সর্বশেষ সংবাদ

রাজবাড়ীর ৩ উপজেলায় আঃলীগের প্রতিপক্ষ আঃলীগ

এম,মনিরুজ্জামান,রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর তিন উপজেলা পরিষদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ভাবে কোন কঠোর নির্দেশনা না থাকায় চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে তিন উপজেলার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মাঝে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। আর প্রতীক পাওয়ার তারা চষে বেড়াচ্ছেন ভোটের মাঠ। প্রচারনায় এখন বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে অন্যান্য দলের তৃণমুল কর্মীরা যোগ দেয়ায় তিন উপজেলার ভোটের মাঠে প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ হয়ে উঠেছে।
ওই সব বিদ্রোহী প্রার্থীরা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন চাচ্ছে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে উৎসব মুখোর। তাছাড়া বিএনপি’র প্রার্থীরা নেই এ নির্বাচনে। যে কারণে এ নির্বাচনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূলত প্রার্থী হয়েছে আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। তাই এ নির্বাচনে যেই বিজয়ী হোকনা কেন, সেতো আওয়ামী লীগের নেতারাই বিজয়ী হচ্ছেন। ফলে তারা দলীয় প্রার্থীকে ছাড় দেয়াতো দুরের কথা, নির্বাচন থেকে এক চুলও নড়বেন না। বরং দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ীর বেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা।
জানাগেছে, তৃতীয় ধাপে রাজবাড়ী জেলার সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা ও বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যেই এই চারটি উপজেলায় ৮জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়পত্র বৈধ বলে ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন।তারা এখন ভোটের মাঠ চষে বোড়াচ্ছেন। এর মধ্যে গোয়ালন্দ উপজেলায় জাপার প্রার্থী তার মেনোনয়ন পত্র তুলে নেয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
তবে সদর উপজেলায় আওযামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও রাজবাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ক্রীড়াবিদ শফিকুল ইসলাম শফি-এর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এসএম নওয়াব আলী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাডঃ ইমদাদুল হক বিশ^াস। পাংশা উপজেলায় আঃলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম শফিকুল মোর্শেদ আরুজের বিপরীতে বিদ্রোহি প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরিদ হাসান ওদুদ মন্ডল। বালিয়াকান্দি উপজেলায় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ও রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি মোঃ জিল্লুল হাকিমের চাচাতো ভাই মোঃ এহসানুল হাকিম সাধন প্রতিদ্বন্দীতায় লিপ্ত হয়েছেন। এছাড়া বালিয়াকান্দি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (প্রাতীক আম) মোঃ আশরাফ মোল্লাও প্রার্থী হয়েছেন।
পাংশা উপজেলায় আওযামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক অধ্যক্ষ একেএম শফিকুল মোর্শেদ আরুজ জানান, তার এলাকায় ইতোমধ্যে নির্বাচনী আমেজের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি যাচ্ছেন এখন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ফলে তিনি বিজয়ের ব্যাপারে পুরোপুরি আশাবাদী।
তবে বিদ্রোহী প্রার্থী ও পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ হাসান ওদুদ মন্ডল জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে দলীয় কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের এবার দলীয় কোন শৃঙ্খলের মধ্যে পড়তে হচ্ছে না। তাই নির্বাচন থেকে সড়ে তিনি যাবেন না। বিগত পাঁচ বছর সফলভাবে পাংশা উপজেলার দক্ষ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে ১০টি ইউনিয়নে কাজ করায় সাধারন ভোটারদের সাথে তা র নিবিড় সর্ম্পক রয়েছে। তিনি এবার আনারস মার্কায় স্বতস্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি করেছেন। অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে তিনি বিজয়ী হবেন বলে সাংবাদিকদের জানান। যে কারণে তিনি ঘরে বসে নেই, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সর্বত্র চালাচ্ছেন প্রচারনা। যাচ্ছেন ভোটারদের বাড়ী বাড়ী।
বালিয়াকান্দি উপজেলায় আওয়াশী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ এহসানুল হাকিম জানান, আগামী ২৪ মার্চ হবে তার উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। তাছাড়া পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি ও জেলা আওয়াশী লীগের সভাপতি মোঃ জিল্লুল হাকিমও কয়েক দিনের মধ্যেই তুরস্ক ও জার্মানী সফরে যাবেন। দেশে ফিরবেন তিনি আগামী ২৮ মার্চ। ফলে তিনি তার মত করে এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছেন। মাঠে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাই বিপুল ভোটে তিনি বিজয়ী হবেন এটাই তার কামনা।
সদর উপজেলার দুই বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম নওয়াব আলী এবং এ্যাডঃ ইমদাদুল হক বিশ^াস জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হবার লক্ষ নিয়েই তারা এগুচ্ছেন। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ারদিন থেকেই তারা যাচ্ছেন সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। যদিও ভোটাররা নিরাশ করছেন না, দিচ্ছেন তাদের ভোট দেবার প্রতিশ্রতি। ফলে তারা বিপুল ভোটে হবেন বিজয়ী, এমনটাই তাদের আশা।এর মধ্যে এসএম নওয়াব আলী জানান,একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন বোর্ডে গিয়েছিলেন,তখন উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতিক পাওয়ার আশায় সংসদ নির্বাচন করেন নাই। তবে তিনি এবার সদর উপজেলায় বিজয়ের ব্যাপারে একশ’ভাগ আশাবাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow