সর্বশেষ সংবাদ

প্রতিনিধিদের মারা-ধরা টাকায় চলছে দেশের অধিকাংশ টিভি চ্যানেল

ফকীর শাহ < এশিয়ানবার্তা ডেস্ক> দেশে টেলিভিশন বিপ্লব ঘটেছিল শুন্য দশকে একুশে টিভির হাত ধরে। আর সেই বিপ্লব বিকশিত হয়েছিল খবরকে কেন্দ্র করে। টেলিভিশনের খবর ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় বিনোদনের অনুষঙ্গ। রীতিমত এই খবর বিপ্লবের ফলে টিভির সাংবাদিকরা নায়ক বনে গিয়েছিলেন। মানুষের আকর্ষন আর ভালাবাসাও পাচ্ছিলেন তারা।
খবরের শানশওকত আর জৌলুস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকতার মান মর্যাদাও বেশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। বাড়ছিল বেতন-ভাতাও।  হু হু করে বাড়ছিল টিআরপি। সেইসাথে বাড়ছিল কর্পোারেট কারবারিও । বিজ্ঞাপন দাতাদের আগ্রহে দিনকে দিন প্রসারিত হচ্ছিল মিডিয়া ইন্ড্রাস্ট্রির ব্যবসাসায়। নতুন সম্ভাবনার উদয় হচ্ছিল। এককথায় রমরমা অবস্থা। তাই রাতরাতি পলিথিন কারখানার মত গজাতে থাকে হরেক রকমের টেলিভিশন চ্যানেল ।
তারপরের অবস্থা সবারই জানা।
খবরের নামে গবরের গালগল্প, দলদাস মাথামোটা চিন্তকদের টকশো আর দলকানা সাংবাদিকদের লেজুড়বৃত্তির কারনে জৌলুস হারিয়েছে সেই টিভি সাংবাদিকতা। এখন আর মানুষ টেলিভিশনের খবর দেখেন না। কর্পোরেট কারবারিরাও পিছু হটেছেন। হুহু করে পড়ে গেছে টিআরপি। পিছটান দিয়েছেন বিজ্ঞাপন দাতারা। ফলে হাতে গোনা কয়েকটি টিভি চ্যানেল ছাড়া বাদবাঁকীগুলোর অবস্থা খুবই সংকটাপূর্ণ।
হাতে গোনা কয়েকটি টিভি চ্যানেল ছাড়া  টাকার অভাবে বাদবাঁকী চ্যানেলে বন্ধ হয়ে গেছে সাংবাদিকের বেতন-ভাতা। দুটি চ্যানেল তাদের সংবাদ বিভাগ বন্ধ করে দিয়ে সাংবাদিকদের চাকরি ছাড়ার নোটিশ দিয়েছে। সেইসাথে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে সম্ভাবনাময় এই মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে।
মাত্র ১০ বছরেই টেলিভিশন সাংবাদিকতার এই অধপতনের দায় কার, সেটা বড় কথা না হলেও, এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় রকমের দুর্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিধিদের মারা-ধরা টাকায় চলছে দেশের অধিকাংশ টিভি চ্যানেল । একারনে খেয়ে পরে বাঁচার তাগিদে বাধ্য হয়ে তারা ঝুঁকছেন বিবেকবর্জিত অন্যায় অপকর্মে।
মফস্বলের সহজ সরল এ্যাডভেঞ্চার প্রিয় তরুনদের টার্গেট করে টুপাইস কামাইয়ের ধান্দা ফেঁদে বসেছে বেশ কিছু টিভি চ্যানেল। গলায় একটা পরিচয়পত্র ঝু্লানো,হাতে একটা ডান্ডি (বুম) ধরানোর লোভ দেখিয়ে বেশ পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে কিছু টেলিভিশন চ্যানেলের তথাকথিত হর্তাকর্তারা।
প্রতিটি জেলা প্রতিনিধির কাছ থেকে ১লাখ থেকে ৫০ হাজার আর উপজেলা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ২০-৩০ হাজার করে টাকা নিয়ে একটা বুম আর পরিচয়পত্র ধরিয়ে দিচ্ছেন তারা। এরপর সেইসব প্রতিনিধিরা এলাকায় এসে মানুষকে ব্লাকমেইল করে,হুমকী ধামকী দিয়ে টুপাইস কামাচ্ছেন । আর সেখান থেকে একটা অংশ পাটাচ্ছেন চ্যনেলের কর্মকর্তার বিকাশ একাউন্টে। এভাবেই প্রতিনিধদের মারা ধরা টাকায় চলছে বেশ কিছু টিভি চ্যানেল।
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল পালাবদল ডটনেট তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, দেশীয় স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলো দারুণ অর্থ সংকটে পড়েছে। কয়েকটি চ্যানেল ছাড়া সিংহভাগই ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এ কারণে অনেক চ্যানেলের বেতন-ভাতা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। এ বছর আরও কয়েকটি চ্যানেল এ ধারায় যুক্ত হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন টিভি চ্যানেল সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞাপন কমে যাওয়াই এ সংকটের মূল কারণ। বিজ্ঞাপন কমায় চ্যানেলগুলোর আয় কমেছে। আয় কমার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কর্মীদের-বেতন ভাতায়। সহসা এর প্রভাব থেকে মুক্ত হবার কোনো উপায় দেখছে না টিভি সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টিভি কর্মকর্তা বলেন, এখন চ্যানেলগুলোর অবস্থা দিন আনি দিন খাই-এর মতো। যা কিছু আমাদের আয় হচ্ছে তাই খরচ হয়ে যাচ্ছে। বাড়তি কোনো অর্থ হাতে থাকছে না।
তিনি বলেন, আসলে আমাদের দেশের টিভি চ্যানেলগুলো যারা করেন তারা খরচ কিভাবে কমাতে হয় তা জানেন না। যাদের বুদ্ধিতে চ্যানেলগুলোর যন্ত্রপাতি কেনা হয়- তারা মূল্যবান যন্ত্রাদি গছিয়ে দিচ্ছেন- যা না হলেও চলত। শুরুতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খরচের লাগাম আর কারো পক্ষেই টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছে না।
টিআরপিতে এই মুহূর্তে দেশের শীর্ষ চ্যানেল দুরন্ত। চ্যানেল সূত্রে জানা গেছে- তারা যা আয় করছে তাই দিয়ে বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য খরচ মেটানো হচ্ছে। কোনোভাবে তাদের চলে যাচ্ছে। মালিককে এ খাতে আর নতুন করে অর্থলগ্নি করতে হচ্ছে না এটাই সবচেয়ে বড়প্রাপ্তি।
নতুন করে লগ্নি করতে হচ্ছে না এমন চ্যানেল হাতে গোণা কয়েকটি। বাকি চ্যানেলগুলোর হয় বেতন-ভাতা বাকি পড়েছে অথবা চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে নিজেদের অন্য ব্যবসা থেকে টাকা এনে চ্যানেলে দিতে হচ্ছে।
দেশীয় চ্যানেলগুলোর এখন যা অবস্থা তা নি|সন্দেহে এ খাত দারুণ সংকটের মধ্যে রয়েছে।
আশার কথা হচ্ছে মন্ত্রণালয় টিভি চ্যানেল নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে। এরইমধ্যে বিদেশি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন বন্দের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শিগগিরই সব দেশের সব চ্যানেল পে চ্যানেল হবে বলে ঘোষণা এসেছে।
তবে নতুন এ প্রক্রিয়ায় দেশি চ্যানেলগুলো আশার আলো দেখতে পারবে কিনা সেটিই প্রশ্ন।

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow