সর্বশেষ সংবাদ

দীর্ঘ ১৩ বছর পর সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সম্মেলন,জুয়েল সভাপতি- একরাম সম্পাদক নির্বাচিত


সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জে দীর্ঘ ১৩ বছর পর জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি রাশেদ ইউসুফ জুয়েলকে সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল হককে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে জানা যায়, জেলা যুবলীগের ১২টি ইউনিটের ৩৭১ জন ভোটারের মধ্যে ৩৩২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সভাপতি পদে রাশেদ ইউসুফ জুয়েল ২১৩ ভোট পেয়ে বিজীয় হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক এমদাদ পেয়েছেন ১১৪ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে একরামুল হক ১৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আসাদুজ্জামান সোহেল পেয়েছেন ১৪৭ ভোট। এর আগে শনিবার সকাল ১১টায় প্রথম পর্বে শহরের শহীদ এম মনসুর আলী অডিটরিয়ামে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুনুর রশিদ। সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি মঈন উদ্দিন খান চিনুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আবদুল হাকিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না, আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন এমপি, অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল আজিজ এমপি, তানভীর ইমাম এমপি, আলহাজ্ব আব্দুল মমিন ম-ল এমপি, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সাংসদ চয়ন ইসলাম, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আহমেদ নাসীম পাভেল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাজ্জাদ হায়দার লিটন। সম্মেলনের ৩৭১জন কাউন্সিলর ছাড়াও ১৫ হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থক ও ডেলিগেটেরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে দ্বিতীয় পর্বে সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়। এ সম্মেলনকে ঘিরে যুবলীগের ১২টি ইউনিটের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে প্রাণচাঞ্চল্য। সম্মেলনকে ঘিরে ভেন্যু শহীদ এম. মনসুর আলী অডিটোরিয়াম চত্বর, শহরের বাজার স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, ডিজিটাল ব্যানার ও সড়ক-মহাসড়কে নির্মাণ করা হয়েছিল শতাধিক তোরণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারে এবং সোস্যাল মিডিয়ায়ও ‘এমদাদ-একরাম পরিষদ’ ও ‘জুয়েল-সোহেল পরিষদ’র প্রচারণা চোখে পড়ার মতো লক্ষ্য করা গেছে। যুবলীগ ছাড়াও দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীরাও প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য,জেলা যুবলীগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল জেলা যুবলীগের সম্মেলন। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ১৩ বছর। দীর্ঘদিন ২০১৮ সালে দুই দফায় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত তারিখের আগ মুহূর্তেই ওই সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এতে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশী প্রার্থীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে দল গোছানোর সিদ্ধান্ত নেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারকরা। এরই অংশ হিসেবে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তৈরি করতে জেলা-উপজেলা, শহর থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত সকল পর্যায়ের অঙ্গ-সংগঠনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয় সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow