সর্বশেষ সংবাদ

সব সর্বনাশের খলনায়ক বিশ্বাসঘাতক চার হিন্দু

এফ শাহজাহান < এশিয়ানবার্তা ডেস্ক > যুগে যুগে স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবসময়ই সুক্ষ্ম চাল যারা চেলেছেন, সুকৌশলে ইতিহাস তাদের আড়াল করে গেছে। এর একটা বড় কারন স্বাধীনতাকামীরা শুধু লড়াই করেই শেষ হয়ে গেছেন,ইতিহাস রচনার সময় পাননি।

এরপরও কিছু বিবিকবান মানুষ সত্য কথাটা তুলে ধরার জন্য বিবেকের ছঠফটানী থেকে সঠিক ইতিহাস লিখে গেছেন। সেইসব লেখা থেকেই ইতিহাসের চোরাবালিটা ধরা পড়েছে শত শত বছর পরেও।

সঠিক ইতিহাস বলছে ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা হরণের মাধ্যমে সব সর্বনাশের গোড়ায় চাল চেলেছেন খলনায়ক আর বিশ্বাস ঘাতকতা   করেছেন হিন্দু প্রভাবশালীরা।

স্বাধীনতা হরণের সব কলকাঠি নেড়েছেন তারাই,মাঝখানে ইতহাসে কলঙ্কিত হয়ে আছেন শুধু মীরজাফর। বিশিষ্ঠ ইতিহাসবিদ তপন মোহন চট্টোপাধ্যায় তাঁর পলাশীর যুদ্ধ বইয়ে সেভাবেই সত্যকে তুলে ধরেছেন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে।
সেই ইতিহাস পড়লে জানা যায় উপমহাদেশের স্বাধীনতা হরণের মুলে ছিল প্রভাবশালী চার হিন্দু। রায়দুর্লভ মানিকচাঁদ, জগৎ শেঠ এবং উমিচাঁদ।

তপন মোহন চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত “পলাশীর যুদ্ধ” বই অবলম্বনে কলকাতার বিশিষ্ঠ সাংবাদিক সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি এক প্রবন্ধে তুলে এনেছেন পলাশীর যুদ্ধের চেপে রাখা অনেক সত্য ইতিহাস।

কলকাতা তথা সিরাজের পতনের মূলে ছিল চার হিন্দু শিরোনামে এক প্রবন্ধে তিনি লিখেছন,এক মুসলিম নবাব প্রাণপণে চেষ্টা করলেন বাংলা বাঁচাতে। অপরদিকে হিন্দু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা ক্রমাগত সাহায্য করে গেল ইংরেজদের। ফলাফল প্রথমে ইংরেজবাহিনীর কলকাতা দখল এবং পরে বাংলা দখল। ২ জানুয়ারি ১৭৫৭, এমন দিনেই কলকাতা পুনর্দখল করে ইংরেজরা। এরপর পলাশির যুদ্ধে কলকাতা এবং বাংলাকে পরিপূর্ণভাবে দখলে এনেছিল ব্রিটিশরা। বিশ্বাসঘাতকতার সৌজন্যে প্রভাবশালী রায়দুর্লভ মানিকচাঁদ, জগৎ শেঠ এবং উমিচাঁদ।

ষড়যন্ত্রের শুরু সেই ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ
অনেকটা পিছনে গেলে ছবিটা আরও স্পষ্ট হতে পারে। ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ, টমাস রো কোম্পানিকে চিঠি লিখেছিলেন, আর যাই হয়ে যাক তাদের এই কম সৈন্য নিয়ে স্থলভাগে লড়াই করা যাবে না। তিনি স্পষ্ট বলে দেন, “যদি লাভজনক বাণিজ্য করতে চান তবে তা শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করুন আর সমুদ্রে আপনাদের কার্যক্রম সীমিত রাখুন। বিতর্ক পরিত্যাগ করে এটা নিয়ম হিসেবে গ্রহণ করাই ভালো যে ভারতে স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।”

স্থলপথে ভারত দখলের পরিকল্পনা
১৬৮১ সালে স্যার জোসিয়া চাইল্ড কোম্পানি পুরনো নীতি ভুলিয়ে স্থলপথে ভারত দখলের পরিকল্পনা করে। দিল্লির সম্রাটদের সঙ্গে কিছু যোগাযোগ থাকলেও তাদের আসল লক্ষ্য বাংলা তথা কলকাতার দিকে ছিল। কারণ ঐতিহাসিকরা মনে করছেন, এখানে ছিল গঙ্গা নদী যা বানিজ্যের জন্য অসাধারণ জায়গা।

বিশ্বাসঘাতকতা বিষবৃক্ষ
নবাব আলীবর্দী খাঁ পূর্ব ভারতে কোম্পানির ক্ষমতাকে দমিয়ে রেখেছিলেন। সিরাজ নবাব হওয়ার পর সেই চেষ্টাই করেছিলেন। কিন্তু তাঁর দুর্ভাগ্য তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বাসঘাতকতা এবং বেইমানি। তপন মোহন চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পলাশীর যুদ্ধ’ বই এমন তথ্যই দিচ্ছে। ভিতরে ভিতরে সিরাজকে ফোঁপরা করে দিয়েছিল কলকাতার প্রভাবশালী রায়দুর্লভ মানিকচাঁদ, জগৎ শেঠ এবং উমিচাঁদ। যদিও এদের সবার উপরে অবশ্যই আলীবর্দী খাঁর এক দূর সম্পর্কের বোনের স্বামী মীর জাফর আলী খাঁ।
১৭৫৬, ৯ এপ্রিল নবাব রূপে সিরাজের পদার্পণ। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকেই ‘জঙ্গ’ শুরু হয়ে যায় ইংরেজদের সঙ্গে। প্রতিপদে বনিবনা হতে শুরু করে। ইউরোপে সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধের অজুহাতে বাংলায় ইংরেজ ও ফরাসিদের দুর্গ নির্মাণ শুরু হয় বাংলায়। নবাব এতে বাধা দিলে মেনে নেয় ফরাসিরা। ইংরেজ তা মানেনি। ২০ মে, ১৭৫৬ সালে নবাবকে পাঠানো গভর্নর ড্রেকের চিঠিতে দুর্গ তৈরি বন্ধ করার কোনও উল্লেখ ছিল না। নবাবের পূর্ণিয়া যাওয়ার কথা ছিল।

মানিকচাঁদদের বেইমানিত
বাধ্য হয়ে সিরাজ পুর্নিয়া না গিয়ে মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন। কলকাতায় ইংরেজদের দমনের উদ্দেশে সসৈন্যে যাত্রা করেন। ১৭৫৬-র ২০ জুন কলকাতার দুর্গ নবাব সিরাজউদ্দৌলার দখলে আসে। গভর্নর ড্রেক ও অন্যান্য ইংরেজ কলকাতা ছেরে পালায়। তবে তাদেরকে টিকিয়ে রাখে প্রভাবশালী হিন্দু উমিচাঁদ, জগৎ শেঠ, রায়দুর্লভ মানিক চাঁদ এবং শোভাবাজার রাজ বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা রাজা নবকৃষ্ণ দেব।

২৭ ডিসেম্বর, ১৭৫৬ সাল , ফের ইংরেজ সৈন্য ও নৌবহরের কলকাতা দখলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এবং ২ জানুয়ারি, ১৭৫৭ সাল , মানিকচাঁদদের বেইমানিতে ইংরেজেরা কলকাতা আবারও দখল করে নেয়। সিরাজ আবারও কলকাতার পথে আসেন। জানুয়ারির শেষের দিকে তিনি হুগলী পৌঁছতেই কলকাতা ছেরে পালায় ক্লাইভের বাহিনী। তবে এবার আগের মতো পুরো সরে যায়নি তারা।

৫ ফেব্রুয়ারি, কলকাতায় সিরাজের শিবির আমির চাঁদের বাগানে আক্রমণ করে ক্লাইভ ও ওয়াটসন। সিরাজের পাল্টা হামল করেন। ক্লাইভরা নবাব শিবির দখল করতে পারেনি। তবে ওই চার জনের সহায়তায় তারা ভিতরে ভিতরে বেশ শক্তিশালী। সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক অবশ্য সিরাজের রাজ বাড়িতেই ছিল।

শেষ পরিনতি
এরপর সিরাজের সঙ্গে সরাসরি ইংরেজদের লড়াই পলাশির যুদ্ধে। সিরাজের ৫০ হাজার সৈন্য হেরে গেল ইংরেজদের ৩০০০ সৈন্যের কাছে যাদের অধিকাংশই আবার স্থানীয় ভাড়া করা সৈন্য। এখানেই বড় চাল চেলেছিলেন মির জাফর। ৫০ হাজার সৈন্যের বেশীরভাগই থেকেও লড়লেন না।

অতঃপর বাংলা দখলে সক্ষম ইংরেজ এবং কলকাতাও স্বাভাবিকভাবেই দখলে। পরে কলকাতা পরাধীন ভারতের রাজধানী যা বাংলার হয়েও প্রভাবশালী মানিকচাঁদ, জগৎ শেঠ এবং উমিচাঁদদের বিশ্বাসঘাতকতায় ধীরে ধীরে চলে গিয়েছিল ইংরেজদের হাতে।

প্রসঙ্গত, বাংলা দখলের পর শোভাবাজারে শুরু হয় বিখ্যাত দুর্গাপুজো। যা আজও আড়ম্বর সঙ্গে পালিত হয়। রাজা হন নবকৃষ্ণ। প্রচুর সম্পত্তি নিয়ে প্রতিপত্তি লাভ করন হাওড়ার আন্দুলের রাজ পরিবার।

তথ্যসুত্র : তপন মোহন চট্টোপাধ্যায়ের লেখা পলাশীর যুদ্ধ বই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow