সর্বশেষ সংবাদ

“বন্দুকযুদ্ধে”৫ জেলায় নিহত ৮: ১০ দিনে নিহত হলেন ৫৬ জন

এশিয়ানবার্তা: পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানের সময় গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চার জেলায় নিহত হয়েছেন আরও ছয়জন। নিহত ব্যক্তিরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মাগুরায় পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনের লাশ উদ্ধার করেছে বলে দাবি করে। তারা জানায়, দু দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলিতে এ দুজন নিহত হয়েছে।

এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় ১০ দিনে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেন ৫৬ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, তাঁদের মধ্যে ৫০ জনই মাদক ব্যবসায়ী।

পুলিশ জানায়, গতকাল রাতে বন্দুকযুদ্ধের পর প্রতিটি ঘটনাস্থল থেকেই ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, পিস্তল, গুলিসহ দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গত শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, সরকার মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) নীতি অবলম্বন করেছে। এর আগে র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ১৪ মে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে মাদক কেনাবেচায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

ফেনী: পুলিশ জানায়, কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী মাদক বেচাকেনার উদ্দেশ্যে উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা দক্ষিণ জাম্মড়া গ্রাম এলাকায় জড়ো হয়েছেন-এমন খকর আসে। এরপর পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলিবিনিময় হয়। এতে ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের মন্তলা গ্রামের মনির হোসেন (৩২) ও আনন্দপুর ইউনিয়নের মাইজগ্রামের বাসিন্দা শাহমিরান ওরফে শামীম (৩০) নিহত হন।।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, দুজনই মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ১০টি করে মাদকের মামলা রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলামের ভাষ্য, সিদ্ধিরগঞ্জের সানাড়পাড়, মৌচাক, নিমাই কাঁসারী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলছিল। দক্ষিণ নিমাই কাঁসারী এলাকায় পৌঁছালে সংঘবদ্ধ একটি দল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। ২০ থেকে ২৫টি গুলিবিনিময়ের পর একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সেখানেই মারা যায়। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পরে নিহত ব্যক্তিকে পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ফেন্সি সেলিম (৩২) বলে শনাক্ত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

ফেন্সি সেলিমের বাড়ি বাগমারা সানারপাড় এলাকায়। নজরুল ইসলাম জানান, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনিসহ সহপরিদর্শক (অপারেশন) আজিজুল হক, উপপরিদর্শক ইব্রাহীম, কনস্টেবল সাইদুল ও জাহাঙ্গীর আহত হয়েছেন। তাঁরা খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: পুলিশের ভাষ্যমতে রাত দুইটায় মাদকবিরোধী অভিযানকালে আখাউড়ার ধরখার-মোগড়া সড়কের বনগঞ্জ এলাকায় আমির খাকে (৪২) আটক করে পুলিশ। এ সময় তাঁর সহকারীরা তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্য পাল্টাপাল্টি গুলি বিনিময় হয়। এ সময় পুলিশের এএসআই মোশাররফ হোসেন, কনস্টেবল ইকবাল হোসেন, আবু সাইদ আহত হয়েছেন। তাঁদের আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলেই মারা যায় আমির খা। তাঁর বাড়ি আখাউড়ার উত্তর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামে।
কসবা-আখাউড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল করিম বলেন, আমির খার বিরুদ্ধে একটি হত্যা, ৯টি মাদক ও ২টি চোরাচালান মামলা রয়েছে। তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী।

মাগুরা: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, রাত একটার দিকে পুলিশ খবর পায় পৌরসভার পারনান্দুয়ালী হাউজিং প্রজেক্ট এলাকায় দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলি চলছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পৌঁছানোর আগেই গোলাগুলি থেমে যায়। পরে ঘটনাস্থলে দুই ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। তাঁদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, ওই দুজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মাথায় গুলি লেগেছিল।
নিহত দুজন হলেন পৌরসভার নিজনান্দুয়ালী গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে কালু (৪৪) ও ভায়না টিটিডিসিপাড়ার আইয়ুব শেখ (৪৫)।
পুলিশ জানায়, দুজনই মাগুরার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। আইয়ুব শেখের বিরুদ্ধে ২১টি এবং কালুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৮টি মামলা রয়েছে।

কুমিল্লা: মাদকবিরোধী অভিযানে কুমিল্লায় মাদক মামলার দুই আসামি বাবুল মিয়া ওরফে লম্বা বাবুল (৩৫) ও মো. রাজিব (২৬) নামের দুই মাদক মামলার আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বাবুলের বাড়ি চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার বৈদ্দেরখিল এলাকায়। আর রাজিবের বাড়ি কুমিল্লা নগরের ২৩নং ওয়ার্ডের চাঙ্গিনী এলাকায়। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত একটায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমানগন্ডায় ও রাত আড়াইটায় কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার গোয়ালমথন এলাকায় পৃথক এই বন্দুকযুদ্ধ হয়। উভয় অভিযানে  পুলিশ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করে। পুলিশের দাবি, তাঁরা পেশাদার মাদক বিক্রেতা, মাদক মামলার আসামি।

অারও পড়ুন :-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow