সর্বশেষ সংবাদ

সরকার যাদের ঘুষ দেয়,আমরাও তাদের ঘুষ দেই,আসলে তারাই দেশের মালিক

এশিয়ানবার্তা ডেস্ক < এফ শাহজাহান > সবাই মালিক হতে চায়। শখ করে কেউ কর্মচারী হতে চায় না। সে কারনে পুলিশের পিয়ন হওয়ার জন্য সাড়ে তিন হাজার ডক্টরেট ডিগ্রিধারী আবেদন করে। ৬২ পদের জন্য দরখাস্ত জমা হয় ১ লাখ। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে একটা প্রাইমারি স্কুলের নাইটগার্ড হওয়ার জন্য ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দেয়। প্রাইমারি স্কুলের সহকারি শিক্ষক হওয়ার জন্য ৩০ লাখ টাকা নিয়ে ক্ষমতাধরদের বাড়ি বাড়ি ঘোরে। ৫০ লাখে বিসিএস পার হওয়ার জন্য কামড়া কামড়ি করে।

মুরুব্বীরা ঘাড় কাত করে বলতে থাকেন,আরে বাবা, সরকারি চাকরি না করে নিজে কিছু করলেই তো হয় ?

খোঁজ নিয়ে দেখবেন ঐ মুরুব্বীর চৌদ্দ গোষ্ঠি সরকারি চাকরি করে।

সোলেমান শকুনের মত লাখ লাখ মোটিভেশনাল স্পিকাররা বলে বেড়ান,চাকরির পেছনে না ঘুরে নিজেই চাকরি দেওয়ার ধান্দা করেন।

এতকিছুরও পরও মানুষ ছুটছে সরকারি চাকরির পেছনে। সবাই চায় একটা সরকারি চাকরি। মেয়ের বাবাও খোজে সরকারি চাকরি । ছেলের বাবাও খোজে সরকারি চাকুরি।

বলতে পারবেন কী ? মানুষ কেন এমন করে ?
উত্তরটা খুবই সহজ। একটা সরকারি চাকরি পাওয়া মানেই দুনিয়াতে একটা বেহেশত পাওয়া। সরকারি চাকরি পাওয়া মানেই দেশের মালিক হয়ে যাওয়া। মানুষ দেশের মালিক হওয়ার জন্যই এমনটা করে।

তাহলে দেশের মালিক কে?
সহজেই হয়তো ছোটবেলা থেকে শিখে আসা সেই বুলি ঝেড়ে দিবেন। হুট করেই বলে দিবেন দেশের মালিক জনগণ। শুরুতেই প্রতারণা। কতবড় একটা মিথ্যা কথা এতদিন ধরে লালন করে আসছেন আপনি। লেখাপড়া শিখেছেন অথচ চোখমুখ খোলেনি। একবারও বুঝতে চেষ্টা করেন নি যে,জনগন দেশের মালিক নয়। জনগন দেশের ফেরারি আসামী।

তাহলে কারা দেশের মালিক  ?
এবার হয়তো মাথা চুলকিয়ে বলবেন,সরকারই দেশের মালিক।
এখানেও ঘাপলা। সরকার দেশের মালিক নয়। সরকার হচ্ছে দেশের ফড়িয়া। মানে মধ্যস্বত্ত্বভোগী। চোরের মালও খায়,সাধুর মালও খায়। সরকার যদি দেশের মালিক হত, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হতো না। সরকার যদি দেশের মালিক হত,তাহলে সুইস ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা জমতো না।

তাহলে দেশের মালিক কে ?

সরকারি চাকরীজীবীরা। হ্যাঁ,সরকারি চাকরিজীবীরাই দেশের মালিক। দেশের জনগন যেমন তাদের ঘুষ দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়,তেমনি সরকারও তাদের ঘুষ দিয়ে নিজেদের গদিটা রক্ষা করার কোশেশ চালিয়ে যায়। সরকার সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে আমলাদের হাতে রাখে। কারন ,আমলারা রাজি খুশি থাকলে সরকারের বহাদুরিটা দীর্ঘজীবী করা সহজ হয়।

সরকার নিজেই তাদের ঘুষ দেয় এধারকা মাল ওধার করার জন্য। গদি টিকে রাখার জন্য।

সরকার কীভাবে ঘুষ দেয় সরকারি চাকরিজীবীদের ?
সরকার কর্মচারীদের ২০ হাজার টাকার বেতন একলাফে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করে দেয়। জনগনের কাজ বন্ধ করে দিয়ে সপ্তাহে ২দিন মজা করার জন্য ছুটি দেয়। মাসে ২বার করে বোনাস দেয়। উৎসবে আনন্দ ফুর্তি করার জন্য মোটা অংকের ভাতা দেয়,পানির দামে রেশনের মাল দেয়।

একজন সরকারি কর্মকর্তা ৩০ হাজার টাকা থেকে যখন ৯০ হাজার টাকা বেতন পাওয়া শুরু করেন,তখন তাকে আর বলতে হয় না যে আমিই দেশের মালিক। আম জনতাই তাকে সালাম দিয়ে বলে,স্যার আপনিই দেশের মালিক।

সরকারি চাকরিজীবীরা যখন বাজারে ঢোকে তখন আর সবাই হা করে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। কারন,২শ টাকার জিনিস ৪শ টাকা দিয়ে অনায়াসে কিনে নিয়ে যায় সরকারি স্যারেরা।২০ টাকার পোটল হয়ে যায় ৮০ টাকা। তখন দোকানীরা ২৫ টাকার আড়াইশ গ্রাম মাছের দাম চেয়ে বসেন ১শ টাকা।

একজন সরকারি চাকরিজীবী যখন বৈশাখী ভাতা পেয়ে মাথায় নতুন গামছা বেঁধে বটতলায় পান্তা ইলিশ খায়,তখনও কী আপনি বুঝতে পারেন না যে,এরাই দেশের মালিক ?

একটা সরকারী চাকরী মানেই দুনিয়ার একটা বেহেশত পাওয়া। আর ব্যবসা বাণিজ্য করা মানেই দোযখের আগুনে জ্বলতে থাকা। বেসরকারি চাকরি মানেই রক্ত পানি করা।

সরকার এখন রীতিমত ঘুষ দিয়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের হাতে রাখার কোশেস করছে। সে কারনে দুনিয়ার যত সুযোগ সুবিধা সবই সরকারী চাকরীতে দেওয়া হচ্ছে। আর সেজন্যই যে কোন কিছুর বিনিময়ে মানুষ একটা সরকারি চাকরি জোটানোকেই জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য মনে করছে।

আগে সরকার তার কর্মচারীদের ঘুষ দিত না। শুধু জনগনই তাদের ঘুষ দিত।

সে কারনে আগেকার দিনে জনগনই সরকার পাল্টাতে পারতো।

এখন সরকারী কর্মচারীদের সরকারও ঘুষ দেয়,জনগনও ঘুষ দেয়। তাই তারাই দশর মালিক হয়ে বসেছে।

একারনে এখন আর জনগন সরকার পাল্টাতে পার না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow