন্দা

এফ শাহজাহান :: আমি। আপনি। এবং আমরা সবাই এখন অপরাধ জগতের বাসিন্দা। এখানে আমার আপনার ইচ্ছা অনিচ্ছার বিষয় নেই। চোরাবালিতে তলিয়ে যেতে যেমন ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন দাম নেই, এখানেও তাই। ইচ্ছা করে কেউ যেমন চোরাবালিতে তলিয়ে যায় না,তেমনি ইচ্ছা করে আমরা সবাই অপরাধ জগতের বাসিন্দা হয়ে যাই নি।

সবাই যে অপরাধ জগতের বাসিন্দা হয়ে গেছি, সেটা এখনো আমরা টের পাইনি। বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ঠিকই টের পেয়েছিলেন। সেজন্য  তিনি বলেছিলেন,‘‘ এই পৃথিবী দ্রুত মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। মানব সমাজকে আরো কিছুদিন বাঁচতে হলে এই পৃথিবী ছেড়ে অন্য কোন গ্রহে বসতি গাড়তে হবে’’।

স্টিফেন হকিংয়ের ভবিষ্যদ্বাণীকে আমলে নিয়ে এই সময়ের বিষ্ময়কর সফল মানুষ ‘ইলন মাস্ক’ মঙ্গলগ্রহে ‘ঘরবসতির’ কাজ শুরু করেছেন।

সবাই অপরাধ জগতের বাসিন্দা হয়ে যাওয়ার এই থিওরিকে প্রথমে ‘সাইকোলজিক্যাল হাইপোথিসিস’ মনে হতে পারে। অনেকে এটাকে ‘হাইপোথিটিক্যাল’ ধ্যান ধারনাও বলতে পারেন। আবার কেউ কেউ এটাকে ‘প্যারাডক্সিক্যাল প্রোবলেম’ও ভাবতে পারেন।

মার্শাল ম্যাকলুহান যখন `গ্লোবাল ভিলেজ’ থিওরি দিয়েছিলেন,তখনও অনেক সমাজ বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক সেটাকে খামাখা খাম খেয়ালী বলেছিলেন। অথচ সেটাই এখন নিরেট বাস্তবতা।

ইহজগত আর পরজগত হচ্ছে আমাদের কমনসেন্স বা সাধারন ধারণা। ইহজগতের আবার দুটি শাখা। ভাল আর মন্দ। নিরাপদ জগত আর অপরাধ জগত। একটি প্রসিদ্ধ জগত আর অন্যটি নিষিদ্ধ জগত। নিষিদ্ধ জগতের আদুরে নাম ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড ’ ।

মহাবিশ্বে এই পৃথিবী নামক গ্রহের বাসিন্দা হিসেবে আমরা স্বাভাবিকভাবে দুটো জগতের বিষয়ে সচেতন ছিলাম। একটি স্বাভাবিক বা নিরাপদ জগত। আরেকটি অস্বাভাবিক বা অপরাধ জগত। পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকেই এই দুটি ভাল ও মন্দ জগতের প্রবাহ ধারা চলমান ছিল। পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম হাওয়ার সন্তান হাবিল আর কাবিলের দুটি ধারা থেকেই নিরাপদ জগত আর অপরাধ জগতের সৃষ্টি হয়েছিল। সৃষ্টির শুরু থেকে চলে আসা সেই নিরাপদ জগত আর অপরাধ জগতের দুই ধারা এখন এক মোহনায় এসে মিলিত হয়েছে।

দুই নদী অথবা দুই সাগর যেমন এক মোহনায় মিলিত হয়ে মহাসাগরের পেটে বিলীন হয়ে যায়, তেমনি নিরাপদ জগত আর অপরাধ জগত এক মোহনায় মিলে নতুন এক জগতের পেটের ভেতরে বিলীন হয়ে গেছে ।
সেই জগতের নাম ‘সাইবার ওয়ার্ল্ড ‘ ।

যুগসন্ধিক্ষণে দুই জগতের এক মোহনায় যুগলবন্দী হওয়ার মন্ত্রকে বলা হচ্ছে ‘ সাইবার কানেকটিভিট ‘। আর সেই সাবাইর কানেকটিভিটির ফলে নতুন যে জগত,সেই ‘সাইবার জগত’ যে দর্শনে পরিচালিত হচ্ছে,সেই দর্শনের নাম‘ইন্টারনেট অব থিংক’ বা ‘আইওটি’।

নিরাপদ জগত আর নিষিদ্ধ জগতের মাঝখানে এতোদিন একটা প্রাচীর বা পার্টিশন ছিল। বার্লিণ প্রাচীরের মত এখন সেই প্রাচীর উঠে গেছে। সাইবার কানেকটিভিটি ভাল-মন্দের দুই জগতকে এক করে ফেলেছে। এখন দুই জগতের সবাই একাকার হয়ে এক জগতের বাসিন্দা হয়ে গেছি। সেটাকেই বলা হচ্ছে সম্মিলিত অপরাধ জগত।এখানে শুধুই অপরাধীদের রাজত্ব চলবে।এখানে নিরাপরাধীরা নিরাপদে থাকতে চাইলে অপরাধীদের প্রজা হয়ে থাকতে হবে। অপরাধীদের হাতে নিরাপরাধীদের শাসিত হয়েই থাকতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। তবে আছে। তার জন্য প্রয়োজন মহাবিপ্লবের। সেটা অনেক দুরের কথা।

সাইবার জগতের একটাই ধর্ম। ‘জোর যার মুল্লুক তার’।এখানে অন্য ধর্ম অসহায়। এখানে মন্দের কাছে ভাল অসহায়। এখানে অপরাধীদের দাপটে নিরপরাধীরা কোনঠাসা। শেয়ালের ঘরে মুরগীর বসবাস করার মত। সাইবার জগতের অপরাধ সা¤্রাজ্যে নিরাপরাধ ধ্যান-ধারণা খুবই নিরাপত্তাহীন। সে কারনেই সাইবার সিকিউরিটি এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ।

৫ বছর আগেও আমেরিকার মুল এজেন্ডা ছিল “হোমল্যান্ড সিকিউরিটি”। এখন তাদের সবচেয়ে বড় এজেন্ডা “সাইবার সিকিউরিটি”।

শুধু আমেরিকাতেই নয়,সাইবার সিকিউরিটিকে এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এজন্য উন্নত বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে “সাইবার স্টাডিজ” বিভাগ খোলা হয়েছে। সেখানে ’সাইবার সিকিউরিটি’ নিয়ে শিক্ষা ও গবেষণা চলছে।

এতোদিন লিনিয়ার স্ট্রাকচারে আমরা শুধু দুই জগতের সাথেই পরিচিত ছিলাম।

এখন নতুন আরেক জগতের সৃষ্টি হয়েছে। তার নাম সাইবার জগত। প্রযুক্তিবিদরা আদর করে ডাকেন সাইবার ওয়ার্ল্ড। এই সাইবার জগতই নিরাপদ জগত আর অপরাধ জগতকে একত্রে গিলে ফেলেছে। আমরা ভাল-মন্দ সবাই এখন সাইবার ওয়ার্ল্ডের পেটের ভেতর ঢুকে গেছি। ভাল-মন্দ সবাই এখন এই সাইবার ওয়ার্ল্ডের বাসিন্দা হয়ে গেছি।

সাইবার জগতে ভাল-মন্দ সবই হাতধরাধরি করে চলে। এখানে ধর্ম-দর্শণ,শিক্ষা-বিনোদন,সাহিত্য সংস্কৃতি,ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে দুনিয়ার যত ভাল কাজ আছে, সবগুলোরই যেমন জ্ঞানের সাগরে মিশে মহাসগরে পরিনত হয়েছে ,তেমনি সকল মন্দ, খুন খরাপি,চুরি বাটপাড়ি,যাত্রা সার্কাস,মদ-জুয়া, যৌনতা অশ্লীলতা সব কিছুরই মহাসাগর হয়ে উঠেছে। সাইবার জগতের সব বাসিন্দার হাতের কাছেই এখন সবকিছু। এখন কথা হচ্ছে, সাগর সেঁচে মানিক আনবেন কীভাবে ?

আপনি ভাবছেন যে, যারা ভাল তারা ভালোটা নিবে, আর যারা খারাপ তারা মন্দটা নিবে ? তাহলে সেই একই কথা,সাগরে নেমে কুমীরের সঙ্গে লড়াই করে জিতে যাওয়া।
সেটা কী খুব সহজ ?

একটিমাত্র শব্দ, ‘কানেকটিভিটি ‘ ।এই ‘সাইবার কানেকটিভিটির’ মাধ্যমে ভাল আর মন্দের মহামিলনের এক সন্ধিক্ষনে এসে পড়েছি আমরা। নিরাপদ জগতের আমরা এবং আমরাধ জগতের অপরাধীরা, সবাই এখন একই সঙ্গে একই জগতের বাসিন্দা হয়ে একেবারে কাছাকাছি একত্রে বসবাস করছি। সেখানে আমি আপনি কতক্ষণ, কতটা নিরাপদ থাকবো, সেটাই মুল বিষয়।

সাগরে নেমে কুমীর-হাঙ্গরের সঙ্গে বসবাস করা আর এই সাইবার জগতে ভাল মন্দের একত্রে বসবাস করা একই কথা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সাগরে কুমীর হাঙ্গরের সঙ্গে বসবাস করে আমি আপনি কতক্ষন টিকে থাকবো, সেটাই মুল কথা।

আমার ভাবনায় সবচেয়ে বিষ্ময়কর দার্শনিক ‘মার্শাল ম্যাকলুহান ’ প্রায় একশ বছর আগে ‘গ্লোবাল ভিলেজের’ যে থিওরী দিয়ে গিয়েছিলেন সেটি এখন একশভাগ সত্যি পরিনত হয়েছে। তিনি বলেছিলেন সমগ্র পৃথিবী একটা গ্রামে পরিনত হবে আর পৃথিবীর সব মানুষ সেই একই গ্রামের বাসিন্দার মত হবে। আমরা তাই হয়েছি। ভিন্ন ভিন্ন দেশের নাগরিক বা সিটিজেন বলে এখন কিছু নেই। এখন সবাই এক দুনিয়ার নেটিজেন।

মার্শাল ম্যাকলুহান গভীর দুরদৃষ্টি সম্পন্ন দার্শনিক হলেও , তিনি তখনও চিন্তা করতে পারেন নি গ্লোবাল ভিলেজের পরবর্তী অবস্থাটা কেমন হবে।

মার্শাল ম্যাকলুহানের গ্লোবাল ভিলেজের পরবর্তী রুপ হচ্ছে “ক্রাইম ভিলেজ”। যার নিরীহ বাংলা নাম হচ্ছে “অপরাধ জগত”। এর বাইরে আর কোন জগত নেই । আর কোন জগত থাকতে পারে না। সাগরে যেমন কুমীর হাঙ্গর তিমির রাজত্ব চলে এই জগতেও তেমনি অপরাধীদেরই রাজত্ব চলবে। সাগরে কুমীর হাঙ্গরের কাছে মানুষ যেমন অসহায়, সাইবার ওয়ার্ল্ডে মন্দের কাছে ভালও তেমনি অসহায়। এখানে মন্দই শাসক মন্দই রাজা । ভাল শুধুই শাসিত,ভাল এখানে নিরীহ প্রজা। শাসক আর শোষিতের যে চিরন্তন দ্বন্দ, এখানে ভাল আর মন্দের সেই একই দ্বন্দ্ব।

এবিষয়ে কোন সমাজবিজ্ঞানী কিংবা দার্শনিকের কোন গবেষণা এখনো আমার চোখে পড়েনি। বাস্তবতা নিরীক্ষণ করে এটাই মনে হয়েছে আমার।

এভাবেই ঘোরের মধ্যে ভয়ংকর এক অপরাধ জগতে ঢুকে পড়েছি আমরা সবাই। এছাড়া কোন বিকল্পও ছিল না। এখান থেকে বের হওয়ার সহজ কোন পথও খোলা নেই। এখানে কে অপরাধী আর কে অপরাধী নয়,সেটা কোন ফ্যাক্টর নয়। এখন আপরাধী আর নিষ্পাপ আলাদা করে চেনার কোন বিষয়ও নেই। কারণ সবাই যখন একই জগতের বাসিন্দা,তখন মাঝখানে আর বিভেদ রেখা টানারও কোন সুযোগ নেই।

এতোদিন আপনার ধারণা ছিল, শুধু অপরাধীরাই অপরাধ জগতের বাসিন্দা। কমবেশি সবারই ধারনা ছিল যে অপরাধ জগতে সহজে যেমন ঢোকা যায় না,তেমনি একবার ঢুকলে আর সহজে বের হওয়ার পথ থাক না। অপরাধ জগতের পরিনাম সম্পর্কে আমরা কমবেশি জানতাম এবং ইচ্ছা করলেই অপরাধ জগত থেকে নিরাপদ দুরত্বে থাকতে পারতাম। আমার আপনার ভবিষ্যঃ বংশধর যাতে অপরাধ জগতের সংস্পর্শে আসতে না পাওে সেজন্য সতর্ক থাকতাম।

এখন আর সেই উপায় নই। কারণ এখন আমরা সবাই অপরাধ জগতের বাসিন্দা হয়ে গেছি। এখানে অপরাধ জগতের বাইাে আর কোন জগত নেই।

কখনো হয়তো ভেবে দেখেননি যে পাপী তাপী সাধু সন্নাসী সবাই এখন অপরাধ জগতের বাসিন্দা হয়ে গেছেন। এখান থেকে বের হওয়ারও কোন সহজ পথ নেই।

সাইবার জগতকে কেউ কখনোই অপরাধ জগত হিসেবে মানবেন না। মানার কথাও নয়। ‘পোস্ট মডার্নিজম’ পার কওে এসে ‘অটোমডার্নিজম’ এর অগ্রসরতা, সমাজ সভ্যতা, ধর্ম-দর্শণ, শিক্ষা-সংস্কৃতি, আনন্দ বিনোদন, জীবন জীবীকা সবকিছুই এখন সাইবার জগতের নিয়ন্ত্রনে। তাই সাইবার জগতের বাইওে চিন্তা করাটা অবশ্যই প্যারাডক্সিক্যাল।

মনে করেন, বাংলাদেশের সব কওমী মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের পার্সোনাল কম্পিউটার দিয়ে দেওয়া হল। এটাকে সবাই বিজ্ঞান ভিত্তিক বাস্তবমুখী এবং সুদুর প্রসারী পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা করবেন। এমন কাউকে খুঁেজ পাবেন না, যিনি এই পদক্ষেপের বিরোধীতা করবেন। কারণ এর মাধ্যমে কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সাইবার জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হল।এরফলে কী হবে ? মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।

মনে করেন, কওমী মাদরাসার একজন শিক্ষার্থী ইউটিউবে ইংরেজি শিখতে চাইলেন। সেখানে খুবই চমৎকারভাবে ইংরেজি শেখানোর সহজ সরল হাজারো ব্যবস্থা আছে। সেই সাথে আছে সমস্যাও। কারন হচ্ছে, ইউটিউবে যারা ইংরেজির ট্রেইনার তাদের অধিকাংশই নারী। এরা এমন সব টপলেস,ব্যাকলেস ড্রেসআপে আপনাকে ইংরেজি সেখাবে, যে ইংরেজি শিখতে শিখতে আপনার অজুও নষ্ট হয়ে যাবে।

মনে করেন, আপনি ইউটিউবে বিশ্ববিখ্যাত কোন মুফতী বা মুফাসসিরের লেকচার শুনছেন। একটু পরই দেখবেন, অপনার ডানে বামে এমন সব ভিডিওর প্রোমো এসে ভিড় করছে যে আপনার অবদমিত যৌন সুড়সুড়ি আপনাকে রাক্ষুসের মত সেদিকে টেনে নিয়ে যাবে। ঐ যে সাগওে নেমে কুমীরের সাথে লড়াই করার মত মনের অবস্থা হয়ে যাবে। যেখানে টিকে থাকাটা হাতে আগুনের অঙ্গার নিয়ে থাকার চেয়েও কঠিণ হয়ে পড়বে। পরিনতি হবে ভয়ানক।

ভাবছেন ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি সাইটগুলো সব বন্ধ করে দেওয়া হবে ? সেটা নিছকই ফালতু ধারণা। বাংলাদেশ সরকার ১০ বছর ধরে পর্ণোসাইট বন্ধ করার জন্য চিল্লাফাল্লা এবং কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। হাইকোর্ট থেকে সকল পর্ণোসাইট বন্ধ করে দেওয়ার কড়া নির্দেশও জারি করা হয়েছে। এযাবত সরকার ২২৪ টি পর্নোসাইট বন্ধও করে দিয়েছে। কিন্তু এখনো খোলা আছে কমপক্ষে ২ লাখ ২৪ হাজার পর্ণোসাইট। এটা কোনদিনও কোনভাবেই বন্ধ করা সম্ভব নয়।

তবু তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম যে, সব পর্ণোসাইট বন্ধ করে দেওয়া হল। তারপর ইউটিউবে আপনি লেখাপড়া থেকে শুরু করে দুনিয়ার সব ধরনের জ্ঞান আহরন শুরু করে দিলেন। কারণ ইউটিউবে তো পর্ণোগ্রাফি নেই। অথচ একটু খেয়াল করলেই দেখবেন যে, ইউটিউব হচ্ছে দুনিয়ার সব পর্নোগ্রাফির বাপ মা। এখানে ছেলেরা দেখছে কীভাবে শাড়ি পরতে হয়,আর মেয়েরা শিখছে কীভাবে লুঙ্গি পরতে হয়।

তার কারণ কী ? কারণ হচ্ছে, শাড়ি পরা শেখানোর চ্যানেলে আপনি যা দেখবেন আর মজা পাবেন,একটা পর্ণোসাইটে ঢুকেও সে মজা পাবেন না। তাহলে কী দাঁড়ালো ? আপনি জ্ঞান আহরণের জন্য ইউটিউবকে বেছে নিলেন, আর পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়লেন। বের হবার কোন পথ নেই।

সারমর্ম হচ্ছে,আপনার হাতের তালুতে আগুনে ঝলসানো একটা অঙ্গার তুলে দিয়ে বলা হল, এটা শক্ত করে ধরে রাখেন।

কতক্ষণ ধরে থাকবেন ?

এখন সেই সময়টাই চলে এসেছে আমাদের সামনে। যে সময়ের কথা প্রায় দেড় হাজার বছর আগে বলে গেছেন সমগ্র মানবতার শিক্ষক বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ(স:)। যে সময় হাতের তালুতে অঙ্গার ধরে রাখার চেয়েও কঠিণ হবে মুমিনের ঈমান ধরে রাখা।

পড়ছেন,বিরক্ত হচ্ছেন, আর ভাবছেন, এসব আবেগতাড়িত প্যারাডক্সিক্যাল কথাবার্তা।
শেষে বুঝবেন, এটাই বাস্তবতা।

[ আমার প্রস্তাবিত “নেক্সট ওয়ার্ল্ড ” বই এর খসড়া ভুমিকা ] এফ শাহজাহান
১০.০২.১৯
নির্বাহী সম্পাদক,এশিয়ানবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow