সর্বশেষ সংবাদ

কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশ দিবস উদযাপিত


  • কলকাতা প্রতিনিধিঃ ৪৩ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় উদযাপিত হল বাংলাদেশ দিবস।

এউপলক্ষ্যে রবিবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক’এর এস.বি.আই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলা সাহিত্য ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক ওই আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে.এম.খালিদ এমপি, বিশিষ্ট সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, বাংলাদেশের সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল এমপি, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব বেগম আকতারী মমতাজ, বাংলাদেশ বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক হাবিবুলাহ সিরাজী, কবি ও কলকাতা বুক সেলার্স এন্ড গিল্ডের সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়, বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক জনাব আবুল মোমেন, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার তৌফিক হাসান প্রমুখ।

সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বলেন ‘আমাদের ধমনীতে যে রক্ত প্রবাহিত হয়, সেই রক্তের স্রোতে যে গর্জন-ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধু আমাদের ধমনীর রক্তে গর্জন তৈরি করে দিয়েছেন চিরতরে। তিনি আরও বলেন ‘নেতাজী বলতে যেমন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, স্বামীজি বলতে যেমন বিবেকানন্দ-কে বোঝায় তেমনি বঙ্গবন্ধু বলতে শেখ মুজিবুর রহমানকে বোঝায়। এই দুই বাংলাতে অনেক বন্ধু ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্তু কেউই আমাদের বন্ধু নয়। বঙ্গবন্ধু ছিলেন সম্পূর্ণ পুরুষ, তার মধ্যে এতটুকু নারী ভাব, কোন দুর্বলতা, ন্যাকামো ছিল না। তার কন্ঠস্বরে একটা মেঘের গর্জন ছিল। প্রকৃত পুরুষ বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই। একশত ভাগ পুরুষ এবং এমন মানুষই নেতা হতে পারেন।’ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত বিশিষ্ট এই সাহিত্যিক জানান আগামী দিনে ‘কলকাতা ও বঙ্গবন্ধু’ বলে একটি বই লেখার চেষ্টা করবেন।
কে.এম.খালিদ এমপি জানান ‘একটা ভাষাকে কেন্দ্র করে কোন রাষ্ট্রের জন্ম হতে পারে বা একটা ভাষার জন্য মানুষ জীবন দিতে পারে-তার প্রমাণ হল বাংলাদেশ।

দেশের স্বাধীনতা লাভের জন্য আমরা যেমন রক্ত দিয়েছি তেমন ভারতের সেনা সদস্যরাও রক্ত দিয়েছে। তার জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ। এক কোটি মানুষকে তারা আশ্রয় দিয়েছে।। তাঁর অভিমত ভাষা, সংস্কৃতি এক। জাতি হিসাবে আমরা বাঙালি। কিন্তু নাগরিক হিসাবে আমরা বাংলাদেশি আর আপনারা ভারতীয়। সেই কারণেই এই সীমানা।’
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বলেন ‘দুই বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ভাষা এক হলেও এই বিভাজন মেনে নেওয়া যায় না।

কারণ ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম রংপুর যাই সেখানে বাংলাতে কথা বলতে পারি, আমি মাছা-ভাত খেতে ভালবাসি, তারাও ভালবাসে। আমি রবীন্দ্রসঙ্গীত ভালবাসি-তারাও ভালবাসে। নজরুল আমার প্রাণের কবি তাদেরও প্রাণের কবি। রেজওয়ানা চৌধুরী আমার প্রিয় শিল্পী-তাদের কাছেও তাই। কিন্তু তার পরেও এই বিভাজন কেন?
বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ট নেতৃত্বপ্রদানের কথা উল্লেখ করে অসীম কুমার উকিল বলেন ‘তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ তার যাত্রা শুরু করে। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েই শিল্পী, গায়ক, কবি, সাহিত্যিক সকলেই বঙ্গবন্ধুর মিছিলে সমবেত হয়েছিল।

৭ মার্চ ভাষণের পর সাড়ে সাত কোটি বাঙালি ঐকবদ্ধ হয়েছিল। সকলের কন্ঠে স্লোগান ছিল তুমি কে আমি কে বাঙালি বাঙালি-তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা।’
আলোচনা শেষে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও পরিবেশিত হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow