সর্বশেষ সংবাদ

রাজশাহীতে বছরের প্রথম শিলাবৃষ্টি-আমসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি


মঈন উদ্দীন, রাজশাহী: রাজশাহীতে রোববার ভোরে বছরের প্রথম শিলাবৃষ্টি হয়েছে। ভোর ছয়টা ২০ মিনিটের দিকে এ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কোনো কোনো স্থানে শিলাবৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি আমের মুকুলের ক্ষতি হয়েছে অনেক। আবার কোথাও বৃষ্টিতে ফসলের কিছুটা ভালো হয়েছে। রাজশাহী নগরীতে শিলা বৃষ্টি হলেও জেলার অনেক স্থানে শিলা হয়নি। তবে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ধরে আকাশ মেঘলা হয়ে আছে। এ ফলে আজকে ভোরের বৃষ্টি হয়।
জেলার দুর্গাপুরের মারিয়া গ্রামের লালু বলেন, এদিকে হালকি বৃষ্টি হলেও শিলা হয়নি। তবে বৃষ্টিতে ফসলের উপকার হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতিও হয়েছে। জেলার পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর, বারপাখিয়া, বাসুদেবপুর, ধোপাপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে সবুজ নামের এক কৃষক সিল্কসিটি নিউজকে জানান। কৃষকরা সরকারের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের রায়পুর এলাকার আম ব্যবসায়ী শামসুল হক জানান, আজকের শিলাবৃষ্টির আঘাতে আমের মুকুল ঝরে পড়ায় চরম লোকসান গুনতে হবে তাদের। আম গাছে মুকুল যে পরিমাণ এসেছিল তাতে অন্যান্য বছরের লোকসান অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু আজকের শিলাবৃষ্টিতে তাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, আজ ভোর ৪টা ৪০ মিনিট থেকে ৫টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত এই শিলাবৃষ্টি স্থায়ী ছিল। এ সময় বজ্রপাতও হয়েছে। তবে বৃষ্টির সময় ঝড়ো হাওয়া ছিলনা। ভোরের এই ৩৮ মিনিটে রাজশাহীতে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে৷ আকাশে এখনও মেঘ রয়েছে৷ তাই আবারও বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানান আবহাওয়া অফিসের এই কর্মকর্তা।

রাজশাহীতে নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস গাছের আগ্রাসন, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে তানোরবাসী

মঈন উদ্দীন, রাজশাহী: দেশের বরেন্দ্র ভূমিখ্যাত রাজশাহীর তানোরে আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কের পাশে, ফসলি জমির আইল, বসতঘরের আঙিনাসহ প্রায় সবখানেই নিষিদ্ধ ইউক্যালিটাস গাছের আগ্রাসন। সবধরনের মাটিতে স্বল্পখরচে অল্প জায়গায় দ্রুত বর্ধনশীল এই গাছের প্রতি মানুষের রয়েছে লোভনীয় চাহিদা। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, তানোরের অধিকাংশ আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে ও বাড়ির আঙিনাসহ বিস্তীর্ণ মাঠে বিভিন্ন ফসলের সঙ্গে ব্যাপকভাবে রোপণ করা হয়েছে ইউক্যালিপটাস গাছ। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার সবখানেই শোভা পাচ্ছে এই নিষিদ্ধ গাছ।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্যালিপটাস গাছ মানবদেহ, পোকামাকড় ও পাখিদের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিকর। বসতবাড়িতে অধিক পরিমাণে ইউক্যালিপটাস গাছ থাকলে শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একটি পূর্ণবয়স্ক ইউক্যালিপটাস গাছ ২৪ ঘণ্টায় ভূগর্ভ থেকে প্রায় ৯০ লিটার পানি শোষণ করে। শুধু পানিই নয় খনিজ লবণও শোষণ করে। অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ২০ থেকে ৩০ বছর কোনো স্থানে গাছগুলো থাকলে সেখানে অপর প্রজাতির কোনো গাছ জন্মাতে পারে না। এই গাছে কোনো পাখি পর্যন্ত বাসা বাঁধে না।
জাতীয় ও বঙ্গবন্ধু পদকপ্রাপ্ত কৃষক তানোর পৌরশহরের নূর মোহাম্মদ বলেন, ইউক্যালিপটাস গাছের কারণে জমিতে ধান হয় না। জমি সবসময় খাঁ খাঁ করে। আগে বুঝতে না পারলেও পরে কৃষকরা জেনেছেন ‘ঘাতক’ ইউক্যালিপটাসের ক্ষতিকর কারণ। তানোর পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান বলেন, সরকারিভাবে এ গাছের বনায়ন নিষিদ্ধ হলেও এটি অনেকের কাছে জনপ্রিয়। বিশেষ করে এ দেশের নি¤œ-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজন কাঁচা ও সেমিপাকা ঘর নির্মাণে এ গাছ ব্যবহার করেন। এ গাছটি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ঙ্কর।
এ বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা দেবাশিষ কুমার দে বলেন, পরিবেশ উপযোগী না হওয়ায় ২০০৮ সালে সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে দেশে ইউক্যালিপটাসের চারা উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ করেছে। অথচ উপজেলার আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কের পাশে, ফসলি জমির আইল ও বসতঘরের আঙিনাসহ সবখানেই নিষিদ্ধ ইউক্যালিটাস গাছের আগ্রাসন দেখা দিয়েছে। মানুষ না জেনে ইউক্যালিপটাসের চারা বপন করছেন। এ জন্য সামাজিক সচেতনতা অতীব জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow