সর্বশেষ সংবাদ

স্বীকৃতি পাওয়ার পরই কওমী হক্কানীদের কুকীর্তি

ফকীর শাহ< এশিয়ানবার্তা ডেস্ক>  সরকারী স্বীকৃতি পাওয়ার প্রথম বছরেই কওমী মাদরাসার হক্কানী ওলামাদের কুকীর্তি ফাঁস হয়ে গেছে। প্রথম বছরই দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আগের সবগুলো পরীক্ষা বাতিল এবং আগামী দিনের সবগুলো পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছে কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।

দেশের শীর্ষ হক্কানী আলেমদের সর্বোচ্চ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস সাধারন কোন ঘটনা নয়। কারন সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ার পর এটাই তাদের প্রথম পরীক্ষা। আর প্রথম পরীক্ষাতেই যদি এই অবস্থা হয়,তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে সেটা অনুমান করলে গা শিউরে উঠবে।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে স্বীকৃতি পাওয়ার শুরুতেই দেশের সবচেয়ে হক্কানী আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড এমন এক কুকীর্তিতে জড়িয়ে পড়লো যা কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারেন না। একটা বছরও তাদের ধৈর্য কুলায়নি। স্বীকৃতি পাওয়ার পর এটাই তাদের প্রথম পরীক্ষা। আর সেই প্রথম পরীক্ষাতেই প্রশ্ন ফাঁসের মত কুকর্মে জড়িয়ে পড়লেন তারা।

কওমী আলেমরা শুরুতেই যে কুকর্মে জড়িয়ে পড়ার কৃতিত্ব দেখালেন, তা কাফের মুশরেকদের করতে কমপক্ষে এক যুগ সময় লাগতো।

হাইয়াতুল উলইয়ার অধীনে ৬টি শিক্ষা বোর্ড আছে। দেশের শীর্ষ হক্কানী আলেমদের নিয়ে এই শিক্ষাবোর্ডগুলো গঠিত। সেখান থেকে প্রথম বছরেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাবে এটা মেনে নেওয়া খুবই কঠিন।

আইনগতভাবে গতবছর থেকে সরকারি স্বীকৃতি লাভের পর এই প্রথম কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সবগুলো পরীক্ষা বাতিল হলো। নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে চলমান দাওরায়ে হাদিসের সব পরীক্ষা বাতিল করেছে।

এ বিষয়ে তদন্ত করতে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ এ অথরিটি।

পাঁচ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন- তদন্ত কমিটির আহ্বাবায়ক হাইয়াতুল উলইয়ার সদস্য মুফতি রুহুল আমিন, সদস্য মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া ও মাওলানা মাহফুজুল হক।

শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার মতিঝিলে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসে নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধান্ত নেন।

বৈঠকে দাওরায়ে হাদিসের প্রশ্নপত্র ফাঁস বিষয়ে জরুরি আলোচনা হয় এবং বৈঠকের শুরুতে নেতৃবৃন্দ পেছনের সব পরীক্ষা বাতিল এবং সামনের সব পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।

পরে পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত মতে ২৩ এপ্রিল থেকে আবারও পরীক্ষা শুরু হয়ে ৩ মে শেষ হবে। বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

৬ টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মোট ২৬হাজার ৭শত ২১জন শিক্ষার্থী এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার।

হাইয়াতুল উলইয়ার অধীনে ৬টি শিক্ষা বোর্ড হল- বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ, তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড।

বৈঠকে হাইয়াতুল উলইয়ার অধিভুক্ত ৬ বোর্ডের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমী, মুফতি রুহুল আমিন, মুফতি আরশাদ রাহমানী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা শামসুদ্দিন জিয়া, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মুফতি এনামুল হক, মুফতি নুরুল আমিন, মুফতি জসিমউদ্দিন, মাওলানা নুরুল হুদা ফয়েজী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ৮এপ্রিল থেকে দাওরায়ে হাদিসের পরিক্ষা শুরু হয়। প্রথম দিন থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ওঠলেও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্বীকার করতে চান নি।

শুক্রবার ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়লে জরুরি এ বৈঠকের আয়োজন করে আল হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow