সর্বশেষ সংবাদ

আজ হোয়াইটওয়াশ মিশন

এশিয়ানবার্তা: ‘বাংলাওয়াশ’ জিগির ওঠেনি এবার সিরিজের আবহে। অতি ব্যবহারে ক্লিশে হয়ে গেছে বলেই হয়তোবা। কিংবা জিম্বাবুয়ের মতো দলের বিপক্ষে অমন অর্জনে শব্দটির গৌরব যথাযথভাবে প্রকাশিত না হওয়ার কারণে। এমন দুর্বল দলের সামনে বাংলাদেশের ক্রিকেটযোদ্ধাদের প্রবল হয়ে ওঠাই যে প্রত্যাশিত! সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে, আজ তৃতীয় ম্যাচে তা পূর্ণতার পালা।

তাতে বাংলাওয়াশ না হোক, জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ তো করা হবে! বাস্তবের উসকানি ছাড়া কল্পনা পাখা মেলে না। সিরিজ শুরুর আগে সর্বজয়ের যে ভাবনা, সেটিও বাস্তবতাবিবর্জিত ছিল না একেবারে।

ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের হুংকারের সামনে জিম্বাবুয়ের কুঁকড়ে যাওয়াই তো স্বাভাবিক। যদিও সাধারণের এ ধারণার সঙ্গে মেলে না অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার চিন্তা। সেটিই তৃতীয় ওয়ানডের আগে কাল চট্টগ্রামের টিম হোটেলে মনে করিয়ে দেন তিনি, ‘আমার মনে হয়েছিল, জিম্বাবুয়েকে হারানো কঠিন হবে। কারণ তাদের দলে সব অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাই ফিরে এসেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে খুব ভালো খেলা মুর যখন সাত নম্বরে, তখন এই ব্যাটিং অর্ডার দেখে ভেবেছি, আমাদের কাজ সহজ হবে না। এখনো সিরিজে এক ম্যাচ আছে। খুব বেশি কিছু তো বলা যায় না। তবে সিরিজ জিতে যাওয়ায় বলতে পারেন একটি শান্তির জায়গা আছে। এখন একটু রিল্যাক্স লাগছে।’ তাই বলে প্রতিপক্ষকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুখোমুখি হওয়া দুর্বলতম দলগুলোর মধ্যে রাখতে নারাজ মাশরাফি। বিশেষত নিজেদের দলে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল না থাকায় জিম্বাবুয়ে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে বলেও জানান অধিনায়ক, ‘সাকিব-তামিম ছাড়া খেলায় ওদের অভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে লড়াই হবে ভেবেছিলাম। হয়তো এশিয়া কাপে আমরা দারুণ খেলার কারণে এবং খুব দ্রুতই মাঠে নেমেছি বলে সে রেশটি রয়ে গিয়েছে। আর দলের ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাসও এখন অনেক বেশি। এটাই ক্রিকেটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; কে খেলছে না খেলছে তার চেয়েও বেশি। আমাদের সেই আত্মবিশ্বাসের কারণেই জিম্বাবুয়ের কাজ কঠিন হয়ে গিয়েছে।’

তৃতীয় ওয়ানডের আগে চট্টগ্রামে হোটেলেই বিশ্রামে সময় কাটিয়েছেন বাংলাদেশ দলের বেশির ভাগ সদস্য। প্রথম দুই খেলায় একাদশের বাইরে থাকা চার ক্রিকেটারের সঙ্গে দলে যোগ দেওয়া সৌম্য সরকার যান মাঠের অনুশীলনে। বিশ্বকাপের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁদের ম্যাচ খেলার প্রয়োজনীয়তার কথা মানে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। সিরিজ জয় নিশ্চিত হওয়ার পর শেষ ওয়ানডেতে সে সুযোগটা নেওয়ার কথাও গত কদিনে শোনা গেছে স্বাগতিক ক্যাম্প থেকে। কিন্তু তৃতীয় ওয়ানডের আগে একটু যেন স্ট্যান্স বদল অধিনায়ক মাশরাফির, ‘আসলে সব জায়গায় দেখার প্রয়োজন নেই। একজন অলরাউন্ডার প্রয়োজন ছিল, সেখানে সাইফুদ্দিন ভালো করেছে। আর সাকিব-তামিমরা ফিরলে ব্যাটিং অর্ডারে প্রথম ছয়ে পরিবর্তনের তেমন সুযোগ নেই। হয়তো দু-একজন ক্রিকেটারকে দেখা যেতে পারে।’ পরিবর্তনের চেয়ে বরং বিশ্বকাপ ভাবনায় থাকা ক্রিকেটারদের বেশি বেশি খেলিয়ে পরখ করার পক্ষে অধিনায়ক, ‘বিশ্বকাপের আগে খুব বেশি ম্যাচ নেই। তাই যাদের নিয়ে ভাবছি, তারা ফর্মে না থাকলেও ওদের খেলিয়ে খেলিয়ে আরো ভালোভাবে প্রস্তুত করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই মানসিক সমর্থন তাদের দেওয়া যেতে পারে। কারণ আট মাসে বিকল্প কাউকে তৈরি করা যায় না।’

তবে এশিয়া কাপ থেকে দলের সঙ্গে থেকেও একাদশে সুযোগ না পাওয়া আরিফুল হকের ম্যাচ খেলাটা জরুরি বলে মানেন মাশরাফি। ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ওয়ানডেই শূন্য রানে আউট হওয়া ফজলে মাহমুদকে আরেকটি সুযোগ দেওয়া যেতে পারে মত দিয়েও সৌম্যর কথা দেন মনে করিয়ে। বোঝেন পেসার আবু হায়দারকে খেলানোর প্রয়োজনীয়তা। আবার মুশফিকুর রহিম, মাহমুদ উল্লাহদের মতো পরীক্ষিত ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সম্ভাব্য উল্টো ফলের কথাও বলেন মাশরাফি, ‘কাউকে বিশ্রাম দেওয়ার ক্ষেত্রে ওই ক্রিকেটার কী চায়, তা গুরুত্বপূর্ণ। মুশফিক আগের ম্যাচে ৪০ রানে অপরাজিত ছিল, ও মনে করছে খেলতে থাকলে ওর ফর্মের জন্য সুবিধা হবে। রিয়াদ প্রথম ওয়ানডেতে রান করেনি, দ্বিতীয় খেলায় ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায়নি ও, ও খেলতে চাইবে। একাদশে তাই অনেক পরিবর্তন না এনে এক-দুই জায়গা নিয়ে চিন্তা করা যেতে পারে।’

চিন্তার একটি জায়গায় শুধু পরিবর্তন আসেনি কোনো—আজ জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে জিততে হবে সিরিজের সব ম্যাচ। তাতে বাংলাওয়াশ না হলো, হোয়াইটওয়াশই সই!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow