সর্বশেষ সংবাদ

বাবা ভান্ডারী, বাঁশের ওপর চালায় রেলগাড়ি

ফকীর শাহ < এশিয়ানবার্তা ডেস্ক> “ স্কুল খুইলাছে ভান্ডারী / স্কুল খুইলাছে” আশির দশকের একটি সুপার-ডুপার হিট গান। চট্টগ্রামের ভন্ডপীর মাইজভান্ডারীর নাপাক দরবারে নারী পুরুষ সমন্বয়ে এসব যৌন উত্তেজক অঙ্গভঙ্গিতে এসব গান পরিবেশনের মাধ্যমে মুরিদানদের কামভাব চরিতার্থ করা হত। মাইজ ভান্ডারীর নাপাক দরবারের এসব ভান্ডরী গান হয়তো অনেকেরই মনে আছে। সেই সময়কার আরেকটি জনপ্রিয় গান ছিল এরকম, “ বাবা ভান্ডারী / লাইন ছাড়া চলে না রেলগাড়ি “

এখন যে লাইন ছাড়াও রেল গাড়ি চলে, সেটা নিয়ে লিখতে বসেই এই গানটির কথা মনে পড়লো।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ”রডের বিকল্প বাঁশ” কনসেপ্ট এখন সারাবিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়।সেই কনসেপ্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ রেলওয়ে বাঁশের ওপর দিয়ে রেলগাড়ি চালিয়ে গোটা বিশ্বকে অবাক করে দিচ্ছে।

অপনি বিশ্বাস করিুন আর না করুন,ইস্পাতের রেললাইনে এখন বাঁশ ব্যবহার করে দিব্বি তার ওপর দিয়ে রেলগাড়ি চালানো হচ্ছে।

সেদিন উপবন একপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে খালে পড়ে গিয়ে যে ৭জন মানুষ মারা গেলো এবং ২শ জন মানুষ আহত হলো সেই রেলসেতুটিতেও বাঁশের ব্যবহার হয়েছে।

শুধু সেই এক রেলসেতু্ে বাঁশ ব্যবহার করা হয়নি। সারাদেশে এরকম শতশত রেলওয়েতে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে।

সিলেটের কুলাউড়ার স্থানীয় যুবক আবুল কালাম জানান, শ্রীমঙ্গল থেকে কমলগঞ্জ পর্যন্ত অন্তত ২০টি ব্রিজ আছে যার অর্ধেকের বেশি সেতু বাঁশ দিয়ে মেরামত করা।

এজন্য মানুষ মরবে না বাঁচবে সেটা পরের কথা। বাংলাদেশ রেলওয়ে মনে করে ট্রেন দূঘটনায় আর কত মানুষ মরবে ? মানুষ মরলে পরে জনপ্রতি ২০ টাকা করে দিলেই তো ঝামেলা শেষ ।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য রেলের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

অতিরিক্ত সচিব মজিবুর রহমান জানান, কুলাউড়ার ঘটনায় ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের রিপোর্ট পেয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনের ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের কারণে বারবার ঘটছে দুর্ঘটনা। কিন্তু নজরে আসছে না কর্তৃপক্ষের। এরই মধ্যে গত রোববারের রেল দুর্ঘটনায় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে এই রেললাইন।

বিভিন্ন সময় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই রেল কর্তৃপক্ষের। দেশের নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার শীর্ষস্থানে রেলপথ থাকলেও আখাউড়া-সিলেট রেলপথের প্রতিটি স্লিপারে সাজানো রয়েছে মৃত্যুফাঁদ।

লক্কড়-ঝক্কড় রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে স্লিপারে নেই নাট-বল্টু। এমনকি বাঁশ দিয়ে মেরামত করা হয়েছে রেলসেতু।

সরজমিনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল স্টেশনের ১ কিলোমিটার দূরে আউট সিগনাল এলাকায় খালের উপর একটি ব্রিজে গিয়ে দেখা যায়, ওই ব্রিজের ৮টি স্লিপারে যেখানে ৬৪টি নাট থাকার কথা সেখানে এই ব্রিজে নাট আছে ৩৫টা। এর পাশেই দুটি পাতের সংযোগস্থলে একটিতে নেই নাট-বল্টু। অন্য দুটি যেন খুলে না যায় তাই আটকানো আছে দড়ি দিয়ে।

অপরদিকে এই ব্রিজের পাশে একটানা ৩০টি স্লিপারের কোনোটাতেই নাট-বল্টু নেই। প্রতিটি স্লিপারের দুইপাশে দুটি করে পেরেক মেরে রাখা হয়েছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এই এলাকায়।

রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথে পারাবত, জয়ন্তীকা, পাহাড়িকা, উদয়ন, উপবন ও কালনী এক্সপ্রেস নামের ৬টি আন্তঃনগর ট্রেন প্রতিদিন দুইবার করে ১২ বার আসা-যাওয়া করে। আর এই পথে প্রতিদিন আসা-যাওয়া করেন অন্তত ২৫/৩০ হাজার যাত্রী।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow