সর্বশেষ সংবাদ

বিজিবি ও বিজিপির পতাকা বৈঠক সম্পন্ন 

কায়সার হামিদ মানিক,কক্সবাজার।
এবার স্লুইচ গেইট নির্মাণ করছে মিয়ানমার। মিয়ানমার সীমান্তে তুমব্রু খালে পিলার ও স্লুইচ গেইট নির্মাণের কারণে শূন্যরেখার পাশাপাশি ঘুমধুম পানিতে তলিয়ে যাবে বলে দাবি স্থানীয়দের। দু’দেশের দুটি সীমান্ত বিওপি থাকা সত্ত্বেও চোরাচালান ও সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশের দোহাই দিয়ে মূলত শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গাদের সরাতে এমন পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রোহিঙ্গাদের।
বৃস্পতিবার বিজিবি ও বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠকে স্থাপনা নিমার্ণের পরও দু’দেশের পানির গতিপথ স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত হলেও, স্লুইচ গেইট পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বিজিপির কাছে লিখিত চেয়েছে বিজিবি।
বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের তুমব্রু খাল। সেই খাল দিয়ে দু’দেশের পানি প্রবাহিত হয়। কিন্তু হঠাৎ করে চোরাচালান ও সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশের দোহাই দিয়ে এইখালের উপর পিলার নিমার্ণ শুরু করে মিয়ানমার। যা দু’দেশের পানি প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে।
কিন্তু এব্যাপারে বারবার মিয়ানমারকে প্রতিবাদলিপি দেয়া হলেও কোন সাড়া দেয়নি। তবে তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গাদের দাবি, মূলত তাদেরকে শূন্যরেখা থেকে সরাতে খালের উপর এই স্থাপনা নিমার্ণ করা হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের কয়েকজন জানায় তাদেরকে সরাতেই মূলত এটা করা হয়েছে। কেননা এই খাল ছাড়াও অন্য খাল খালি রয়েছে যেগুলোতে এই জাল দেওয়া হচ্ছে না, তাহলে সেগুলোতে কেনো ঘেরা দিচ্ছে না।’
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানালেন, খালে পিলার ও স্লুইচ গেইট নিমার্ণের ফলে শূন্যরেখার পাশাপাশি ঘুমধুম পুরো ইউনিয়নের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে।
বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি ৩নং ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘আগে পানি উঠলে ৭-৮ ঘণ্টার মধ্যে নেমে যেত। এখন পানি উঠলে ৮-১০ দিন থেকে যাবে। পুরো এলাকা প্লাবিত হবে।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে এ বিষয়ে ঘুমধুম জিরো পয়েন্টে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পতাকা বৈঠকে বসে বিজিবি ও মিয়ানমারের বিজিপি। দু’ঘন্টার বৈঠক শেষে স্থাপনা নিমার্ণের পরও দু’দেশের পানির গতিপথ স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে স্লুইচ গেইট পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বিজিপির কাছে লিখিত চেয়েছে বিজিবি।
কক্সবাজার বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু হায়দার আজাদ আহমেদ বলেন, এ ব্যাপারে মিয়ানমারের বিজিপির সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা পুরো কন্সট্রাকশনের ব্যাখা আমাদের দেবে।’
২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের তুমব্রু জিরো পয়েন্টে অবস্থান করছে সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গা। আর ঘুমধুমে বসবাস করছে স্থানীয় ১০ হাজারের অধিক মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow