সর্বশেষ সংবাদ

উন্নত সমাজ গঠনে নবীন প্রজন্ম

মোঃ আবু সামা মিয়া (ঠান্ডু) সহকারী অধ্যাপক ও

সাধারণ সম্পাদক

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি

বীরগঞ্জ, দিনাজপুর

প্রত্যেক জাতির ভবিষ্যত নির্ভর করে সে জাতির নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠার উপর কিংবা যোগ্য হয়ে গড়ে উঠার উপর। যে জাতির তরুণ সম্প্রদায় যত বেশি যোগ্য ও দক্ষ হবে সে জাতি তত বেশি উন্নত হবে। তরুণরা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ ও সমাজ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ভবিষ্যতে লক্ষ্যে পৌছানোর পথে এগিয়ে চলে। এ সময় তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখে এবং ধারণ করে। সমাজের ভাল ও খারাপ সব ধরনের উৎস থেকেই জ্ঞান আহরণের একটা উপযুক্ত সময়। নতুন প্রজন্ম বিপথে বা সুপথে পরিচালিত হবে তার নীতি নির্ধারণের বীজ বপিত হয় এই সময়। নতুন প্রজন্ম বিপথে বা সুপথে পরিচালিত হবে তার নীতি নির্ধারনের বীজ বপিত হয় এই সময়। জীবনের বাকি অধ্যায়গুলোতে সে বীজ অঙ্কুরিত হয়ে কেবল শাখা প্রশাখা বিস্তার করে। তাই নবীন বয়সেই মানুষের মূল্যেবোধ তৈরী হয় তা সারা জীবনের ভিত্তি হিসেবে সঠিক শিক্ষা ও পরিচর্যার মাধ্যমে বিকশিত হয়। নবীন প্রজন্ম মূল্যবোধের চেতনার অনুসন্ধানী তারা সুন্দর ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন দেখে। তারা সুশিক্ষা গ্রহণ করে জাতিকে উজ্জীবিত ও বিকশিত করতে চায়। তারুণ্যের শক্তিকে যথাযথ কাজে লাগানো ও সঠিক পথে পরিচালনার জন্য রাষ্ট্র ও আদর্শ সমাজ পতিদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। দেশ জাতি ও মানবতার কল্যাণে দীপ্ত শপথে তারা এগুতে চায়। গুণি মানুষের আলোকিত দিকগুলি তারা গ্রহণ করবে সে সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে যেন অন্ধকার দিকগুলি নবীন প্রজন্ম গ্রাস না করে। আলোকিত মানুষের মনের ঐশ্বর্য ও সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মহৎ ও জ্ঞানী মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অবহেলা ও উপেক্ষিত না করে সমাজ পরিচালনার সুযোগ করে দিতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় যুবসমাজ আক্রান্ত। অর্থবিত্ত অর্জনের লোভে তাড়িত হয়ে তারা সমাজে বিশৃঙ্খলায় অংশ নিচ্ছে। মাদক ব্যবসায়, টেন্ডার ব্যবসায়, রাস্তায় চাদাবাজি, অফিস আদালতে চাদাবাজি, এ নিয়ে সংঘাত ও অপমৃত্যু ঘটছে । এভাবে তরুণদের সুখী সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হচ্ছে। তাই রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ বদলাতে হবে। অর্থবিত্ত অর্জনের লোভে তাড়িত না হয়ে অসহায় দুখী মানুষের কল্যাণে আত্ম নিবেদনের শিক্ষা নবীন প্রজন্মে মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে। ভোগবাদি ব্যক্তি স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে জলকল্যাণে প্রগতিশীল চেতনায় উজ্জীবিত হতে হবে। দেশের যুব সম্প্রদায় তরুণ ও কিশোর জীবনেই বিভিন্ন রাজনৈতিক মতবাদ ও আদর্শের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়ে। নতুন নতুন ভাবাদর্শ রূপায়ণে তরুণদের ঝোঁক প্রবণতা দেখা যায়। সুন্দর স্বপ্নময় ও সমৃদ্ধ জীবন তাদের কাম্য হলেও সমাজ ব্যবস্থায় তার ভিন্নতা দেখা যায়। সমাজের অস্থিরতা ও নীতিহীনতার কারণে তারুণ্যের উচ্ছাস, উদ্দীপনা, সাহসিকতা, বিপথে পরিচালিত হচ্ছে। জীবনের যা কিছু সৃষ্টির প্রয়াস ও সুন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যেগ তা ব্যাহত হয়। প্রত্যয়ী যুবক জাতীর প্রাণ শক্তি না হয়ে জাতির উৎকন্ঠা ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠে। তাই সমাজ ব্যবস্থার সকল ক্ষেত্রেই নৈতিক জীবন পথের চর্চা থাকতে হবে। অনৈতিক ও দূনীর্তি নির্ভর জীবন ব্যবস্থা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করা এবং পরিশ্রম করে হালাল রোজগারের মাধ্যমে জীবন জীবিকা নির্বাহে অঙ্গিকারাবদ্ধ হতে হবে। সমাজের নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিদের আচার-আচরণ ও অনৈতিক অভ্যাসগুলি বদলাতে হবে। ন্যায় নীতি, সুবিচার ও শান্তি পূর্ণ গতিশীল সমাজ গঠনের দৃষ্টান্ত তৈরী করতে হবে। সমাজের শৃঙ্খলার অভাব, নীতিবোধ ও মূল্যবোধের অবক্ষয়, দলাদলি, হানাহানি পরিহার করে, সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। সৎকর্ম, ধৈর্যশীলতা ও অধ্যবসায় অনুশীলন করে মহৎ জীবন গঠনের দৃষ্টান্ত রাখতে হবে। অর্থ সম্পদ অর্জনের প্রতি সীমাহীন লোভ লালসা ত্যাগ করে দুনীর্তি মুক্ত জীবন গঠনে নিজেকে তৈরী করতে হবে। জীবনের সফলতা মানে অনেক অর্থ উর্পাজন নয়, জীবনে সততা ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধমে জীবনকে উন্নত ও মহিমান্বিত করা সম্ভব। সত্যকে ধারণ করতে পারলে আদর্শ মানুষ হওয়া সম্ভব। সততাই সর্বোত্তম পন্থা। সততা একটি মহৎ গুন। ভালো মানুষ হতে হবে। আর ভালো মানুষ মানেই সৎ মানুষ। জীবনের প্রতিটি কাজেই সততার সঙ্গে চলতে হবে এবং কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে সততা ও সহনশীলতা ধারণ করতে হবে। নীতিহীন অপরাধপ্রবণ জীবনযাপন সমাজব্যবস্থাকে অন্ধকার করে তোলে। অন্যায় পথে উর্পাজনে কোন সুখ থাকে না। সমাজের মানুষ ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকায়। কোন এক সময় অসম্মান ও শাস্তি পেতে হয়। অন্যায়কারীর সঙ্গে মানুষের ভয়ভীতি সম্পর্ক সৃষ্টি হয়, আত্তিক সম্পর্ক থাকে না। সৎ মানুষগুলি অন্যকে মোহিত করে। সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ হৃদয় দিয়ে তাদের ভালোবাসে। তাদের ত্যাগ ও আদর্শ ভিত্তিক জীবন নতুন প্রজন্মের দিশারী হয়ে উঠে। নবীন প্রজন্মকে রাজনৈতিক অস্থিরতার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা চলবে না। তাদের সৎ জীবন যাপনের নির্দেশনা দিয়ে উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে। দুনীর্তিমুক্ত আদর্শ পরিবার গঠনের শিক্ষা নতুন প্রজন্মের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে। কারো প্ররোচনায় তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করা যাবে না। কেননা নবীন বয়সেই ভবিষ্যত জীবনের লক্ষে পৌছার সিড়ি হিসেবে কাজ করে। এ সময়ের সফলতা ও ব্যর্থতা জীবনের বাকি সময়ের সফলতা ও ব্যর্থতার প্রতিফলন ঘটে। তাদের মূল্যবান সময় শিক্ষা গ্রহণ ও মেধা বিকাশের জন্য উত্তম পরিবেশ দরকার । অভিভাবক, শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মী সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে আদর্শ ভিত্তিক পরিবার গঠন করার নির্দেশনা দিয়ে নতুন আলোকিত সমাজ গঠনে এগুতে হবে। আদর্শিক জীবন বোধ সৃষ্টি করে প্রতিটি পরিবার আদর্শ পরিবার হিসেবে সমাজকে আলোকিত করবে। পরিবারে পিতা মাতা ও বড়দের শ্রদ্ধা ভক্তি করা, ছোটদের ¯েœহ মমতা দিয়ে নিষ্কুলুষ জীবন গঠনের পথ সৃষ্টি করতে হবে।

নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে যুব সমাজ গড়ে উঠবে। তাদের সৃজনশীল প্রতিভা পরিবার ও সমাজের কাজে লাগিয়ে একটি শোষণ মুক্ত বৈষম্যহীন সুন্দুর দেশ গড়ে উঠবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে সুশীল নাগরিক হওয়ার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলতে হবে। সেবামুখী ও মানব কল্যাণমুখী মনোভাব সৃষ্টির জন্য সততা সহনশীলতা ও শ্রদ্ধা বোধ সম্পন্ন মানবিক গুনাবলি অর্জন করতে হবে।

পরস্ত্রীকাতর, বিদ্বেষ ও সংকীর্ণতা পরিহার করতে হবে। নৈতিক মূল্যবোধ ও সৎ কাজের অনুশীলনের মাধ্যমে মন থেকে অসৎ চিন্তা দূর করতে হবে। সততা, সৎ সংঘ উত্তম পরিবেশ তৈরী করতে হবে। দুনীর্তি মুক্ত জীবন গঠনে সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। সহজ সরল সুন্দরতম আচরণে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে হবে। দেশ প্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ভবিষ্যত জীবন গড়ে তোলার প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে। তরুণরা নৈতিক ও আদর্শিক মূল্যেবোধ লালন করে উন্নত ও মানবিক গুনাবলি ও দৃঢ় মনোবল সৃষ্টি করে দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ব বোধ সম্পন্ন নাগরিক হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে। স্বচ্ছ জীবন যাপন ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি প্রগতিশীল জাতি গঠনের ভূমিকায় আত্মনিয়োগ করবে । সমাজের সকল ক্ষেত্রের পিছিয়ে পড়া অসহায় গরিব দুখী মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করে উন্নত জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে। নীচতা হীনতা বিপদগামিতা থেকে সরে এসে মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক জীবন গঠনে এগুতে হবে। নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশপ্রেম ও সচেতন জীবনবোধ সৃষ্টির জন্য নতুন প্রজন্ম শতবছরের জ্ঞানীগুণী মানুষের গল্প শুনবে, জানবে এবং শক্তি অর্জন করবে। তাদের অর্জিত জ্ঞান পরবর্তী নাগরিক জীবনে উন্নত সমাজ গঠনে প্রতিফলিত হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow