সর্বশেষ সংবাদ

পেন-পেন্সিল আর পিন,পাক-ভারত যুদ্ধের মুলে এই তিন

ফকীর শাহ < এশিয়ানবার্তা ডেস্ক> হাঁস-মুরগী ভাগাভাগি নিয়ে সংসার ভাঙ্গে । চেয়ার-টেবিলের ভাগাভাগি নিয়ে আপন ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াইও হয়। হাড়ি-পাতিলের ঠোকা-ঠুকি থেকে বাড়ির মাঝে দেওয়াল ওঠে।  ভাইয়ে-ভাইয়ে লাঠালাঠিও হয়। এক সংসার ভাগ হয়ে দুই সংসার হওয়ার এইসব কাহিনী আমাদের অতি পরিচিত হলেও সুঁই-সুতার ভাগাভাগি নিয়ে দুই দেশের দুষমনী ৭০ বছর ধরে চলার ইতিহাস আমাদের পদে পদে থমকে দাঁড় করায়।

পেন-পেন্সিল আর পিন,পাক-ভারত যুদ্ধের মুলে এই তিন। কথাটা হাস্যকর মনে হলেও এটাই চরম বাস্তবতা। হাতি ঘোড়া ভাগাভাগি নিয়ে দেশ ভাগ হওয়া স্বাভাবিক মনে হলেও চেয়ার-টেবিল ভাগাভাগি নিয়ে দেশ ভাগ হওয়াটা অনেকের কাছে অস্বাভাবিকই মনে হতে পারে। অথচ ৭০ বছর আগে সুঁই-সুতার মত নগন্য জিনিসের ভাভাগি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের যে রেশারেশি শুরু হয়েছিল সেটাই এখন দুই দেশকে পারমানবিক বোমার মুখোমুখী এনে দাঁড় করিয়েছে ।

৭০ বছর ধরে চলমান সেই দুষমনী ভুলতে পারেনি দুই দেশের কেউই। এই দুষমনী দুই দেশকে বহুবার যুদ্ধের মুখোমুখী করিয়েছে। কয়েকবার যুদ্ধে জড়িয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন বহু বণি আদম।

আজও লড়াই চলছে। থেমে থেমে বেজে উঠছে যদ্ধের দামামা। আজ এই ৩ মার্চের রোববারেও দুই দেশের মধ্যে চলছে তুমুল সংঘর্ষ। এই মুহুর্তের খবরের শিরোনাম হচ্ছে,কাশ্মীর সীমান্তে ভয়ঙ্কর গোলাবর্ষণ পাকিস্তানের, কুপওয়ারায় চলছে সেনা-স্বাধীনতকামীদের লড়াই।

১৯৪৭ সালের জুন মাসে যখন দেশভাগের পাকাপাকি কথা ঘোষণা হল,তখন দুই দেশের মধ্যে জমিজমা ভাগাভাগি শুরু হল৷ দুই দেশের মধ্যে সীমারেখাও টানা হল৷ দুই দেশের নেতারা মিলে ভাগ করতে বসলেন দুই দেশের সহায় সম্পদ। তখন থেকেই ভারত পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে সুঁই-সুতার মত ছোট ছোট বিষয়ে ভাগাভাগি নিয়ে  শুরু হয়েছিল লড়াই ৷

ইতিহাস বলে, ভারত পাকিস্তানের সেই ভাগাভাগির তালিকায় ছিল আলপিন, সূচ, পেন্সিল, চেয়ার, টেবিল৷ বাদ ছিল না জন্তু-জানোয়ারও৷ সে সময় জায়মুনি নামের একটি হাতিকে পূর্ব পাকিস্তানে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ দেশভাগের সময় ৬০টি হাঁসও দুই দেশের মধ্যে সমান ভাগ হয়েছিল৷

নতুন প্রজন্ম জানলে অবাক হবে  যে,  ২১টি টাইপরাইটার যন্ত্র, ৩১টি কলমদানি, ১৬টি সোফা, ১২৫টি কাগজপত্র রাখার আলমারি আর অফিসারদের বসার জন্য ৩১টি চেয়ার পর্যন্ত ভাগাভাগি করে নিয়েছিল ভারত আর পাকিস্তান।

ভাগাভাগির খেলা সেখানেই শেষ নয় । আরো ভাগ হয়েছিল নর্তকীর মূর্তি, ধ্যানরত পূজারীর মূর্তি৷ নর্তকীর মূর্তিটি পেল ভারত, আর পাকিস্তান পেল পূজারীর মূর্তি।

প্রতিবেশি দুটো দেশ যখন পেন-পেন্সিল আর পিনের মতো সাধারণ জিনিসপত্র নিয়ে ভাগাভাগি করছিল, তখন দুই দেশের হাতে কোনও মারণাস্ত্র ছিল না৷

৭০ বছর পর আজ দু’টি দেশ পারমানবিক বোমার মুখোমুখী এসে দাঁড়িয়েছে।

৭০ বছর আগে সুঁই-সুতার ভাগাভাগি নিয়ে দুই দেশের যে বিরোধের শুরু,৭০ বছর পরও তার রেশ থামছে না।

তাহলে কী একটা যুদ্ধই এই রেশারেশির শেষ কথা ?

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow